logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬

মসজিদে নারীদের নামাজ পড়ার শুনানিতে রাজি ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
|  ১৬ এপ্রিল ২০১৯, ১৫:৪৬ | আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০১৯, ১৫:৪৮
ছবি: সংগৃহীত
আদালতের রায়ে ঋতুমতী নারীরা শবরীমালা মন্দিরে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছে। এবার মসজিদে নারীদের নামাজ পড়া নিয়ে শুনানি করতে রাজি হয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় সরকার, কেন্দ্রীয় ওয়াকফ কাউন্সিল এবং অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডকে নোটিশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। খবর আনন্দবাজারের।

মসজিদে নারীদের নামাজ পড়ার অনুমতি চেয়ে সম্প্রতি আদালতে আবেদন করেন পুনের বাসিন্দা ইয়াসমিন জুবের আহমেদ পীরজাদে ও তার স্বামী জুবের আহমেদ নাজির পীরজাদে। শবরীমালা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে অনুপ্রাণিত হয়েই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে জানান তারা।

ওই দম্পতির কথায়, ইসলামের প্রবর্তক হযরত মুহাম্মদ (সা.) নারীদের মসজিদে প্রবেশ এবং নামাজ পড়া নিষিদ্ধ করেননি। কুরআনেও পুরুষ এবং নারীর মধ্যে কোনও পার্থক্য করা হয়নি। সেখানে শুধু অনুগতদের কথা বলা রয়েছে। তা সত্ত্বেও ইসলাম ধর্মে নারীরা নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন।

মসজিদে নারীদের নামাজ পড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞাকে অসাংবিধানিক এবং নারীদের মর্যাদা বিরোধী বলেও উল্লেখ করেন ওই দম্পতি। দেশের সংবিধানে ১৪, ১৫, ২১ এবং ২৫ ধারায় মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু ইসলামের এই প্রথায় সংবিধান লঙ্ঘিত হয়েছে বলে আবেদনে জানান তারা।

সেই সঙ্গে তারা আরও বলেন যে, জামাত-ই-ইসলাম এবং মুজাহিদ পরিচালিত মসজিদে বেশ কিছু নারীকে নামাজ পড়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে। কিন্তু সুন্নি মসজিদগুলোতে এখনও নারীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। আবার যে মসজিদগুলোতে নামাজ পড়ার অনুমতি পেয়েছেন নারীরা, সেখানে তাদের জন্য আলাদা প্রবেশ পথ রাখা হয়েছে। নামাজ পড়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে আলাদা ঘর। এই ধরনের লিঙ্গ বৈষম্য রুখতে এবং মসজিদে নারীদের অবাধ প্রবেশ চেয়ে তাই আদালতের হস্তক্ষেপ দাবি করেন জুবের আহমেদ পীরজাদে এবং জুবের আহমেদ নাজির আহমেদ পীরজাদে।

মঙ্গলবার বিচারপতি এসএ বোবডে এবং এস আব্দুল নাজিরের ডিভিশন বেঞ্চে তাদের আবেদনটি ওঠে। সেখানে বিচারপতিরা জানান, সংবিধানের ১৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী, আইনি সমানাধিকার থেকে রাষ্ট্র কাউকে বঞ্চিত করতে পারে না। কিন্তু মন্দির, মসজিদকে কি রাষ্ট্রের সঙ্গে তুলনা করা চলে? আবেদনকারীদের আইনজীবী আশুতোষ দুবে সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে শবরীমালা রায়ের কথা মাথায় রেখে মসজিদে মহিলাদের প্রবেশ নিয়ে শুনানি করতে রাজি হন বিচারপতিরা। ডিভিশন বেঞ্চের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়, শবরীমালা রায়ের জেরেই এই মামলার শুনানি করছি আমরা। দেখা যাক কী হয়।

এর আগে ঋতুমতী নারীদের কেরালার শবরীমালা মন্দিরে প্রবেশের অনুমতি দিয়ে যুগান্তকারী রায় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। তখন আদালতের যুক্তি ছিল, ধর্মের নামে নারীদের পূজা-অর্চনার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যায় না।

এ/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়