Mir cement
logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৬ মে ২০২১, ২৩ বৈশাখ ১৪২৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন

  ২৩ নভেম্বর ২০১৮, ১৮:১৮
আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০১৮, ১৯:৫৭

তুরস্কে বাড়ছে অন্তঃসত্ত্বা শিশুর সংখ্যা

ছবি: ডয়চে ভেলে

তুরস্কের বিভিন্ন হাসপাতালে গত দেড় বছরে ২২ হাজার অন্তঃসত্ত্বা শিশু ভর্তি হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্সি ডিরেক্টরেট অফ কমিউনিকেশন। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায় ডয়চে ভেলে।

ডিরেক্টরেট জানায়, ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের জুন মাস পর্যন্ত বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অন্তঃসত্ত্বা শিশুর সংখ্যা ২১,৯৫৭।

দেশটির প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির আইনপ্রণেতা ও চিকিৎসক আলী সেকের ডিরেক্টরেটের কাছে এই বিষয়ে তথ্য জানতে চেয়েছিলেন।

পরে তিনি এই বিষয়ে বলেন, এই তথ্যে এটাই প্রমাণিত হয়, প্রতিদিন তুরস্কে ৪০ জনেরও বেশি শিশুকে গর্ভধারণে বাধ্য করা হচ্ছে। তারা নিজেরাই শিশু এবং তাদের এখন স্কুলে যাওয়ার বয়স।

এই বছরের শুরুতেও পার্লামেন্টে এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। দুটি হাসপাতালে নিবন্ধন ছাড়াই অন্তঃসত্ত্বা শিশুদের ভর্তি করার সংবাদ তখন গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়। ১১৫ অন্তঃসত্ত্বা শিশুর মধ্যে ৩৮ জনের বয়স ছিল ১৫ বছরের কম।

এর ভিত্তিতে সেকের এক লিখিত প্রশ্নে জানতে চান, স্বাস্থ্যকর্মীরা কেন এই বিষয়ে পুলিশকে জানায়নি। তবে তথ্য জানতে চেয়ে করা তার এই প্রশ্নের কোনও উত্তর দেয়নি পার্লামেন্ট।

আঙ্কারা বার অ্যাসোসিয়েশনের সেন্টার ফর চিলড্রেনস রাইটসের ভাইস প্রেসিডেন্ট এমরাহ সাহিনের প্রশ্ন, ২১,৯৫৭টি ঘটনা কি পুলিশকে জানানো হয়েছে? তুরস্কের পেনাল কোডের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, অপ্রাপ্তবয়স্ক গর্ভধারণের তথ্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানাতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বাধ্য।

পুলিশকে সব ঘটনা না জানানোয় এই ধরনের ঘটনা আসলে কী পরিমাণ ঘটেছে, তা জানাও কষ্টসাধ্য বলে মনে করেন সাহিন। তিনি বলেন, এই সংখ্যা কেবল নিবন্ধিতদের। অনিবন্ধিত গর্ভধারণের তো কোনও হিসেব নেই। আসল সংখ্যা ৪০ থেকে ৪৫ হাজারের মধ্যে হবে বলেও আশঙ্কা তার।

তুরস্কের বিচার বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্যে এই ১৮ মাসে শিশু গর্ভধারণ ও শিশু যৌন নির্যাতনে দায়ের মামলার হিসেবে কিছুটা গরমিল দেখা দিয়েছে।

আট কোটি মানুষের দেশটিতে ২০১৭ সালে শিশু যৌন নির্যাতনের মামলা হয়েছে ৩৫ হাজার ৮৯৬টি। ফলে শিশু গর্ভধারণের ঘটনাগুলোর কয়টা আসলেই পুলিশকে জানানো হয়েছে, এনিয়ে প্রশ্ন থাকছেই।

জাতীয় পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে ১৫ বছরের কম বয়সী মেয়ের সন্তান জন্মদানের ঘটনা ঘটেছে ২৩৪টি। ১৫ থেকে ১৭ বছরের মেয়ের ক্ষেত্রে এ সংখ্যা ১৬,৩৯৬টি।

যৌন অপরাধ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে বেসরকারি সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন ফর স্ট্রাগল অ্যাগেইনস্ট সেক্সুয়াল ভায়োলেন্স। সংস্থার সদস্য হিলাল এসমার বলেন, শুধু সংখ্যা নয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং আইনি দৃষ্টিভঙ্গি থেকেও এইসব ঘটনার বিশ্লেষণ দরকার।

তিনি বলেন, আমরা যদি শিশু গর্ভধারণের সংখ্যা কমাতে চাই, তাহলে আমাদের আগে শিশুদের তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। সবাইকে বুঝতে হবে, শিশুরা তাদের বাবা-মায়ের সম্পত্তি নয়।

উল্লেখ্য, তুরস্কে যৌন সম্পর্কে সম্মতির বয়স ১৮। ১৭ বছর বা তার কম বয়সের কেউ সম্মতি দিলেও আইন অনুযায়ী তা ধর্ষণ বলে গণ্য হবে। দেশটিতে বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ হলেও ১৭ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে বাবা-মা বা অভিভাবকের সম্মতিতে অনানুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করতে পারেন।

আরও পড়ুন :

কে/পি

RTV Drama
RTVPLUS