logo
  • ঢাকা সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ২৯ চৈত্র ১৪২৭

১০ বছরে সান ফ্রান্সিসকোর মিলেনিয়াম টাওয়ার ১৭ ইঞ্চি দেবে গেছে

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান ফ্রান্সিসকোর ৫৮ তলা মিলেনিয়াম টাওয়ার এখনও দেবে যাচ্ছে ও হেলে পড়ছে। ২০০৮ সালে বানানোর পর এখন পর্যন্ত এই বিলাসবহুল টাওয়ারটি ১৭ ইঞ্চি দেবে গেছে। আর হেলে পড়েছে ১৪ ইঞ্চি। তবে গেলো সপ্তাহে টাওয়ারের বাসিন্দাদের জন্য খুশির খবরটি সামনে এসেছে। ইঞ্জিনিয়ারদের বরাত দিয়ে দ্য সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকল জানিয়েছে, ভবনটির এই দেবে যাওয়া ও হেলে পড়া ঠেকানো সম্ভব। খবর বিজনেস ইনসাইডারের।

ইঞ্জিনিয়াররা প্রস্তাব দিয়েছে শত শত স্টিল ও কংক্রিটের ‘মাইক্রো পাইলস’ বা পিলারের মতো এক ধরনের ফাউন্ডেশন ব্যবহার করে এই হেলে পড়া ও দেবে যাওয়া ঠেকানো যাবে। তবে এটি করতে খরচ হবে ২০ থেকে ৫০ কোটি ডলার, ১০ বছর আগে টাওয়ারটি বানাতে খরচ ৩৫ কোটি ডলারের চেয়েও বেশি।

২০১৭ সালে নগর কর্তৃপক্ষ মিলেনিয়াম টাওয়ার পরিদর্শন শেষে জানায় যে, ভবনটি বসবাসের জন্য নিরাপদ। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভবনটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন সেখানকার বাসিন্দারা। তবে তাদের অভিযোগ যে, কেনা দামের চেয়ে কম দামে তাদের অ্যাপার্টমেন্টগুলো বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে প্রায় ১০০টি কন্ডোর প্রতিটির দাম গড়ে ৩ লাখ ২০ হাজার ডলার করে কম দামে বিক্রি হচ্ছে।

সান ফ্রান্সিসকোর চতুর্থ সুউচ্চ ভবন মিলেনিয়াম টাওয়ারে ৪০০-র ওপরে কন্ডো রয়েছে। ৬৪৫ ফুট উচ্চতার ভবনটির বাসিন্দাদের সান ফ্রান্সিসকো বে এলাকার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখার সুযোগ রয়েছে।

মিলেনিয়াম টাওয়ারে সুইমিং পুল, ফিটনেস সেন্টার, ওয়াইনের মজুদঘর, টেস্টিং রুম, মুভি থিয়েটার এবং প্রহরী সেবাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।

দ্য সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকল জানাচ্ছে, মিলেনিয়াম টাওয়ার চালু হওয়ার প্রথম পাঁচ সপ্তাহে ১০ কোটি ডলারের কন্ডো বিক্রি হয়। এক একটি ইউনিট ১৬ লাখ থেকে এক কোটি ডলার পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে।

--------------------------------------------------------

আরও পড়ুন : যৌন কেলেঙ্কারিতে চিলির সব বিশপের পদত্যাগ

--------------------------------------------------------

পথচারীরা মিলেনিয়াম টাওয়ারের সামনে ফাটল দেখছেন

মিলেনিয়াম টাওয়ারের বিখ্যাত বাসিন্দাদের মধ্যে রয়েছে সান ফ্রান্সিসকো ফুটবল দলের সাবেক কোয়ার্টারব্যাক জো মন্টানা এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট ও সিলিকন ভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা টম পারকিনস।

তবে ২০১৫ সালে টাওয়ারটি দেবে যাওয়া ও হেলে পড়ার খবর প্রকাশের পর বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। চলতি বছর পর্যন্ত টাওয়ারটি ১৭ ইঞ্চি দেবে গেছে এবং পশ্চিম দিকে ১৪ ইঞ্চি ও উত্তর দিকে ছয় ইঞ্চি হেলে পড়েছে।

মিলেনিয়াম টাওয়ারের রিয়েল-এস্টেট ডেভলপার্স প্রতিষ্ঠান মিলেনিয়াম পার্টনারস দাবি করেছে, নির্মাণাধীন ট্রান্সবে ট্রানজিট সেন্টার বা সেলসফোর্স ট্রানজিট সেন্টারের কারণে এই দেবে যাওয়া ও হেলে পড়ার ঘটনা ঘটছে। মিলেনিয়াম টাওয়ারের একেবারে কাছেই এই ট্রান্সবে ট্রানজিট সেন্টারের নির্মাণ কাজ ২০১০ সাল থেকে শুরু হয়।

২৩০ কোটি ডলার ব্যয়ে এই বাস টার্মিনালটি বানাচ্ছে ট্রান্স বে জয়েন্ট পাওয়ার্স অথরিটি। তবে এই বাস টার্মিনালে ট্রেন টানেলের জন্য একটি ৬০ ফুট গর্ত এবং দেয়াল ঠেস দেয়ার জন্য আন্ডারগ্রাউন্ড বাট্রেস বানানো হচ্ছে।

মিলেনিয়াম পার্টনারসের একজন প্রতিষ্ঠাতা অংশীদার বলেছেন, নতুন টার্মিনালের জন্য মাটির নিচ থেকে অতিমাত্রায় পানি পাম্প করা হচ্ছে যা মিলেনিয়াম টাওয়ার দেবে যাওয়া ও হেলে পড়ার ‘একমাত্র ইস্যু’।

নিরাপদ কর্ম পরিবেশ ও মাটি ক্ষয়রোধ একটি কনস্ট্রাকশন সাইটে মাটির নিচ থেকে বা উপর থেকে পানি সরিয়ে ফেলা হয়।

মিলেনিয়াম পার্টনারসের প্রতিষ্ঠাতা অংশীদার ক্রিস জেফরিস বলেছেন, যখন মিলেনিয়াম টাওয়ারের নিচে পানির স্তর নেমে যায় তখন বালু সংকুচিত হয়ে ভবনটির গাঁথুনি মজবুত হয়।

টার্মিনালের খননকাজের কারণে মিলেনিয়াম টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হবে কিনা এমন বিষয় খুঁজে বের করতে ট্রান্সবে জয়েন্ট পাওয়ার্স অথরিটি একজন পরামর্শক নিয়োগ দেয়ার পর এটি সামনে আসে ২০১০ সালে। এর পাঁচ বছর পর ভাড়াটিয়াদের এই বিষয়টি জানানো হয়।

তবে ট্রান্সবে জয়েন্ট পাওয়ার্স অথরিটির অভিযোগ, মাটির নিচে কাজ শুরু করার দুই বছর আগেই মিলেনিয়াম টাওয়ার হেলে পড়তে শুরু করে।

মিলেনিয়াম টাওয়ারে সুইমিং পুল

সমালোচকদের অভিযোগ সান ফ্রান্সিসকো সিটির কর্মকর্তারা মিলেনিয়াম পার্টনারসদের ছাড় দিয়েছে। যেখানে কোনো একটি ভবন বেডরকের ২০০ ফুট নিচে গাঁথুনি দিতে হয় সেখানে মিলেনিয়াম পার্টনারসকে বালুর ৮০ ফুট নিচে গাঁথুনি দেয়।

তবে বেডরকের পরিবর্তে বালুর ওপর ভবন নির্মাণের এই শৈলী অবশ্য সান ফ্রান্সিসকো শহরে নতুন নয়। শহরের এমবারকাদেরো সেন্টার এবং সান ফ্রান্সিসকো মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্ট ভবনও একই পদ্ধতি তৈরি করা হয়েছে।

কিন্তু আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে, বিজ্ঞানীরা কয়েক বছর ধরেই সতর্ক করে দিয়ে বলছেন যে বে এলাকায় ভয়াবহ ভূমিকম্প হতে পারে। সেক্ষেত্রে বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে মিলেনিয়াম টাওয়ারের নিচে বালু ও পলির সমন্বয় তরলের মতো আচরণ করতে পারে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপের তথ্য মতে, সিসমিক সক্রিয়তার সময় পলিতে পানির চাপ বৃদ্ধি পায় এবং বালির কণাগুলো একে অপর থেকে আলাদা হয়ে যায়। ফলে কোনো ভারি ভবনের নিচ থেকে অধিক পরিমাণে মাটি বেরিয়ে আসতে পারে।

তবে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় ভবন বেডরকে বানানো উচিত। যেমন মিলেনিয়াম টাওয়ারের প্রতিবেশী ১১০ কোটি ডলারের সেলসফোর্স টাওয়ার ও ১৮১ ফ্রেমন্টে সুউচ্চ বিলাসবহুল ভবন বেডরকে বানানো হচ্ছে।

২০১৭ সালের জানুয়ারিতে সান ফ্রান্সিসকো শহরের ভবন পরিদর্শন বিভাগ জানিয়েছে যে, এই টাওয়ারটি বসবাসের জন্য নিরাপদ। কর্তৃপক্ষ তাদের প্রতিবেদনে জানায়, তারা তাদের পরিদর্শনে জীবন-হুমকির মতো কোনো প্রমাণ পায়নি।

২০১৬ সালে স্যাটেলাইট থেকে মিলেনিয়াম টাওয়ারের যে ছবি নেয়া হয়, সেটা নির্দেশ করে যে এটি প্রতিবছর ২ ইঞ্চি করে দেবে যাচ্ছে। যা ইঞ্জিনিয়ারের হিসাবের চেয়ে দ্বিগুণ।

ইউরোপিয়ান স্পেশ অ্যাজেন্সি সেন্টিনেল-১ স্যাটেলাইটের ছবিতে দেখা গেছে, মিলেনিয়াম টাওয়ার প্রতি বছর ৪০ মিলিমিটার করে দেবে যাচ্ছে।

বিল্ডিংস হোমওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কমিশন করা এক রিপোর্ট মতে, কিছু ইউনিটের দেয়ালে ফাঁক লক্ষ্য করা গেছে যা আগুনের ঝুঁকিরোধে সাহায্য করবে।

নির্মাণাধীন ট্রান্সবে ট্রানজিট সেন্টার

এদিকে বিল্ডিংস হোমওনার্স অ্যাসোসিয়েশন মিলেনিয়াম পার্টনারস এবং ট্রান্সবে ট্রানজিট সেন্টার ডেপলপার্সের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা দায়ের করেছে।

টাওয়ারের বাসিন্দারা এখন বলছেন, তারা ‘প্রায় মূল্যহীন কন্ডো নিয়ে আটকে’ আছেন। মন্টানা ও তার স্ত্রী তাদের কন্ডোকে ‘বাসযোগ্যহীন’ উল্লেখ করে জমা ২৭ লাখ ডলার ও ১০ লাখ ডলার ‘অনুবর্তী ক্ষতিপূরণ’ দাবি করছেন।

আরও পড়ুন :

এ/এমকে

RTV Drama
RTVPLUS