logo
  • ঢাকা শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

‘শুধু রক্ত বন্ধ করে মরার জন্য ছেড়ে দিচ্ছি’

সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ আট বছরে পদার্পণ করেছে। সিরিয়ান বাহিনি বিদ্রোহীদের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি পূর্বঘৌটা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে স্থল ও বিমান হামলা চালাচ্ছে। এরমধ্যে জাতিসংঘসহ পশ্চিমা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ অভিযোগ করে আসছে যে বিদ্রোহীদের ওপর রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করছে সিরিয়ান সরকার।

সিরিয়া গৃহযুদ্ধের আট বছর পূর্তিতে বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, বিরোধীদের দমন নিপীড়ন চালাতে নারী ও মেয়েদের ধর্ষণ, পুরুষদের বলাৎকার, যৌন নির্যাতনের মতো অস্ত্র বেছে নিয়েছে সিরিয়ার সরকারি বাহিনি এবং তাদের মিত্র মিলিশিয়ারা।

সংস্থাটি বলছে, বিদ্রোহীরাও যৌন সহিংসতা ও নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে। তবে সেটির মাত্রা ‘তুলনামূলকভাবে কম’।

পূর্বঘৌটার বাসিন্দা ৫০ বছর বয়সী ডা. হামিদ তার পরিবারসহ এক রুমের মধ্যে ঠাসাঠাসি করে বাস করেন। এক মাস আগে তার পুরো বাড়ি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর ওই রুমই এখন তাদের নতুন আবাস।

কিন্তু ট্রমার ডাক্তার হামিদকে সপ্তাহের তিনদিনই হাসপাতালে কাটাতে হয়। বোমা হামলার পরিমাণ বেড়ে গেলে কোনো ধরনের বিরতি ছাড়া তাকে ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। তাই আহতদের শিশুদের চিকিৎসার সময় হামিদের চোখে নিজের সন্তানদের চেহারা ভেসে ওঠে।

সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে এখন পর্যন্ত চার লাখের বেশি লোক নিহত বা নিখোঁজ হয়েছে। তবে হতাহতের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু।

ডা. হামিদ বলেন, বেশিরভাগ শিশুই মাথা কিংবা তলপেট বা পাকস্থলী আঘাত নিয়ে আমাদের এখানে আসেন। আমি অনেককে দেখেছি তাদের ক্ষত হৃদপিণ্ড পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। এসব শিশুদের জন্য বিশেষজ্ঞ সার্জন দরকার। আর ৭ বা ১৪ দিন নিবিড় পরিচর্যায় রাখা প্রয়োজন। অনেককেই বাঁচানো যেত। যদি তারা লন্ডনে থাকত, তাহলে তাদের বাঁচানো যেত। কিন্তু ঘৌটায় বসে আমাদের কিছুই করার নেই। আমরা কেবল তাদের রক্ত পড়া বন্ধ করি। তারপর তাদের মরার জন্য ছেড়ে দেই।

এদিকে হতাহতদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন সেখানকার ডাক্তাররা। চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে একই সুচ আর ব্যান্ডেজ দিয়েই কাজ চালাতে হচ্ছে তাদের।

শরীরে কয়েকটি আঘাত ও একটি হাত এবং একটি পা ছাড়া পাঁচ বছরের এক শিশু ডা. হামিদের হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছে। এটাই তার ভবিষ্যৎ। কিন্তু ওই ছেলেটি বেঁচে আছে, এটাই তার সাফল্য, বলছিলেন ডা. হামিদ।

এ/পি

RTVPLUS