Mir cement
logo
  • ঢাকা রোববার, ০৯ মে ২০২১, ২৬ বৈশাখ ১৪২৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন

  ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৩:৫২
আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৪:০৯

কিছু মুসলিম বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে শুনে উদ্বিগ্ন সু চি!

রোহিঙ্গা মুসলমানরা কেন চলে যাচ্ছে সেটি খুঁজে বের করার জন্য তাদের সঙ্গে কথা বলতে চান মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি। মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে এমনটা বললেন তিনি।

রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার জন্য যারা দায়ী তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গেলো ২৫ আগস্ট নতুন করে রোহিঙ্গা সংকট শুরুর পর জাতির উদ্দেশে এটাই ছিল সু চি'র প্রথম ভাষণ। সেই ভাষণে সব মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিন্দা জানিয়েছেন সু চি।

ভাষণে মিয়ানমারের এই নেত্রী বলেন, পরিস্থিতি নিয়ে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পর্যবেক্ষণে ভীত নন। রাখাইন অঞ্চলে সংঘাতের নিরসনের জন্য একটি টেকসই সমাধানের ওপর জোর দেন সু চি।

টেলিভিশন ভাষণে তিনি বলেন, ‘বেশ কিছু মুসলিম বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে- এ ধরনের খবর শুনে আমরা উদ্বিগ্ন।’

কয়েকদিন আগে জাতিসংঘের মহাসচিব বিবিসির সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, সেনাবাহিনীর অভিযান বন্ধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ হবে সু চি'র জন্য শেষ সুযোগ।

কিন্তু এ ‘শেষ সুযোগ’ বলতে কী বোঝানো হচ্ছে সেটি ব্যাখ্যা করেননি জাতিসংঘের মহাসচিব।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ওপর অস্ত্র বিক্রিসহ কয়েকটি ক্ষেত্রে অবরোধ আরোপের জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে সু চি'র এ ভাষণে নতুন কিছু আসে কিনা সেদিকে অনেকের নজর ছিল।

বাংলাদেশের নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস কয়েকদিন আগে বিবিসি'র সাক্ষাৎকারে বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের চাবিকাঠি অং সান সু চি'র হাতেই রয়েছে। সেজন্য সু চিকে তার পুরনো ভূমিকায় ফিরে যেতে হবে।

গেলো তিন সপ্তাহে মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চল থেকে পালিয়ে প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে।

এ ভাষণের মাধ্যমে চলমান সংকটের সমাধান আনার জন্যে চাপ সু চি'র ওপর চাপ তৈরি হয়েছিল বিশ্বজুড়ে।

এদিকে, সেনাবাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করে অং সান সু চিকে নিজের নেতৃত্ব প্রমাণের আহ্বান জানিয়েছিল ফ্রান্স ও ব্রিটেন।

আগস্ট মাসের ২৫ তারিখে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু চৌকিতে হামলার পর রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সে হামলার জন্য রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র গ্রুপকে দায়ী করে দেশটির সরকার।

রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী যেভাবে দমন-পীড়ন চালাচ্ছে সেটিকে 'জাতিগত নির্মূলের' সঙ্গে তুলনা করেছে জাতিসংঘ।

জাতিসংঘে চলমান সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেননি সু চি। তিনি বলেছিলেন, অধিবেশনে যোগ না দিয়ে মিয়ানমারে ভাষণ দেবেন।

কয়েকদিন আগে মিয়ানমারের শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা জেনারেল মিন অং হাইং রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হবার জন্য মিয়ানমারের ভেতরে সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন। সেনাবাহিনী মনে করে, রাখাইন অঞ্চলে রোহিঙ্গারা একটি শক্ত ঘাঁটি গড়ে তুলতে চাইছে। যদিও মিয়ানমারে রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার করা হয় না। সেনাবাহিনী এবং সরকার রোহিঙ্গাদের 'বাঙালি' মনে করে।

শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা এ কথাও বলেছিলেন যে রোহিঙ্গারা কখনোই মিয়ানমারের জাতিগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

এপি/সি

RTV Drama
RTVPLUS