Mir cement
logo
  • ঢাকা রোববার, ০৯ মে ২০২১, ২৬ বৈশাখ ১৪২৮

‘দেশে ফিরে যেতে বা অন্য দেশ পেতে সাহায্য কর’

হে বিশ্ববাসী, আমাদের দেশে ফিরে যেতে বা অন্য কোনো দেশ পেতে সাহায্য কর, যেন আমরা বেঁচে থাকতে পারি।

কথাগুলো মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা নূর কাজলের।

নূর কাজল জানায়, সেনারা যখন ঘরের জানালা দিয়ে তার বাবাকে গুলি করে, তখন সে বাবার সঙ্গে ঘরের মধ্যেই ছিল। গুলিটি তার বাবার মাথায় বিদ্ধ হয়। তার বাবা মেঝেতে পড়ে যান। তার মাথা থেকে প্রচুর রক্ত বের হচ্ছিল। সে খুব ভয় পেয়ে যায়। আর কাঁদতে থাকে। বাবাকে ঘরে রেখেই তারা সরে পড়ে। সেনারা তাদের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। অথচ তার বাবা ঘরের ভেতরেই ছিলেন।

কক্সবাজারের কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়া এ রোহিঙ্গা শিশু আরো জানায়, তারা বনের ভেতর দিয়ে পালাতে থাকে। তারা তিনদিন হেঁটে বাংলাদেশে এসে পৌঁছায়। এটা তার জন্য খুবই কঠিন ছিল। তাছাড়া বাবার কথাও খুব মনে পড়ছিল তার। সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে আসতে তাদেরকে অনেকেই সাহায্য করে। তারা ইঞ্জিনচালিত নৌকায় নদী পার হয়। কিন্তু সে কোনো আনন্দ পাইনি। কারণ তখনো বাবার কথা মনে পড়ছিল তার। এখনো খুব মনে পড়ছে।

১০ বছরের শিশুটি আরো জানায়, তার বাবা একজন কাঠুরে ছিলেন। গ্রামের সবাই তার বাবাকে খুব ভালোবাসত। তার বাবা খুব ভালো মানুষ ছিলেন এবং তাকে খুব ভালোবাসতেন। সে তার গ্রামে খুবই ভালো ছিল। সে মাদরাসায় পড়ত। সে কোরআন পড়ত এবং তা মুখস্থ করত। সে তার পরিবারের সঙ্গে থাকত। তাদের পরিবারের সদস্য ছিল সাতজন। তাদের বাড়িটি খুব বড় ছিল না কিন্তু সে সেখানে বেশ সুখেই ছিল।

শুক্রবার আল জাজিরায় প্রকাশিত খবরে এসব কথা বলা হয়েছে।

গত ২৫ আগস্ট সেনা ও পুলিশ চৌকিতে বিদ্রোহীদের হামলার পর রাখাইনে অভিযান চালাচ্ছে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী। এতে নির্বিচারে রোহিঙ্গাদের হত্যা, ধর্ষণ ও ঘর জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে বলে পালিয়ে আসা শরণার্থীরা জানিয়েছেন।

কে/এমকে

RTV Drama
RTVPLUS