Mir cement
logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ২৪ বৈশাখ ১৪২৮

শয়ে শয়ে মরছে মানুষ, র‌্যালিতে মেতেছে বিজেপি

শয়ে শয়ে মরছে মানুষ, র‌্যালিতে মেতেছে বিজেপি
সংগৃহীত ছবি

মহামারি করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে খাবি খাচ্ছে প্রতিবেশি দেশ ভারত। যেখানে করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় সচেষ্ট পুরো বিশ্ব, সেখানে উল্টো চিত্র ভারতের।

প্রতিদিনই দৈনিক সংক্রমণ ও মৃত্যুর রেকর্ড হওয়া ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে বিশাল নির্বাচনী র‌্যালি করেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক দল বিজেপি। সোমবার রাজ্যের সাতটি স্থানীয় নগর সংস্থার নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিন এ র‌্যালি করে দেশটির ক্ষমতাসীন দলটি।

দেশটিতে যখন তিন লাখের বেশি করে করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে এবং প্রতিদিন মৃতের আগের রেকর্ড ভাঙছে- এমন পরিস্থিতিতে একজন মন্ত্রীর নেতৃত্বে হাজার হাজার নেতাকর্মী কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মিছিল করেছেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বলছে, মিছিলে অংশ নেওয়াদের বেশিরভাগই মাস্ক পরেনি এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ স্বাস্থ্যবিধি মানেনি। এর আগে করোনার ঊর্ধ্বগতির মধ্যে পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচনী সভা করে সমালোচনার মুখে পড়েন প্রধানমন্ত্রী মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ বিজেপির নেতারা।

এদিকে, মঙ্গলবার কুম্ভমেলার শেষ শাহি স্নানে হাজার হাজার পুণ্যার্থী অংশ নিয়েছেন। স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে এসব জনজমায়েতের কারণে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে কট্টরপন্থী ক্ষমতাসীন দল বিজেপি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার বিজেপি তেলেঙ্গানা শাখার অ্যাকাউন্ট থেকে টুইটারে বৃহত্তর ওয়ারঙ্গল পৌর করপোরেশনের নির্বাচনী র‌্যালির ছবি প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, হাজারো মানুষ র‌্যালি করছেন, যাদের বেশিরভাগেরই মাস্ক পরা নেই, এমনকি তাদের মধ্যে সামাজিক দূরত্বও নেই। এতে তীব্র সমালোচনার মুখে পরে পোস্টটি সরিয়ে নেয় বিজেপি।

শুধু বিজেপি নয়, রাজ্যের ক্ষমতাসীন তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতি, কংগ্রেসসহ অন্য দলগুলোও স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করে নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছে। ওয়ারঙ্গল পৌর করপোরেশন নির্বাচনের জন্য বিজেপি প্রচারের নেতৃত্বে ছিলেন দলের রাজ্য সভাপতি বন্দী সঞ্জয়।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জি কিশান রেড্ডিও ওয়ারঙ্গল ও খাম্মামে বিশাল জনসভা করেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার পেছনের অন্যতম কারণ গণজমায়েত। দেশটিতে প্রতিদিন যখন হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে, তখন এমন জনসমাবেশ এ পরিস্থিতিকে আরও খারাপ দিকে নিয়ে যাবে।

এর আগে ২২ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন ভারতে নির্বাচনী রোড শো ও র‌্যালির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে। এর পরও বিভিন্ন স্থানে বিধি লঙ্ঘন করে র‌্যালি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তেলেঙ্গানা রাজ্যের নির্বাচন কমিশন সবাইকে নির্দেশনা মেনে প্রচার চালানোর আহ্বান জানায়।

এদিকে, হরিদ্বারের হর কি পৌরি ঘাটের ব্রহ্মকুণ্ডে গঙ্গায় কুম্ভমেলা শেষ হওয়ার তিন দিন আগে মঙ্গলবার শেষ শাহি স্নান অনুষ্ঠিত হয়। এদিন শাহি স্নানে ২৫ হাজার পুণ্যার্থী ও প্রায় দেড় হাজার সাধু-সন্ত অংশ নেন। মেলা কর্তৃপক্ষের দাবি, মোট পুণ্যার্থীর ১ শতাংশ এদিন শাহি স্নানে অংশ নিয়েছেন।

ভারতে দিন দিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। এরই মধ্যে ১২ ও ১৪ এপ্রিল কুম্ভমেলায় অনুষ্ঠিত গঙ্গাস্নানে প্রায় ৫০ লাখ পুণ্যার্থী অংশ নিয়েছিলেন। করোনার বাড়বাড়ন্তের মধ্যে এই মেলা নিয়ে তুমুল সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে প্রতীকী মেলা উদযাপনের আহ্বান জানালে তা মেনে নেন সাধু-সন্তরা। তবে মঙ্গলবারের চিত্র দেখে তেমনটা মনে হয়নি। সূত্র : এনডিটিভি ও সিএনএন

টিএস/পি

RTV Drama
RTVPLUS