logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ২২ জানুয়ারি ২০২১, ৮ মাঘ ১৪২৭

ভারতে পাঁচ রাজ্যে হাঁস-মুরগি, মাছ ও ডিম বিক্রি ‘নিষিদ্ধ’

ভারতে পাঁচ রাজ্যে হাঁস-মুরগি, মাছ ও ডিম বিক্রি ‘নিষিদ্ধ’
ফাইল ছবি
মহামারি করোনাভাইরাসের পর এবার ভারতের পাঁচটি রাজ্যে বার্ড ফ্লু’র প্রকোপ দেখা দিয়েছে। রাজ্যগুলো হলো- কেরালা, হিমাচল, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ এবং হরিয়ানা। 

সোমবার (৪ জানুয়ারি) কেরালায় সর্বশেষ বার্ড ফ্লু ভাইরাসের সন্ধান মিলেছে। এ কারণে রাজ্যগুলোয় হাঁস-মুরগি, মাছ ও ডিম বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সংক্রমণ বৃদ্ধি রোধে কঠোর নজর রাখছে রাজ্য সরকাররা।

গত সপ্তাহে হিমাচলের পরিযায়ী পাখিদের মধ্যে প্রথম বার্ড ফ্লু ধরা পড়ে। রাজ্য সরকারে হিসেবে শুধু কাংড়া অঞ্চলে প্রায় এক হাজার ৭০০ পাখির মৃত্যু হয়েছে। তারপরই ওই রাজ্যে মাছ, মুরগি এবং হাঁস বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। কেবল তাই নয়, মুরগির ডিম বিক্রিও বন্ধ করা হয়েছে। বরেলির পশুপালন কেন্দ্রে মৃত পাখির দেহ পাঠানো হয়েছে। সেখানে দ্বিতীয়বার পরীক্ষার পরও প্রতিটি পাখির দেহে বার্ড ফ্লুর জীবাণু পাওয়া গিয়েছে।

বার্ড ফ্লু মূলত পাখিদের একধরনের জ্বর। তবে এর জন্য এক ধরনের ভাইরাস দায়ী। যার নাম এইচ৫এন১। ভাইরাসটি দ্বারা আক্রান্ত হাঁস-মুরগি থেকেই মানবদেহে এটি প্রবেশ করার সম্ভাবনা থাকে।

অন্যদিকে রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ এবং হরিয়ানায় হাঁসের শরীরে বার্ড ফ্লু’র জীবাণু পাওয়া গেছে। রাজস্থান সরকার হাঁস মালিকদের হাঁস মেরে ফেলার জন্য নির্দেশ দিয়েছে। বলা হয়েছে, সরকার কিছুদিনের মধ্যেই ক্ষতিপূরণ দিবে। তবে হাঁস মালিকরা বলছেন, আশ্বাস মিললেও অনেক সময় ঠিক সময়ে ক্ষতি পূরণ পাওয়া যায় না। একই সমস্যায় পড়েছেন মুরগি ব্যবসায়ীরা। করোনার জন্য এমনিই ছোট এবং মাঝারি ব্যবসায়ীদের অবস্থা খারাপ। লকডাউনের পর তারা ফের দাঁড়াতে চেয়েছিলেন কিন্তু বার্ড ফ্লু’র জন্য তাদের মাথায় হাত।

হিমাচলের এক হাঁস ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, করোনার সময় প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ভেবেছিলাম ব্যবসা গুটিয়ে নিতে হবে। অক্টোবর থেকে ধীরে ধীরে ব্যবসা বাড়ছিল। আবার এখন যদি সব হাঁস মারতে হয় তাহলে অন্তত ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হবে। তার খামারে ১০টি হাঁসের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু মড়কের ভয়ে তাকে হাঁস মারতেই হবে।

স্থানীয় বাজারেও বার্ড ফ্লুর প্রভাব পড়েছে। হরিয়ানা থেকে প্রচুর মুরগি আসে দিল্লিতে। দিল্লির এক মাংস ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, মানুষ মুরগির মাংস কিনতে ভয় পাচ্ছে। এভাবে চললে মাংসের দাম অনেক নিচে নামবে। কেনা দামে বিক্রি করতে হবে মুরগির মাংস।

এখনো বার্ড ফ্লুর প্রভাব মানুষের শরীরে ধরা পড়েনি। তবে কয়েক বছর আগেও এ ঘটনা ঘটেছিল। তাই সরকার আগে থেকেই ব্যবস্থা নিতে চাইছে। হরিয়ানির এক সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, করোনার জন্য এমনিই অবস্থা খারাপ। হাসপাতালগুলোয় আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরি করায় বেডের সংখ্যা কমে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে বার্ড ফ্লু আক্রান্ত রোগী আসা শুরু করলে তাদের চিকিৎসা দেওয়াই মুশকিল হবে। সূত্র : ডয়চে ভেলে

এসআর/এসএস

RTV Drama
RTVPLUS