Mir cement
logo
  • ঢাকা সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

আরটিভি নিউজ ডেস্ক

  ১৬ নভেম্বর ২০২০, ২২:১২
আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০২০, ২২:৫১

জর্ডানে বেতন বাড়ানোর দাবিতে কর্মবিরতিতে বাংলাদেশি শ্রমিকরা

জর্ডানে বেতন বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন ও কর্মবিরতিতে বাংলাদেশি পোশাক শ্রমিকরা
ছবি: সংগৃহীত

প্রায় সাত দিন ধরে জর্ডানের রামথা শহরে বাংলাদেশি পোশাক শ্রমিকরা বেতন বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন ও ধর্মঘট করছেন একটি কারখানায়।

জর্ডানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান জানান, আন্দোলনটি চলার সময় কিছু ভাংচুরের ঘটনা ঘটছে শহরটির আল হাসান শিল্প এলাকায় অবস্থিত ক্লাসিক ফ্যাশন অ্যপারেলে।

শ্রমিকদের অভিযোগ তাদের দেশে পাঠানোর হুমকি দেয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ থেকে পুরুষ শ্রমিক নেবার আগ্রহ কম জর্ডানের। কারণ এর আগে ভাংচুরের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল তাদের বিরুদ্ধে। এছাড়া একটি ডাস্টবিনে একজন বাংলাদেশি নারী অভিবাসীর মরদেহ পাওয়া পর স্থানীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। পোশাক কারখানার শ্রমিকরা ওই নারীকে নিজেদের একজন দাবি করে এবং এ বিষয় নিয়ে ক্ষোভ এবং আতঙ্ক প্রকাশ করেন।

আম্মানে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে জানায়, ঘটনা সামাল দিতে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে এই ঘটনায় কোনও বাংলাদেশিকে আটক করা হয়নি।

দেশটির তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠান ক্লাসিক ফ্যাশন অ্যপারেল। কারখানাটির জন্য বাংলাদেশ থেকে বেশির ভাগ শ্রমিক নেয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী সেখানে বাংলাদেশের ৩০ হাজারের মতো শ্রমিক রয়েছে। আইনের সহায়তা দেয় এমন একটি সংস্থা তামকিন ফর লিগাল এইড অ্যন্ড হিউম্যান রাইটস বলেছে, শ্রমিকদের অর্ধেকের বেশি বাংলাদেশি নারী শ্রমিক।

বাংলাদেশের দূতাবাসের তথ্যমতে জর্ডানে প্রায় ৭০ হাজারের মতো শ্রমিক রয়েছে যার মধ্যে বেশি ভাগ পোশাক শ্রমিক।

বছর-খানেক হলো ক্লাসিক ফ্যাশন অ্যপারেলে মেশিন অপারেটর হিসেবে কাজ করছেন বাংলাদেশের ঝিনাইদহ জেলা থেকে যাওয়া এক শ্রমিক নাম প্রকাশ না করে তিনি বলেন, কারখানার ম্যানেজার ও সুপারভাইজারদের বেতন বাড়িয়েছে। কিন্তু শ্রমিকদের বেতন না বাড়ানোর কারণে আমরা আন্দোলনে যাই। আমাদের সঙ্গে কারখানার সকল শ্রমিক যোগ দিয়েছে।

দুইদিন আগে রাত ১১টার দিকে কয়েকজন লোক আমাদের হোস্টেল থেকে একটি মেয়েকে তুলে নিয়ে গেছে। আরেকজন মেয়ে ব্যাংকে গিয়েছিল আর ফেরেনি। বলতে পারেন আমরা এখন ভয়ের মধ্যে আছি। তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি কারা তাকে তুলে নিয়ে গেছে।

তামকিন ফর লিগাল এইড অ্যন্ড হিউম্যান রাইটস সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক লিন্ডা আখলাস জানান, এই খাতের মজুরি জর্ডানে অন্য যেকোনো কাজের শ্রমিকদের চেয়ে কম।

পোশাক শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি জর্ডানে ১১০ দিনার। তবে অন্য যেকোনো খাতে সর্বনিম্ন মজুরি ১৫০ দিনার। এখানে পোশাক খাতে শ্রমিকদের বেতন একটি বড় সমস্যা।

মালিক পক্ষ থেকে যুক্তি দেখানো হয়েছে শ্রমিকদের থাকা খাওয়ার সুবিধা দেয়া হচ্ছে। সেখানে তারা বেতন বাড়িয়ে দিতে পারবে না। বিশেষ করে করোনার সময়। সূত্র: বিবিসি বাংলা।

জিএম/এসএস

RTV Drama
RTVPLUS