• ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০১৯, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

মশা মারতে সুগন্ধি ভরা শক্তিশালী বাহারি কয়েলে সয়লাব বাজার

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ০১ মে ২০১৯, ১৮:২৭ | আপডেট : ০১ মে ২০১৯, ১৮:৫১
মশার উৎপাত নিয়ে আতংক কার নেই? সন্ধ্যে থেকে ভোর পর্যন্ত কম বেশি সবারই দুঃশ্চিন্তা থাকে যে কিভাবে এই প্রাণিটির কামড় থেকে নিজেসহ প্রিয়জনকে রক্ষা করা যায়। তবে এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের মাথা ব্যথা থাকুক না থাকুক ব্যবসায়ীরা খুব চিন্তিত। তারা মশা থেকে জনগণকে বাঁচাতে অনেক চিন্তা করেছেন অনেক কিছু বানিয়েছেন। মশার কয়েল ও স্প্রেসহ বিভিন্ন রকম লিক্যুয়িট কেমিক্যাল।

whirpool
কিন্তু বেশির ভাগ মানুষই মনে করেন মশারির ভেতরেই তারা বেশি নিরাপদ। কিন্তু মশরারির ভেতরে থেকে কি বাসার সব নিত্য কাজ, পড়ালেখা, খাওয়া-দাওয়া সম্ভব? অবশ্যই না। সুতরাং মশার কয়েলই তখন ভরসা। আর মশার কয়েল যে কত প্রকার এবং কী কী তা কিনতে গেলেই শুধু বোঝা সম্ভব। রীতিমতো অনেকক্ষণ ভাবতে হয় যে কোন মশার কয়েলটা কেনা উচিত এবং তাতে কাজ হবে কি হবে না তার নিশ্চয়তা প্যাকেটের গায়ে লেখা থাকলেও ব্যবহার না করলে তো বোঝা সম্ভব না। এজন্য একের পর এক মশার কয়েল ব্যবহার করে যাচ্ছেন অনেকে। কেউ দোকানদারের পরামর্শে কেউ আশপাশের মানুষের পরামর্শে।

তবে প্যাকেটের গায়ে যেসব গুণের কথা বলা আছে সেগুলোর অর্থের কার্যকারিতা ১০০ ভাগ দেয়া আছে। কিছু নামও রয়েছে এমন যে মশারা যদি শুনতে পেতো তাহলে হয়তো কাছে আসতো না, যেমন- ডন, তাও আবার উত্তম সুগন্ধিযুক্ত। পাতা সমৃদ্ধ কয়েলও আছে যেমন নিম পাতা, পুদিনা পাতা ও তুলসি পাতা। তুলসি পাতার কয়েল আবার বিজ্ঞান সম্মতভাবে তৈরি ক্ষতির সম্ভবনা নাই, তবে কার ক্ষতির সম্ভবনা নাই তারও উল্লেখ নাই। আছে বুলেট বৈশিষ্ট্যের গ্রিন বুলেট, ব্লাক বুলেট- মনে হচ্ছে বুলেট দিয়ে গুলি করে মশা মারা হচ্ছে। তবে গ্রিন বুলেটে তুলসি ও নিম পাতা অ্যাক্টিভ! বেশির ভাগ মশার কয়েলেরই ১২ ঘণ্টা মেয়াদ তবে ১০ ঘণ্টা মেয়াদেরও কয়েল আছে যা ওক্টা গার্ড সমৃদ্ধ। একটি আছে প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি তাই মানবদেহের ক্ষতি হওয়ার কোনও সম্ভবনা নেই। কোনোটির আছে কুইক অ্যাকশন। এমনকি আমদানি হচ্ছে চীন থেকেও।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, গুণগত তারতম্যে বাজারে বিভিন্ন গন্ধের মশার কয়েল রয়েছে। তবে কোনটির মান কেমন সেটি তারা জানাতে পারেননি।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, হরেক রকমের কয়েল আছে প্রতিটি পাইকারি দোকানে। তার মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হলো, ব্ল্যাক ফাইটার, তুলসি পাতা ফ্লেভারের কয়েল, নিম পাতা ফ্লেভারের কয়েল, লাল মোরগ মার্কা কয়েল, এক্সপার্ট কয়েল, আবে জমজম,গুড নাইট, চাইনা বাওমা কয়েল, নন স্মকি কয়েল, লিজেট কয়েল এবং এক্সটা পাওয়ার কয়েল।

কারওয়ান বাজারে এসিআই কোম্পানির ডিলার আফজাল হোসেন আরটিভি অনলাইনকে বলেন, এখন মশার কয়েলে অনেক ভিন্নতা রয়েছে। শুধু কালো কয়েল বা লাল কয়েলেই সীমাবদ্ধ না। এখন বাজারে বাহারি কয়েল রয়েছে। এর প্রতিটাই ভালো কোম্পানির। প্রায় সব কয়েলই মশা মারার কাজ করে। এখনকার কয়েলগুলো তৈরি করা হয় মানবদেহের স্বাস্থ্যের যেন কোনো ক্ষতি না হয় সেই দিক খেয়াল করে।

বাজারে কয়েল কিনতে আসা মিল্লাত রহমান আরটিভি অনলাইনকে বলেন, এখন একদিকে তীব্র মশার উৎপাত, অন্যদিকে প্রচণ্ড গরম। মশারি দিলে ফ্যানের বাতাস মশারির ভেতর ঢুকে না। আবার মশার কয়েল দিলে মশার কয়েলের ধোঁয়ায় বাচ্চাদের ক্ষতি হয়। কিন্তু বাধ্য হয়েই মশার কয়েল ব্যবহার করতে হয়। তবে আগের চেয়ে এখন বাজারে হরেক রকমের কয়েল পাওয়া যায়। সেগুলোর মানও বেশ উন্নত।

তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন যে ওষুধ ছিটায় তাতে মশা যায় না। প্রতিরাতই মশার কয়েলের ওপর নির্ভর করতে হয়। আর বাজারেও অনেক কোম্পানি, এমনকি আমদানিকৃত কয়েলেও দোকান ভরপুর।

নিয়মিত মশা তাড়ানোর ওষুধ ছিটানো হয় বলে সিটি করপোরেশন থেকে মাসিক বুলেটিনে বলা হয়। কিন্তু তারপরেও কেন নগরবাসী মশার উপদ্রপ থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মমিনুর রহমান মামুন আরটিভি অনলাইনকে বলেন, পুরো শহর মশামুক্ত একথা বলবো না। নগরবাসীর অভিযোগ সত্য, কারণ আমাদের অনেক এলাকায় কাজ করতে হয় কিন্তু সেজন্য জনবল যা প্রয়োজন তা নেই। মশা মারার যে ওষুধ ব্যবহার হয় সেটার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই। মশক নিয়ন্ত্রণ ডিপার্টমেন্টে মাত্র ১৪ জন লোক কাজ করে। তাদেরকে জিপিআরএস দিয়ে ট্রাক করে। ঠিকমতো কাজ করছে কিনা সেটাও খেয়াল রাখা হয়।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব ফার্মেসির ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক এ বি এম ফারুক বলেন, বাজারে আসা চীনের তৈরি মশার কয়েলের সঙ্গে দেশীয় কয়েলের কোনো পার্থক্য নেই। মোড়কে লেখা এলেথ্রিন ব্যবহারের কথা উল্লেখ আছে। তবে আর কতটুকু উপাদান আছে এর কোনো উল্লেখ নেই।

তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন যদি মশা তাড়াতে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে পারতো তাহলে বাজারে এতো মশার কয়েল দেখা যেত না। মশার কয়েল ব্যবহারের কিছু ক্ষতিকর দিক রয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এটি সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু পরিবারে সচেতনতার অভাবে তার মাত্রা কেউ জানে না।

আরসি/এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়