logo
  • ঢাকা শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

সবুজায়নের সঙ্গে আধুনিক সুবিধাসহ নির্মিত হচ্ছে শহিদ তাজউদ্দীন পার্ক

মিথুন চৌধুরী, আরটিভি অনলাইন
|  ১৪ মার্চ ২০১৯, ১১:১৪ | আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৯, ১৬:৩০
গুলশানে ওয়ান্ডারল্যান্ডের স্থানে হতে যাচ্ছে শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ পার্ক। গুলশানসহ নগরবাসী কোলাহল আর যাপিত জীবনের একঘেয়েমি দূর করতেই আধুনিক ও সবুজায়নের মিশ্রণে করা হচ্ছে পার্কটি। পার্কে পাখির কলরব বাড়াতে লাগানো হবে পাখি বান্ধব গাছ-গাছালি। যার মধ্যে থাকবে ঔষধি গাছও। শুধু তা নয় থাকছে প্রতিবন্ধীসহ সব শিশুর খেলাধুলার জায়গা। হাঁটার জন্য তৈরি করা হবে দ্বিতল রাস্তা। এছাড়া সাইকেল ট্রেক, ফোয়ারা, শিশু খেলনা স্থাপন, শরীর-চর্চার জন্য যন্ত্রপাতি, মহিলাদের বসার আলাদা স্থান, বয়স্কদের খেলাধুলাসহ বিনোদনের ব্যবস্থা, সন্ধ্যার পর যাতায়াতের জন্য পার্কের ভেতর থাকবে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা। সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে পার্ক ও মাঠের সীমানা দেয়াল থাকবে না। এছাড়া থাকবে গাড়ি পার্কিং, উন্নত টয়লেট ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা।

পরিকল্পনা প্রণয়নকারীরা জানান, পার্কে গামারী, সেগুন, বেল, আমলকী, ডালিম, তেলশর, কাঠবাদাম, কোমাই, জেক, পিপাল, ডেউয়াসহ নানান দেশি-বিদেশি ফুল, ফল ও ঔষধিগাছ লাগানো হবে। সৌন্দর্যের পাশাপাশি পাখির কলরব বাড়াতেই এমন আয়োজন করা হচ্ছে।

১০ কোটি টাকার ব্যয়ে ৮.৩৪ একর জায়গায় তৈরি করা হবে আধুনিক পার্কটি।  আধুনিকায়ন, উন্নয়ন ও সবুজায়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) পার্কটি নির্মাণ করবে। যা শিগগিরই টেন্ডার করা হবে।

পার্কটির নকশা প্রণয়নকারীদের টিম লিডার বুয়েটের ডিপার্টমেন্ট অব আর্কিটেকচারের প্রফেসর ড. মো. জাকিউল ইসলাম। তিনি আরটিভি অনলাইনকে বলেন, অনেকদিন ধরে ডিজাইনটিম করে নকশাটি প্রণয়ন করা হয়েছে। নকশাটি প্রণয়ন করার আগে আমরা পুরো এলাকায় সার্ভে করেছি। এ এলাকার মানুষের কাছে আমরা কিছু প্রশ্নও পাঠিয়েছে, তাদের মতামত নিয়ে জানতে চেয়েছি তারা আসলে কি চায়। ঢাকায় এমনিতে পার্ক কম, তারপরও সব বয়সী মানুষ পার্কে চলাচল করে না। ১৫ থেকে ২২ বছর বয়সের মানুষ পার্কগুলোতে খেলাধুলা করতে পারলেও, ছোট্ট শিশুরা চলাচল করতে পারে না। এছাড়া ১৫ থেকে ২০ বছরের মেয়েদের পার্কে তেমন চলাচল নেই। প্রতিবন্ধী শিশুরা আসে না। আমাদের ভাবনা হচ্ছে সব বয়স ও শ্রেণির মানুষের পার্কে চলাচল নিশ্চিত করা।

তিনি আরও বলেন, যেমন বড় শিশুরা ক্রিকেটসহ নানান খেলাধুলা করে থাকে। কিন্তু ছোট শিশুরা বেলুন, কিংবা ঘাস, মাটি নিয়ে খেলতে পছন্দ করে। আমরা এসব বয়সের শিশুদের কাছে গিয়ে গিয়ে জানতে চেয়েছি, তারা তাদের কল্পনার কথা জানিয়েছে। তাদের কথা মাথায় রেখে আমরা ছোট ছোট খেলার স্থান তৈরি করেছি, যাতে তার কল্পনার শক্তি প্রখর হয়। শিশুরা যেন চিন্তা করতে পারে।

ড. জাকিউল ইসলাম বলেন, শহরে মানুষ অনেক বেশি। সবাই একটু খোলামেলা পরিবেশে হাঁটতে চায়। তাই আমরা দ্বিতল ওয়াকওয়ে তৈরি করেছি, যাকে ঝুলন্ত বলা যায়। ১০ফিট ওপরে হবে রোডটি। যাতে মানুষ আরও গাছের কাছে যেতে পারে। নিচে দিয়ে যারা হাঁটবে তারা রোদ ও বৃষ্টি থেকে রক্ষা পাবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা এ এলাকার মানুষকে জিজ্ঞেস করেছি পার্ক বলতে প্রথমে কোন বিষয়টি মাথায় আসে। সবাই একই উত্তর দিয়েছে গাছ। প্রস্তাবিত জায়গাটিতে যেসব গাছ আছে তাতো থাকবেই। পাশাপাশি আমরা আরও অনেক গাছের সংমিশ্রণ তৈরির প্লান করেছি। যেখানে থাকবে ফুল ও ফলে পরিপূর্ণ। ঋতুর সাথে সাথে পার্কের ভেতরে নানান ফুলের সমারোহ তৈরির প্লান করা হয়েছে। যাতে মানুষ গাছের ফুল দেখে বলতে পারবে ঋতু পরিবর্তনের নানান রং। যেসব গাছে পাখির আগমন বেশি ঘটে সেসব গাছ লাগানোর পরিকল্পনা করেছি।

এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) 'আরবান রিজিলিয়েন্স' প্রজেক্টের প্রকল্প পরিচালক ড. তারিক বিন ইউসুফ জানান, গুলশান সেন্ট্রাল পার্কের কিছু অংশ রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) কাছ থেকে ইজারা নিয়ে ওয়ান্ডারল্যান্ড চিলড্রেন পার্ক নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে পার্ক নির্মাণের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন গুলশানের এক বাসিন্দা ১৯৯৫ সালে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। রাজউকের মহাপরিকল্পনায় বাণিজ্যিক পার্কের বিষয়টি না থাকায় ২০১১ সালের শেষের দিকে ওই ইজারা অবৈধ ঘোষণা করে ওয়ান্ডারল্যান্ডের বরাদ্দ বাতিল করে দেন উচ্চ আদালত।

২০১২ সালে পার্কটি দখলমুক্ত ঘোষণা দেয় রাজউক। এরপর রাজউকের কাছে জায়গাটি থাকে। সম্প্রতি পার্কটি ডিএনসিসিকে বুঝিয়ে দেয়। এরপরেই আধুনিক পার্ক স্থাপনের পরিকল্পনা নেয় ডিএনসিসি।

তিনি আরও বলেন, আধুনিকায়ন, উন্নয়ন ও সবুজায়নের সংমিশ্রণ করে পার্কটি তৈরি করা হবে। যাতে করে এ অঞ্চলের শিশু-কিশোররা চার দেয়ালের মধ্যে আবদ্ধ না হয়ে বেড়ে উঠতে পারে। তাদের শৈশব আধুনিক প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতাকে ডিঙ্গিয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠে। পাশাপাশি সব বয়সের মানুষ নাগরিক কোলাহল আর যাপিত জীবনের নাভিশ্বাস থেকে মুক্তি পায় তারই উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এরিমধ্যে প্লান করা হয়েছে। শিগগির পার্কটি পুনর্নির্মাণের জন্য দরপত্র চাওয়া হবে।

এমসি/জেএইচ 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • এক্সক্লুসিভ এর সর্বশেষ
  • এক্সক্লুসিভ এর পাঠক প্রিয়