DMCA.com Protection Status
  • ঢাকা শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ১৩ বৈশাখ ১৪২৬

প্রবাসে নিদারুণ যন্ত্রণায় বাংলাদেশি শ্রমিকেরা

জুলহাস কবীর, মালয়েশিয়া থেকে ফিরে
|  ২৯ নভেম্বর ২০১৮, ১৭:০৯ | আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০১৮, ১৭:৩৫
দেশের অভ্যন্তরে যখন আমরা আলোবাতাসে বেড়ে উঠছি, প্রতিনিয়ত নিজেদের সমৃদ্ধ করছি, সেখানে আমাদের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে নিদারুণ কষ্টে কাজ করে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাচ্ছেন আমাদের ভাই, সন্তান অথবা নিকটতম কোনও আত্মীয়। যাদের প্রতিটি নিঃশ্বাসে কষ্টের বার্তা ভেসে আসে, চোখের চাহনি যন্ত্রণার কথা বলে। মা, বোন অথবা সন্তানের কোমল হাতের ছোঁয়া পেতে চায় প্রবাসী মন। মালয়েশিয়ায় দূর প্রবাস থেকে এমনই প্রতীক্ষায় বাংলাদেশের লাখ লাখ শ্রমিক। মালয়েশিয়া থেকে ফিরে প্রবাসী শ্রমিকদের কষ্টের কথা জানাচ্ছেন জুলহাস কবীর।

সকাল গড়িয়ে দুপুর। মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর তখন কর্মব্যস্ত মহানগরী। শহরের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে ছুটছে মানুষ। বিশ্বের অন্যতম আধুনিক শহর কুয়ালালামপুরের পথে-ঘাটে দেখা মেলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের। এখানে শ্রমিকদের সংখ্যা কয়েক লাখ! নির্মাণ খাতে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক কাজ করেন। দক্ষ শ্রমিক হিসেবে সুনামও বেশ। পরিশ্রমের তুলনায় মজুরি নিয়ে অসন্তুষ্টি থাকলেও আক্ষেপ কম।

তবে, যাদের শ্রমে-ঘামে মালয়েশিয়ার অট্টালিকাগুলো আকাশ ছুঁই-ছুঁই, তারা কেমন আছেন? যাদের পাঠানো টাকায় সমৃদ্ধ হচ্ছে দেশের রিজার্ভ, তাদের ঘরের খবর কী?

বগুড়ার, ফয়সাল হোসেন। কয়েক বছর ধরে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে আছেন, কুয়ালালামপুরে। খরচ বাঁচাতে এখানেই গাদাগাদি করে থাকছেন আট থেকে দশজন। প্রায় দেড়শ শ্রমিকের আবাসিক মেসে টয়লেট মাত্র তিনটি।

এসব মেসে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করছেন কেউ কেউ। একজন শ্রমিক বলেন, ‘আমি দশবছর ধরে এভাবেই আছি। অন্যান্য যেসব জায়গায় কাজ করেছিলাম, সেখানেও একই অবস্থা। কেউ জানালেন, মন চায় দেশে ফিরতে, তবে ধার-দেনা করে এখানে এসেছি। ঋণ পরিশোধ না করা পর্যন্ত দেশে ফেরা যাবে না।

এজেন্সিগুলোর খামখেয়ালিপনার সঙ্গে দালালদের দৌরাত্মে তাদের এমন দুর্বিষহ জীবন-যাপন। শ্রমিকদের মূল অভিযোগ বাংলাদেশ দূতাবাসের বিরুদ্ধে। পাসপোর্ট অফিসের দালাল চক্র আর কর্মকর্তাদের অচরণে ক্ষুব্ধ বেশিরভাগ শ্রমিক। একটি মাত্র নাম অথবা বানান ভুলের জন্য শ্রমিকদের ৫০০ টাকা জরিমানা দিতে হয় বলে অভিযোগ করেন এক শ্রমিক। তবে এসব ভুল দালালচক্র ইচ্ছে করেই করেন বলে অভিযোগ করেন তারা।

সুদিনের আশায় অপেক্ষার প্রহর এক সময় শেষ হবে, আর তাদের দুর্দশা লাঘবে হাইকমিশন তৎপর হবে- এমন স্বপ্নে দিন কাটেছে মালয়েশিয়ার নির্মাণ শ্রমিকদের। তারা আশাবাদী একদিন তাদের জীবনে পরিবর্তন আসবে।

জিএ/এসএস/এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়