• ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

ঘুরে দাঁড়িয়েছেন সঙ্গীতশিল্পী আকবর

গাজী আনিস, আরটিভি অনলাইন
|  ০৫ এপ্রিল ২০১৯, ২০:৪১ | আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০১৯, ১২:২৬

ডায়াবেটিস, জন্ডিস, রক্তের প্রদাহসহ নানা জটিল রোগভোগের পর সঙ্গীতশিল্পী আকবর এখন অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠেছেন। বিভিন্ন জায়গা থেকে স্টেজ-শোর ডাক আসছে, মাঝে মধ্যেই তিনি সেসব শোতে অংশ নিয়ে দর্শক মাতাচ্ছেন।

১৫ বছর আগে ইত্যাদি অনুষ্ঠানে গান গেয়ে সাড়া ফেলেন আকবর। কিশোর কুমারের ‘একদিন পাখি উড়ে যাবে’ গানটি গেয়ে লাখো মানুষের মন জয় করে নেন। সম্প্রতি তার অসুখের খবর আসে মিডিয়ায়। এসময় তার পাশে দাঁড়ান হানিফ সংকেত। নিজ খরচে হাসপাতালে ভর্তি করেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে আবেদন করেন। প্রধানমন্ত্রীও আকবরের চিকিৎসার জন্য হাত বাড়িয়ে দেন। তার হাতে ২২ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ও ২ লাখ টাকার চেক তুলে দেন।

আকবর জানান, এখন তিনি অনেকটাই সুস্থ। বিভিন্ন জায়গা থেকে স্টেজ-শো করার ডাক আসছে। তিনি সেসব শোতে অংশও নিচ্ছেন। তবে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিগগির ভারতে যাবেন। এজন্য স্ত্রী ও কন্যার পাসপোর্ট প্রস্তুত করা হচ্ছে।

শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে আকবর বলেন, আমি বেশ অসুস্থ ছিলাম। খাওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তিন দিন কোনও সাড়া ছিল না। ভয়ে ছিলাম। অসুখ দীর্ঘদিনের। ডায়াবেটিস থেকে মূল সমস্যা দেখা দেয়। শারীরিক অনেক সমস্যা আছে। ব্লাড ইনফেকশন, কিডনি সমস্যাও আছে। কিন্তু সম্প্রতি হঠাৎই প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়ি। আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করার মতো ঘরে টাকা ছিল না। হানিফ সংকেত স্যার টাকা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার যাবতীয় খবর বহন করেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে আবেদন করেন। প্রধানমন্ত্রীও আমার চিকিৎসার জন্য অনুদান দিয়েছেন। তারা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন এজন্য আমি কৃতজ্ঞ।

সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ দিয়ে তিনি বলেন, স্রষ্টার ইচ্ছায় এখন আমি আবার খেতে পারছি। মানুষ আবার আমাকে গান করতে ডাকছে। গান করছি। সৃষ্টিকর্তা আমার কণ্ঠ এখনও ঠিক রেখেছেন। সেজন্য তার কাছে কোটি কোটি বার শুকরিয়া।

আকবর বলেন, গান করে মানুষের অনেক ভালোবাসা পেয়েছি। মানুষের মাঝে আমি গান নিয়ে আরও অনেকদিন বেঁচে থাকতে চাই। ভক্তদের আরও নতুন নতুন গান উপহার দিতে চাই। আমি ছোট থেকেই জ্বলছি। ভালোবাসা পায়নি। আমাকে হানিফ সংকেত স্যার ছেলের মতই আগলে রেখেছেন। আমি সারাজীবন তার ছেলে হয়েই বাঁচতে চাই।   

অতীত স্মৃতিচারণা করে আকবর বলেন, ছোট থেকে মা আমাকে মানুষ করেছেন। বাবা থেকেও ছিল না। আমাদের ঘর ভাড়া দিতে হতো ৬০টাকা। মা মানুষের বাসায় কাজ করে এই ভাড়া দিতেন।

একটা সময় সে জায়গাও ছেড়ে দিতে হলো। যাদের জায়গা তাদের মাঝে ভাগ হয়ে যাওয়ার পর আমি বড় বোনের সাথে তার বাড়িতে আশ্রয় নিলাম। একদিন শরীরে জ্বর নিয়ে ভাগ্নেকে সঙ্গে নিয়ে ঘর তৈরি করছিলাম, তখনই ইত্যাদি থেকে চিঠি আসে। এর আগেই একজন ভক্ত আমার সম্পর্কে ইত্যাদিতে চিঠি লিখেছিলেন।

এক সময় অনেক বেশি আর্থিক সংকটে ছিলেন আকবর। সে কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ঢাকায় আসবো সেই টাকাও একদিন ছিল না। ঘরের টেপ রেকর্ডার বিক্রি করে ৬শ টাকা, আরও ৬শ টাকা কিস্তিতে সমিতি থেকে লোন করে ঢাকায় আসলাম। ইত্যাদিতে গান করলাম। তারপর সবই ইতিহাস। মানুষ আমার গান শুনে মুগ্ধ হলো, আর আমি আজকের আকবর হলাম।

 

জিএম/এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়