Mir cement
logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে সুবাহ’র গুরুতর অভিযোগ!

ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে সুবাহর গুরুতর অভিযোগ!
ছবি: সংগৃহীত

তরুণ প্রজন্মের সুপরিচিত গায়ক ইলিয়াস হোসাইনকে বিয়ে করেন মডেল ও অভিনেত্রী সুবাহ শাহ হুমায়রা। গত ১ ডিসেম্বর পারিবারিক আয়োজনে বিবাহবন্ধনে আবন্ধ হন তারা। বিয়ের এক মাস না পেরুতেই সেই সংসারে ভাঙন শুরু হয়। তাদের সেই দাম্পত্যের দ্বন্দ্ব এখন চরম পর্যায়ে। স্বামী-স্ত্রী একে অপরের বিরুদ্ধে থানায় জিডিও করেছেন।

ইলিয়াসের সঙ্গে সুবাহর একেবারেই বনিবনা হচ্ছে না। তারা দুজন দুজনের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ করেছেন। প্রমাণ জাহির করতে নিজেদের অনেক গোপন কল রেকর্ড ও অন্তর্জালে আলাপচারিতার স্ক্রিনশর্ট প্রকাশ করেই চলেছেন। এবার ময়মনসিংহ জেলা শাখার ছাত্রলীগের সভাপতির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুললেন সুবাহ।

নতুন বছরের শুরুর দিন (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর ময়মনসিংহ জেলা শাখার ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ আল আমিনের ফেসবুক প্রোফাইলের স্ক্রিনশট নিয়ে নিজের আইডিতে পোস্ট করেছেন সুবাহ। ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন- 'এই হচ্ছে মোঃ আল-আমিন, সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ময়মনসিংহ জেলা শাখা। বিয়ের পর থেকেই ইলিয়াসের আপন ছোট ভাইকে দিয়ে ইলিয়াস আমাকে বিভিন্নভাবে মানসিক হুমকি দিয়ে আসছিল, যেন আমি বিয়েটা গোপন রাখি। আমার ভয় হচ্ছে, এই ছেলেকে দিয়ে ইলিয়াস আমার এবং আমার পরিবারের ক্ষতি করাতে পারে। সবাই এই ভয়ানক সন্ত্রাসীকে চিনে রাখুন।'

এদিকে স্বামী ইলিয়াসের বিষয়ে একের পর এক বিস্ফোরক বিষয় প্রকাশ্যে আনছেন সুবাহ। গেলো বুধবার (২৯ ডিসেম্বর) ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, প্রতিটা মেয়েই অনেক স্বপ্ন নিয়ে গায়ে হলুদ করে হাসিখুশি ভাবে বিয়ে করে। সংসার করার জন্য বাচ্চা জন্ম দিয়ে মা হওয়ার জন্য। আমার সাথে বিয়ের পরে ইলিয়াস আর করিনার এমন কিছু রেকর্ড আমি শুনেছি যে রেকর্ডগুলো আমার কাছে আছে যেটা আপনারা শুনলে অবাক হয়ে যাবেন। এইসব শুনে আমার আসলেই ওর সাথে থাকা সম্ভব না, এর থেকে মরে যাওয়া ভালো।

কিছু কিছু ছেলে আছে বিয়েটাকে খেলা হিসেবে নিয়ে মেয়েদের জীবন নষ্ট করে দেয়। সব মেয়ে হাসিমুখে গরিব স্বামীর সাথে সংসার করতে পারে। কম দামি কাপড় পরে লবণ দিয়ে ভাত খেয়েও অনেক মেয়ে সংসার করে কিন্তু যখন কোনো স্বামী বেঈমানি করে, অন্য মেয়ের কাছে বউয়ের নামে মিথ্যা কথা বলে সম্পর্ক রাখে, যার চরিত্রের ঠিক থাকে না তার সাথে এটলিস্ট সংসার হয় না হবেও না।

যে নারীলোভী পুরুষ বিদেশে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন মেয়েকে ফাঁসিয়ে বেড়ায়! মেয়েদের শরীর ভোগ করার জন্য আর টাকার জন্য বিয়ে করা একটা খেলা হয়ে গেছে তার কাছে। তার সাথে ঘর করা সম্ভব নয়। বোকা ছিলাম, অন্ধের মতো এবারও হয়তো ভালোবেসে বিশ্বাস করেছিলাম তাই বিয়ে করেছিলাম। একটাই ভুল আমার, কেন বিয়ে করলাম জানিনা। এ ভুলের খেসারত কি এখন মরে গিয়ে দিতে হবে, নাকি বেঁচে থেকেই দেওয়া সম্ভব?

আমি অনেক মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে আছি। আমি আর কোন কিছু সহ্য করতে পারছি না। আপনারাই বলুন আমার কি করা উচিত? আমার কি বিষ খেয়ে মরা উচিত নাকি সহ্য করে মেনে নিয়ে থাকা উচিত? আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন।'

অন্যদিকে ইলিয়াস বলেন, 'আমি কেন, দুনিয়ার কেউ ওর (সুবাহ) সঙ্গে সংসার করতে পারবে না। ওর সাথে বিয়ে না হওয়াতে নাসির অনেক ভাগ্যবান। অল্প কয়েকদিনে যা দেখলাম, তা বলার বাহিরে। আমার নামে যাতে বদনাম করতে না পারে, সেই জন্য বিয়ে করেছি। কেউ যাতে কোনো ধরনের বদনাম না দিতে পারে। আমি সুবাহকে ডির্ভোস দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি কারিনের সঙ্গেই থাকতে চাই।'

তিনি আরও বলেন, 'সুবাহ আমার খুব ভালো বন্ধু ছিল। ও (সুবাহ) ভালো করেই জানত, আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে বেশ কয়েক মাস ধরে দূরত্ব চলছিল। এই সুযোগটা কাজে লাগিয়েছে। যেটা আমি বুঝতে পারিনি। বিয়ে না করলে আমার মানসম্মান, ক্যারিয়ার শেষ করে দেয়ার হুমকিও দিয়েছে। সুবাহ বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্নভাবে আমাকে ব্ল্যাকমেইল করতেছিল। মানসম্মানের কথা চিন্তা করে এতদিন চুপ ছিলাম। কয়েকদিন ধরে একের পর এক আপত্তিকার ঘটনা ঘটছে, যা আমার জন্য বিব্রতকর। পরে ভেবে দেখলাম, সত্যটা সবার জানা উচিত। আর তাই মুখ খুলতে বাধ্য হলাম।'

এই গায়কের ভাষ্য, সুবাহর সঙ্গে আমার আড়াই বছরের পরিচয়। তবে বেশি কাছাকাছি আসা হয় আড়াই মাস হবে। বন্ধু হিসেবে কথা বলার জন্য যোগাযোগ করেছিলাম। তবে বুঝতে পারিনি আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে ফাঁসাবে। বিয়ে তো আমি করতে চাইনি। জোর করে ব্ল্যাকমেইল করে বিভিন্ন হুমকি দিয়ে বিয়ে করতে বাধ্য করেছে। আমি বিয়েতে রাজি ছিলাম না।'

দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে ডিভোর্স প্রসঙ্গে ইলিয়াস জানান, 'আমাদের ডির্ভোস হয়নি। ডির্ভোস দেওয়ার জন্য আমাকে চাপ প্রয়োগ করে সুবাহ। কারিন আমার স্ত্রী৷ মাঝে কারিনের সঙ্গে কয়েক মাস আমার যোগাযোগ ছিল না। আর সেই সুযোগটা সুবাহ নিয়েছে। বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইল করেছে। পরে আমি কাগজ পাঠিয়েছি। তবে কারিনকে সাইন করতে না করে দিই। কারিনের সঙ্গে ডির্ভোস হওয়ার এক বছর পর বিয়ের কথা জানাবে বলেছিল সুবাহ। কিন্তু বিয়ের দশ দিনের মাথায় ছবি প্রকাশ করে৷ আমার আড়ালে ছবি তুলেছে। আমার ব্যক্তিগত কিছু ছবি ও ভিডিও দিয়ে সুবাহ আমাকে প্রতিনিয়ত ব্ল্যাকমেইল করেছে। বিয়ে না করলে এগুলো নেটে ছড়িয়ে দেবে বলে হুমকি দেয়। সেই ভয় থেকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছি।'

প্রসঙ্গত, তিন বছর আগের কথা। ২০১৮ সালে মডেল ও অভিনেত্রী সুবাহ শাহ হুমায়রার একটি ভিডিও তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। যে ভিডিওতে তিনি জাতীয় দলের এক সময়কার নিয়মিত ক্রিকেটার নাসির হোসেনের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের ব্যাপারটি ফাঁস করেছিলেন। তাদের সেই আলোচিত প্রেমের ইতি ঘটেছে আগেই। সুবাহর প্রেমকে পায়ে ঠেলে সদ্য বিদায়ী বছরের (২০২১ সাল) বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে (১৪ ফেব্রুয়ারি) তামিমা তাম্মিকে বিয়ে করেছেন নাসির।

অন্যদিকে প্রথমে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নিশাত আলমকে বিয়ে করেছিলেন ইলিয়াস। সে সময় নিশাত মেডিকেল সায়েন্সের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। নিশাতের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর কারিন নাজকে বিয়ে করেন এই গায়ক। কারিন সুইডেনের স্টোকহোমে থাকেন। তৃতীয় স্ত্রী সুবাহর সঙ্গে রাজধানীর বনানীতে সংসার পেতেছিলেন ইলিয়াস।

এনএস

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS