logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬

১৫ আগস্ট রাতের প্রতিটি মুহূর্ত নিয়ে উপন্যাস ‘আগস্ট আবছায়া’ (ভিডিও)

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ০২ আগস্ট ২০১৯, ১০:২৭ | আপডেট : ০২ আগস্ট ২০১৯, ১০:৫৩
মাসরুর আরেফিন দি সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। প্রতিদিনের ব্যস্ততার মাঝেও নিয়মিত লেখালেখি করে যাচ্ছেন। ১৫ আগস্টের ঘটনার আবর্তে তার প্রথম উপন্যাস ‘আগস্ট আবছায়া’ প্রকাশিত হয়েছে।  সাড়া জাগানো এই উপন্যাসটি নিয়ে লেখক কথা বলেছেন আরটিভি অনলাইনের সঙ্গে। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন মো. সাকিবুর রহমান।   

bestelectronics
তিনি জানান, হিস্ট্রিক্যাল একটা জায়গা থেকে কাজ করা। মানুষের ইতিহাসে এতো বার ঘটেছে, কেন মানুষের এতো ক্ষমতার লোভ, মানুষ কীভাবে ক্ষমতাকে দেখছে- বিষয়টি দেখতে গিয়েই এই উপন্যাস লেখা।

প্রথম উপন্যাসের বিষয় হিসেবে ১৫ আগস্টের ঘটনা বেছে নেয়ার কারণ কী?

প্রথাগত উপন্যাস সংলাপ নির্ভর, এক রৈখিক গল্প নির্ভর। অনেক বিষয় নিয়ে মানুষ একসঙ্গে কাজ করতে পারে না। এক জায়গায় বসে একটা বেসিক বিষয় নিয়ে এক রৈখিকভাবে মানুষ কাজ করে। এটা থেকে উপন্যাস আলাদা। এখানে সংলাপ কম। এখানে অন্তর-কথন অনেক বেশি, চিন্তা বেশি। থিম বহুধা বিভক্ত। মানুষের জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে এখানে কাজ করা হয়েছে। জন্ম, বেড়ে ওঠা, জীবনে ছায়া করে থাকা মৃত্যুর কথা আছে। বিষাদ ও কষ্টের কথা আছে। অন্তস্রোতে আছে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড। পুরো উপন্যাস রক্ত দিয়ে ভরা, মৃত্যু দিয়ে ভরা। উপন্যাসে সবচেয়ে বেশি বলা হয়েছে মৃত্যু নিয়ে।

প্রকৃতি এই উপন্যাসে একটা বিশাল বিষয়। এখানে অন্তত ১০০ গাছের নাম ও পঞ্চাশটি পাখির নাম আছে।

এতো বেশি থিম নিয়ে আসলে বাঙালি উপন্যাসিকরা সাধারণত কাজ করেন না। আবার এখানে গদ্যের অনেক স্তর আছে। এই স্তরগুলো উপন্যাস পড়ার ক্ষেত্রে কারও জন্য বাধার। কারও জন্য আনন্দের। কিন্তু যারা পড়েছেন তারা আনন্দ পাচ্ছেন বলে উপন্যাসটা এতটা বিক্রি হচ্ছে। এটাই অন্য এক উপন্যাস থেকে পার্থক্য। এখানে সংলাপ কম। সুখ-দুঃখের গল্প বলার চেষ্টা এখানে নেই।

১৫ আগস্ট রাতের প্রতিটি মুহূর্ত আপনি তুলে ধরেছেন। এর দালিলিক বস্তুনিষ্ঠটা সম্পর্কে বলুন-

বস্তুনিষ্ঠতার জন্য আমার অনেক বেশি গবেষণা করতে হয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড নিয়ে আমি সৃজনশীল কোনও লেখা পাইনি। অনেকেই এখন লিখছেন, হচ্ছেও। কিন্তু আমাকে আকৃষ্ট করার মতো কিছু পাইনি। আমি গবেষণা করে অনেক হিস্ট্রিক্যাল ফ্যাক্ট ও ডকুমেন্ট পেয়েছি। যুক্তরাষ্ট্র এ নিয়ে অনেক পেপার রিলিজ করেছে। ইউএস অ্যাম্বাসির অনেক তারবার্তা ছিল। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড নিয়ে গোলাম রসুলের বইয়ে অনেক তথ্য-উপাদান আছে। প্রচুর ভালো বই ভারত ও বাংলাদেশ থেকে বেরিয়েছে। এগুলো একসঙ্গে জোড়া দিলে ওই রাতের প্রতি মুহূর্তের একটা ছবি দাঁড়ায়। আমার এখানে অনেক বেশি সংস্কার আছে। আমি প্রথাগত ছবির বাইরে যেতে চাইনি। ওই বাসায় কী পরিমাণ ডাকাতি হয়েছিল তা বোধ হয় আমার উপন্যাস ছাড়া বাঙালি আগে পড়েননি। টুঙ্গিপাড়ায় আসলে কী ঘটেছিল, টুঙ্গিপাড়ার লোকজন যে বিদ্রোহের দিকে যাচ্ছিল, যারা হেলিকপ্টারে লাশ নিয়ে গেল তাদের ক্রিয়াকলাপ এই উপন্যাস ছাড়া অন্য কোথাও পাবেন না। আর বালুর মাঠে যখন ফারুখ ও রশিদের নেতৃত্বে পাঁচশ থেকে ১২শ সেনা জমায়েত হয়। বালুর মাঠের ক্রিয়াকলাপ এখানে আছে- যা অন্য কোথায় পাবেন না।

আপনি দি সিটি ব্যাংকের এমডি, পাশাপাশি একটি চমৎকার উপন্যাস লিখলেন, বই মেলার জন্যও আরও লিখছেন- কীভাবে সম্ভব হচ্ছে?

রোমান এক দার্শনিক বলেছেন মানুষ তিনটি প্যাশন ধারণ করতে পারে। তিনটিতে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। আমার এখন দুটো প্যাশন একটা ব্যাংকিং অন্যটা লেখালেখি। আমি সম্ভবত ছবি আঁকাও শুরু করবো। দুটো নিয়ে চলা কোনও অসুবিধা না- যদি আপনি মনে করেন হাতে সময় আছে। কিন্তু আমরা অলস বলে মনে করি হাতে সময় নেই। আমরা মনে করি অনেক ব্যস্ত।  আসলে ব্যস্ততা কিছুই না। ব্যস্ততা নিজেকে ব্যস্ত বলার একটা ভান। আমি মনে করি সময় অনেক আছে। বাসায় যখন বসে থাকি সপ্তাহের দুটো ছুটিতে ২০ ঘণ্টা কাজ করার সুযোগ আছে। মাসে ৮টা ছুটিতে ৮০ ঘণ্টা মাসে কাজ করার সময় আছে। অবসরে না ঘুমিয়ে আমি কাজ করছি। এভাবে প্রতি সপ্তাহে ৩৫ ঘণ্টা কাজ করার সময় থাকে। মানুষ কাজ না করে বিভিন্ন অজুহাত দেয়। মানুষ চাইলে চারটা কাজও করতে পারে।

এবার প্রথম আলোর ঈদ সংখ্যায় আমার দ্বিতীয় উপন্যাস বেরিয়েছে। নাম আলতু স্যার। ক্ষমতা ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং মানুষ থেকে মানুষকে কাজ করা। বিভিন্ন ধরনের চাপ মানুষকে কীভাবে কিছু করতে তাড়িত করে। ফরাসি দার্শনিক আলতু স্যারকে কেন্দ্র করে ও পরিবেশবাদীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এর ঘটনা। এখানে জীবনানন্দ দাশ খুব বড় প্রসঙ্গ হয়ে আসবেন এই উপন্যাসে। এটা আগামী বই মেলায় বের হচ্ছে।

সমকাল ঈদ সংখ্যায় কাজ করেছি ফরাসি কবির শাহজান পার্সের ‘রানাবাজ মহাকাব্য’ বাংলায় অনুবাদ করেছি। বেশ বড় আকারে বই মেলায় বের হবে। পাঠক সমাবেশ থেকে এটা বের হবে।

আমার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ঈশ্বরদী মেয়র ও মিউলের গল্প’ দ্বিতীয় খণ্ড বের হবে। এর সঙ্গে একই মলাটে প্রথম খণ্ডও থাকবে। বাতিঘর প্রকাশনী থেকে বের হবে।

একইসঙ্গে ‘আগস্ট-চাপটার’ অনুবাদ চলছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বের হবে।

গআ/এম/

bestelectronics bestelectronics
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়