logo
  • ঢাকা বুধবার, ২২ জানুয়ারি ২০২০, ৯ মাঘ ১৪২৭

বিদেশি গাছে নার্সারি ব্যবসায় সফলতা আসছে

মাজহার খন্দকার
|  ২৩ জুলাই ২০১৯, ১২:৩৫
বিদেশি গাছে নার্সারি ব্যবসায় সফলতা আসছে
বিদেশি ফল গাছের নার্সারি
দেশি ফল ও ফুল গাছের সাথে বিদেশি ফল ও ফুলের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে দিন দিন। শুধু শহরে নয়, গ্রামেও এসব গাছের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। এক সময় ছাদ বাগান ও টবে এসব বিদেশি ও বারোমাসি গাছ রোপনের ভাবনা থাকলেও এখন বাড়ির আঙিনায় লাগানো হচ্ছে এসব গাছের চারা। নার্সারি মালিকরাও এসব চারার সংগ্রহ বাড়িয়ে পাচ্ছেন ব্যবসায়ীক সফলতা।

সাফল্যের জন্য প্রয়োজন অনুশীলন, কঠোর পরিশ্রম ও নিজের কাজের প্রতি ভালোবাসা। তাহলে সাফল্য ধরা দিতে বেশি দেরি করবে না। তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলার গোপাল দাস।

গত নয় বছরে প্রায় আড়াই একর জমির ওপর তিনি গড়ে তুলেছেন এজিএস এগ্রো এন্ড হর্টিকালচার নামে একটি নার্সারি। যেখানে দেশি ফল, ফুল, ঔষধি ও কাঠ গাছের চারার সাথে রয়েছে বিদেশি ফল ও ফুল গাছের বিশাল এক সংগ্রহ।

গোপাল জানান, তিন বন্ধুর যৌথ উদ্যোগে মূলত নার্সারিটির যাত্রা শুরু। তবে বাকি দুই বন্ধু অন্য পেশায় যুক্ত থাকায় নার্সারি পরিচালনার কাজটি একাই করছি।

কেন এই নার্সারিটি গড়ে তুললেন, তার পেছনের গল্পে তিনি বলেন, একটি সুন্দর বাগান হবে। যেখানে থাকবে নানা প্রজাতির ফুল ও ফলের গাছ। আর থাকবে ফিশারিজ, ডেইরি ফার্ম, এরকম স্বপ্ন ছিল তিন বন্ধুর। আর সেই লক্ষ্যেই ২০১১ সাল থেকে একটু একটু করে জমি কিনে গড়ে তোলা হয় এজিএস এগ্রো এন্ড হর্টিকালচার নার্সারিটি। বর্তমানে এখানে প্রায় আড়াই একর জমি রয়েছে।

গোপাল জানান, প্রথমদিকে ব্যবসা ভালো যাচ্ছিল না। কিন্তু যখন থেকে বিদেশি ও বারোমাসি ফল গাছের চারার সংগ্রহ বাড়ানো হলো তখন থেকে বিক্রিও বেড়ে যায়। কিন্তু কয়েকদিন পরেই এসব চারা সম্পর্কে ফলন কম হওয়া ও গাছ মরে যাওয়ার মতো অভিযোগ আসতে থাকে। তাতে আবার ব্যবসায় কিছুটা ভাটা পড়া শুরু হয়।

গোপাল দাস

তিনি বলেন, ব্যবসা যেহেতু বুদ্ধির খেলা। তাই পিছু না হটে সাবধনতার সাথে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা শুরু করি। ক্রেতাদের যেসব অভিযোগ আসছে তার একটি সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা করি। একটা পর্যায়ে মনে হলো যে, যদি তাদের সমস্যাগুলোর সমাধান দেয়া যায় তাহলে ক্রেতারা যেমন উপকৃত হবে তেমনি ব্যবসাও ভালো যাবে। সেই থেকে বিদেশি চারা বিক্রির সাথে চারা রোপন ও তার পরিচর্যার একটি গাইড লাইন দিয়ে দেই। আর এই উদ্যোগটি ক্রেতারাও ভালোভাবে গ্রহণ করে।

বর্তমানে নার্সারিতে প্রায় দুইশ প্রজাতির চারা রয়েছে। তার মধ্যে বিদেশি চারা আছে ৩০ থেকে ৪০ প্রকার। কলমের চারা আছে ২৫ থেকে ৩০ প্রকার ও বারোমাসি গাছ আছে আরও ২০ প্রকার। এসব মিলিয়ে নার্সারিতে প্রায় অর্ধকোটি টাকার চারা রয়েছে। প্রতি মাসে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার চারা বিক্রি হচ্ছে।

বিদেশি চারা ও বারোমাসি গাছের পরিচর্যার বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক এন্ড প্লান্ট ব্রিডিং বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. আরিফ হাসান খান রবিন বলেন, বাজারে কিছু তরল সার রয়েছে যেগুলো এসব গাছে ব্যবহার করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। তাছাড়া প্রতিটি বিদেশি জাত যেসব কোম্পানি বাজারজাত করে তাদের একটি গাইড লাইন দেয়া থাকে, সেভাবে চারা রোপন ও পরিচর্যা করা হলে ভালো ফল অবশ্যই পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, এখন শহরের মানুষ দীর্ঘ মেয়াদী ফল গাছের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে না। যেসব গাছে দ্রুত ফল আসছে মানুষ সেটিই গ্রহণ করছে। আর এসব বিদেশি ফলে পুষ্ঠিগুণ ও স্বাদও বেশি।  

ড. আরিফ হাসান খান রবিন

এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • অর্থনীতি এর সর্বশেষ
  • অর্থনীতি এর পাঠক প্রিয়