• ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

সঞ্চয়পত্র কেনার হিড়িক

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ০৩ নভেম্বর ২০১৮, ১৬:০২ | আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০১৮, ১৬:১১
চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের এখনও ৯ মাস বাকি। তার আগেই বিক্রি হয়ে গেছে পুরো বছরের লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকের বেশি সঞ্চয়পত্র। অর্থাৎ মানুষের সঞ্চয়পত্র কেনা নিত্য বাড়ছে।

জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বছরে প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) মোট ২২ হাজার ২৫৬ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি।

মোট বিক্রি হওয়া এই ২২ হাজার ২৫৬ কোটি টাকার মধ্যে আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল বাবদে ৮ হাজার ৮৪৪ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এই হিসাবে নিট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ১৩ হাজার ৪১২ কোটি  টাকা।

অথচ এবারের বাজেটে সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য ঠিক করেছিল।

এ হিসাবে মাত্র তিন মাসেই সঞ্চয়পত্র থেকে লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকের বেশি অর্থ ধার করে ফেলেছে সরকার।

অর্থ বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংক এখন আমানতে যে হারে সুদ দিচ্ছে, সঞ্চয়পত্র কিনলে তার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ সুদ পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে প্রণোদনা পেলেও পুঁজিবাজারে অস্থিরতা কাটছে না। এজন্য মানুষ সঞ্চয়পত্রে টাকা ঢালছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ব্যাংকের আমানতের সুদের চেয়ে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা বেশি। এছাড়া নানা কারণে দেশে পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা কম। ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থাও খুব একটা ভাল না। সব মিলিয়েই নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে মানুষ সঞ্চয়পত্র কিনছেন।

তবে সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে সংগৃহীত ঋণের অর্থ সঠিকভাবে ব্যয়ের পরামর্শ দিয়েছেন এ অর্থনীতি বিশ্লেষক।

সর্বশেষ ২০১৫ সালের ১০ মে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদ হার গড়ে ২ শতাংশ কমানো হয়েছিল। কিন্তু তাতে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি কমেনি।

দেশে প্রচলিত ৪ ধরনের সঞ্চয়পত্রের মধ্যে বর্তমানে পরিবার সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ। পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ০৪ শতাংশ, পেনশনার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

গত জুনে বাজেটের আগে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কয়েকবার সঞ্চয়পত্রে সুদের হার সমন্বয় হবে বলে ঘোষণা দেন। কিন্তু তা কার্যকর হয়নি।

এদিকে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত আগস্ট থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ঋণ ও আমানতে নয়-ছয় সুদ কার্যকর শুরু হয়েছে। যদিও সব ব্যাংক এখনও পুরোপুরিভাবে এই নির্দেশনা পালন করেনি।

আরও পড়ুন :

এসআর

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়