logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬

শিক্ষাকে জীবনের ব্রত হিসেবে নিয়েছে উপজাতি জনগোষ্ঠী

নেত্রকোনা প্রতিনিধি, আরটিভি অনলাইন
|  ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৩:১১ | আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৫:৪১
উপজেলা জনগোষ্ঠী জীবনমান
ছবি: সংগৃহীত
অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী, আত্ম-নির্ভরশীল ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে শিক্ষাকে মূল ব্রত হিসেবে নিয়েছে নেত্রকোনা ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী।

নেত্রকোনা জেলার ভারতীয় সীমান্তবর্তী দুর্গাপুর-কলমাকান্দায় ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর বসবাস।

স্বাধীনতার পূর্বে এ অঞ্চলে বসবাসরত গারো, হাজং, বানাই ও হদি সম্প্রদায়ের লোকজন পাহাড়ে জুম চাষ ও সমতল ভূমিতে কৃষি কাজ করার পাশাপাশি পাহাড় থেকে লাকড়ি এবং বিভিন্ন নদ-নদী ও জলাশয় থেকে কচ্ছপ ও কুচিয়া ধরে তা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল।

স্বাধীনতার পর ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, খ্রিস্টান মিশনারিজ ও ওয়ার্ল্ড ভিশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার নানাবিধ কার্যক্রমের ফলে তারা শের মূল স্রোতের সঙ্গে মিশে যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে গারো ও হাজং সম্প্রদায় শিক্ষাকে তাদের আত্ম-নির্ভরশীল, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের মূল ব্রত হিসেবে নিয়েছে।

সরজমিনে দুর্গাপুর উপজেলার দুর্গাপুর, বিরিশিরি কালচারাল একাডেমি, বিজয়পুর ও কুল্লাগড়া ইউনিয়নে বসবাসরত উপজাতিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা আর কোনোভাবেই পিছিয়ে থাকতে চায় না। তাদের একটাই লক্ষ্য প্রতিটি সন্তানকে ভালোভাবে লেখাপড়া শিখিয়ে সরকারি চাকরির পাশাপাশি নিজেদেরকে আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলা।

গোপালপুর গ্রামের নিরঞ্জন হাজং আরটিভি অনলাইনকে বলেন, আমরা লেখাপড়া করতে পারিনি বলে মাঠে-ঘাটে কৃষি কাজ করে কোনোরকমে জীবিকা নির্বাহ করে এসেছি। কষ্ট হলেও আমি আমার এক ছেলে ও দুই মেয়েকে লেখাপড়া করাচ্ছি। যাতে তারা উন্নত জীবন যাপন করতে পারে।

মার্টিন নকরেক আরটিভি অনলাইনকে বলেন, আমাদের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা বেশি শিক্ষায়  এগিয়ে যাচ্ছে। স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেড়িয়ে তারা এখন উচ্চ শিক্ষার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এখন তাদের একটাই লক্ষ্য সমাজের সব সেক্টরে নিজেদের অবস্থানকে সুদৃঢ় করা।

কুল্লাগড়া গ্রামের জুয়েল আরেং আরটিভি অনলাইনকে বলেন, খ্রিস্টান মিশনারিজের সহযোগিতায় দুর্গাপুর-কলমাকান্দা উপজেলায় বসবাসরত বেশির ভাগ আদিবাসীই তাদের সন্তানদের লেখাপড়া করাচ্ছে। অনেকেই উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে ভালো ভালো পদে চাকরি করছে।

বিরিশিরি কালচারাল একাডেমির উপ-পরিচালক বলেন, গারো-হাজংদের রাজধানী হিসেবে খ্যাত দুর্গাপুর-কলমাকান্দা উপজেলায় প্রায় অর্ধ লাখ উপজাতির বসবাস। তারা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে রক্ষার পাশাপাশি লেখাপড়াকে মূল ব্রত হিসেবে নিয়েছে। বর্তমান সরকার শতভাগ শিশুকে বিদ্যালয়মুখী করতে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার পরও যখন ৭০ ভাগের বেশি শিশু বিদ্যালয়ে যাচ্ছে না সেখানে উপজাতি জনগোষ্ঠীর প্রায় শতভাগ শিশু বিদ্যালয়ে যাচ্ছে।

বিরিশিরি কালচারাল একাডেমির পরিচালক শরবিন্দু সরকার স্বপন হাজং আরটিভি অনলাইনকে বলেন, এ অঞ্চলে গারো সম্প্রদায়ের লোকজন প্রায় শতভাগ এবং হাজং সম্প্রদায়ের  প্রায় ৬০ ভাগ লোক শিক্ষিত। তারা শিক্ষাকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী, আত্ম-নির্ভরশীল ও তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে জীবনের একমাত্র ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছে। এছাড়াও গারো হাজংরা তাদের নিজস্ব মাতৃভাষাকে ধরে রাখার জন্য  তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত বিভিন্ন বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করছে।

রানীখং মিশনের ফাদার নীলুস এস রিছিল আরটিভি অনলাইনকে বলেন, দুর্গাপুর-কলমাকান্দায় বাঙালিদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর লোকজন লেখাপড়ার পাশাপাশি নির্বিঘ্নে তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ধর্মকর্ম পালন করে আসছে। এখানে কেউ কারো ধর্মকর্ম পালনে বাধা দেয় না। গারো সম্প্রদায়ের প্রধান উৎসব ওয়ানগালা এবং হাজংদের প্রধান উৎসব দেউলী উৎসবে সকলে আনন্দ উপভোগ করে আসছে।

গারো-হাজং সম্প্রদায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের প্রত্যাশা, গারো ও হাজং সম্প্রদায়ের লোকজন যাতে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সরকারি চাকরির পাশাপাশি অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের মূল স্রোতে প্রবেশ করতে পারে তার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আরও বেশি উন্নয়ন পদক্ষেপ নিতে হবে।

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • দেশজুড়ে এর সর্বশেষ
  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়