logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬

১০০ কেজি ওজনের বাঘাইড় মাছের দাম ১ লাখ ২০ হাজার টাকা

বগুড়া প্রতিনিধি, আরটিভি অনলাইন
|  ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৮:৩১ | আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০:৩০
পোড়াদহ মেলা
বগুড়ার পোড়াদহ মেলা

বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলায় একটি ১০০ কেজি ওজনের বাঘাইড় মাছের দাম ১ লাখ ২০ হাজার টাকা হাঁকা হয়েছে। তবে মাছটি কেউ এককভাবে কিনতে পারেনি। পরে তা কেটে ১ হাজার ২০০ টাকা করে কেজি প্রতি বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়াও মেলায় ২০ থেকে ৮০ কেজি ওজনের বাঘাইড় মাছ, দুই থেকে ৪ কেজি ওজনের মিষ্টি পর্যন্ত বেচাকেনা হয়েছে।

বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বগুড়ার গাবতলী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলায় এসব বিক্রি হয়েছে। মাছ ও মিষ্টির জন্য বিখ্যাত হয়ে উঠা এই মেলায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠে। বেলা গড়াতে থাকার সঙ্গে সঙ্গে মেলায় ভিড়ও বাড়তে থাকে। বিকেলের দিকে মেলা পরিণত হয় লোকারণ্যে। মেলার পাশের সড়কগুলো কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানজট দেখা দেয়।


 
গাবতলীর চকমড়িয়া গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী জানান, যমুনা নদীর ১০০ কেজি ওজনের বাঘাইড় কেটে বিক্রি করছেন ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে। আর ৮০ কেজি ওজনের বিশাল আকৃতির মাছটি বিক্রিও জন্য দাম হাঁকা হয়েছে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজিতে।

এই মেলায় ১৭ কেজি ওজনের বোয়াল মাছের দাম হাঁকা হয়েছে প্রতি কেজি ১ হাজার ৬০০ টাকা, ১৫ থেকে ১৮ কেজি ওজনের কাতলা মাছ ২ হাজার ২০০ টাকা কেজি, ৮ থেকে ১০ কেজি ওজনের কাতলা মাছ ১ হাজার ২০০ টাকা, ১০ কেজির উপরে আইড় মাছ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া রুই, পাঙ্গাস, ব্রিগেড অন্যান্য জাতের মাছ উঠেছে মেলায়।

গাবতলী উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নের ইছামতির নদীর তীরে পোড়াদহ এলাকায় বসেছিল প্রায় চারশ’ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী ‘পোড়াদহ’ মেলা।

বুধবার দিনব্যাপী সেখানে মাছ ও মিষ্টির মেলা বসানো হয়। পাশাপাশি খেলনা, কসমেটিক সামগ্রীসহ বরই ও নানান পণ্যের পসরা নিয়ে বসেছে দোকানীরা । সেই সঙ্গে ছিল নাগরদোলাসহ গ্রামীণ নানা ধরনের খেলার আয়োজন।

মেলার উদ্যোক্তাদের একজন মহিষাবান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছরের মাঘ মাসের শেষ বুধবার প্রথম দিকে সন্ন্যাসী মেলা হিসেবে পরিচিতি লাভ করে এই মেলা। মেলাটি কালের বিবর্তনে হয়ে ওঠে পূর্ব বগুড়া বাসীর মিলন মেলা। পোড়াদহ নামক স্থানে হয় বলে এ মেলার নাম হয়ে যায় পোড়াদহ মেলা। আবার অনেকেই এটাকে জামাই মেলা বলেও অভিহিত করেন। মেলাকে ঘিরে আশপাশে প্রায় ২০ গ্রামের মানুষ মেয়ে ও জামাইকে নিমন্ত্রণ দিয়ে আপ্যায়ন করে থাকেন। এ কারণে স্থানীয়রা আবার এ মেলাকে জামাই মেয়ে বলে থাকেন।

মেলার জন্য ১০ কেজি ওজনের মাছ আকৃতির মিষ্টি তৈরি করেছেন ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফ। মহিষাবান এলাকার ব্যবসায়ী লতিফের দোকানে এ মিষ্টির দাম হাঁকানো হয়েছে ৪ হাজার টাকা। এছাড়া এক কেজি,  ২ কেজি, ৩ কেজি, ৪ কেজি ওজনের মিষ্টিও মেলায় পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন নামে। ২০০ মণ মিষ্টি রয়েছে এ দোকানে।  এ মেলায় মাছ, মিষ্টি, ফার্নিচার, বড়ই, পান সুপারি, তৈজসপত্র, খেলনা থাকলেও কালক্রমে মাছের জন্য বিখ্যাত হয়ে আসছে। মেলায় নাগরদোলা, চরকি, সার্কাসসহ শিশুদের জন্য অন্যান্য খেলা চলছে।

মেলায় মাছ ক্রয় করতে আসা বগুড়া শহরের ফুলবাড়ী এলাকার ব্যবসায়ী রাশেদুল আলম জানান, তিনি সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ৮ কেজি ওজনের একটি কাতলা মাছ প্রতি কেজি ১ হাজার ২০০ টাকা দরে ক্রয় করেছেন।


 
স্থানীয় সমাজ সেবক লুৎফর রহমান সরকার স্বপন জানান, হাজার হাজার মানুষের পদচারণা হয়ে থাকে এ মেলায়। । জামাই মেয়েসহ আত্মীয় স্বজনদের পদচারনায় মুখর হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা।
 
এলাকার প্রবীণদের মধ্যে মোখলেছুর রহমান জানান, মেলাস্থল পোড়াদহ এলাকায় ইছামতি নদীর তীরে ছিলো একটি বিশাল বটবৃক্ষ। বটবৃক্ষটি এক সময় মরে যায়। সেখানে একদিন হঠাৎ এক সন্ন্যাসীর আবির্ভাব ঘটে। পরে সেখানে আশ্রম তৈরি করেন সন্ন্যাসীরা। কথিত আছে সেখানে সন্ন্যাসীদের সাধনার ফলে মৃত বটগাছটি জীবিত হয়। পরে স্থানটি পুণ্যস্থানে পরিণত হয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে। সেই থেকে প্রতি বছর মাঘের শেষ বুধবার সেখানে মেলা বসে।

আরও জানা যায়, প্রতিবছর মাঘের শেষ বুধবার ওই স্থানে সন্ন্যাসী পূজার আয়োজন করে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। সমাগত হন দূর-দূরান্তের ভক্তরা। কালের বিবর্তনে স্থানটিতে লোকজনের উপস্থিতি বাড়তেই থাকে। এভাবে গোড়াপত্তন ঘটে পোড়াদহ মেলার। ধীরে ধীরে ধর্মের গণ্ডি পেরিয়ে সব ধর্মের মানুষের মেলবন্ধনে পরিণত হয় এই মেলা। মেলাটি একদিনের। তবে উৎসবের আমেজ থাকে সপ্তাহব্যাপী। নতুন জামাই-বউ ও স্বজনরা মিলে এ উৎসব করেন। মেলাটি সবার কাছে ‘পোড়াদহ’ মেলা নামেই সর্বাধিক পরিচিত।

বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ জানান, পোড়াদহ মেলাটি সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালন করছে। এখানে কোনও প্রকার জুয়া কিংবা অশ্লীল নাচ-গান করার চেষ্টা হলে তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে জানান পুলিশ সুপার।

এজে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • দেশজুড়ে এর সর্বশেষ
  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়