logo
  • ঢাকা বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

ওমানে বাংলাদেশির মৃত্যু

‘আমার ধার কীভাবে পরিশোধ হবে’

‘আমার ধার কীভাবে পরিশোধ হবে’
ছবি: সংগ্রহীত

ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় মৌলভীবাজারের তিনজনসহ পাঁচ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহত পাঁচজনের মধ্যে তিনজনের বাড়ি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর ও হাজীপুর ইউনিয়ন এবং কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নে। রোববার ওমান সময় বিকেল সাড়ে ৪টায় ওমানের আদম এলাকায় এ সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটে। পাশে থাকা প্রবাসীদের মাধ্যমে মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহত তিনজনের গ্রামের বাড়িতে শুরু হয় শোকের মাতম।

জানা যায়, রোববার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কাজ শেষে স্ব স্ব বাসায় বাইসাইকেল যোগে ফেরার সময় প্রাইভেট কারের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই চার বাংলাদেশির মৃত্যু হয়। আশঙ্কাজনক একজনকে হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান। মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচ বাংলাদেশির তিনজন মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের বিলেরপার গ্রামের লিয়াকত আলী (৩৫), শরীফপুর ইউনিয়নের সঞ্জরপুর গ্রামের সবুর আলী (৩৩) ও কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের চিতলীয়া বাজারের টিলালাইন এলাকার আলম আহমেদ (৩৫)। বাকী দু’জনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

ওমানে কর্মরত লিয়াকত আলীর শ্যালক জসিম উদ্দীন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলেই তিনজনকে চিনতে পারলেও দুইজনের চেহারা বিকৃতি হওয়ায় তাদের চিনতে পারেননি।

কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের নিহত আলমের ছোট ভাই ওয়াসিম বলেন, আমার বড় ভাই পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার আশায় বাড়িতে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে রেখে ধার করে ৬ মাস আগে ওমানে পাড়ি দেন। নিহতের স্ত্রী নাসিমা বেগম বলেন, প্রবাস আমার সংসার জীবনকে তছনছ করে দিয়েছে। ধার করে আমার স্বামী বিদেশে গিয়েছিলেন পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে। এখন এই ধার কিভাবে পরিশোধ করবো।

এদিকে, মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় আলম মিয়া নিহত হওয়ায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের লিয়াকত আলীর চাচা বিজিবির (অব.) মাসুদুর রহমান জানান, বিলেরপাড় গ্রামের মুসলিম আলীর ছেলে লিয়াকত প্রায় ৪ বছর আগে ওমানে যান। তার স্ত্রী ও ৯ বছর বয়সের এক সন্তান রয়েছে। কনস্ট্রাকশনের কাজ করে পরিবার চালাতেন লিয়াকত। পাসপোর্ট নবায়ন করে দু’মাস পরে দেশে আসার কথা ছিল। তার মৃত্যুর সংবাদে গ্রাম জুড়ে চলছে শোকের মাতম। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে লিয়াকত সবার ছোট।

কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের সঞ্জরপুর গ্রামের নিহত সবুর আলীর মামাতো ভাই কামাল খান জানান, গ্রামের আব্দুস শহীদ এর ছেলে সবুর আলী ১০ বছর ধরে ওমানে আছেন। দুই বছর আগে দেশে আসেন। কিছুদিন থাকার পর আবার ওমান পাড়ি জমান। মা আছেন। বাবা নেই। চার ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি ৩য়। নিহত সবুরের ২ মেয়ে ১ ছেলে রয়েছে। তার গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

এজে

RTVPLUS