logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২০, ১১ মাঘ ১৪২৭

মানিকগঞ্জে মা-ছেলে খুন

‘বিয়ের চাপ দেয়াতেই ভাবি-ভাতিজাকে খুন করেন সোলাইমান’

স্টাফ রিপোর্টার, মানিকগঞ্জ, আরটিভি অনলাইন
|  ১১ জানুয়ারি ২০২০, ১৫:২৫ | আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২০, ১৫:৩১
আটক ভাবি ভাতিজা
মিানিকগঞ্জে মা-ছেলে খুনের ঘটনায় আটক সোলাইমান
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী পারভীন আক্তার ও তার শিশু সন্তান আব্দুল নূরকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে দেবর সোলাইমান হোসেন।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট আমলি আদালতে-৯  এর  বিচারক জান্নাতুল রাফিন সুলতানার কাছে মামলার একমাত্র আসামি সোলাইমান হোসেন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বিষয়টি জানিয়েছেন, মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম।

আসামি সোলাইমানকে রাতেই আদালত থেকে জেলা হাজতে পাঠানো হয় বলে জানান তিনি।

আসামি সোলাইমান হোসেনের ভাষ্য, তিন মাস আগে তিনি মালয়েশিয়া থেকে পড়াশুনা করে দেশে ফিরেন। পরে মেঝ ভাই সৌদি প্রবাসী মজনুর স্ত্রী পারভীন আক্তারের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।  আট জানুয়ারি ভোর রাতে ভাবী পারভীনের ঘরে প্রবেশ করেন।

তাদের মধ্যে দৈহিক সম্পর্কের একপর্যায়ে পারভীন আক্তার সোলাইমানকে বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করে। সোলাইমান দুই ভাতিজা  আব্দুল করিম (১০) ও আব্দুল নুর (৬) এর কথা চিন্তা করে বিয়ের জন্য রাজি হয়নি। বিয়েতে রাজি না হওয়াতে পারভীন আক্তার হুমকি দেন  তার নিজের দুই ছেলে, স্বামী ও সোলাইমানকে হত্যা করা হবে। এই নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ সময় সোলাইমান ঘরে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে ভাবী পারভীনের গলায় পাড় দিয়ে হত্যা করে। ওই সময় ভাতিজা আব্দুর নুর জেগে ওঠলে তাকে চাকু দিয়ে হত্যা করে। দুইজনের হত্যা নিশ্চিত করে রক্তমাখা চাকু ও তার পরিহিত কাপড় চোপড় ধুয়ে ফেলে। এরপর নিজ ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।

এই ঘটনায় নিহত পারভীনের মা মজিরন বেগম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

নিহত নুরের দাদা কারী আব্দুর রহমান জানান,  তার ছেলে সোলাইমানের মতো এ গ্রামে একটি ছেলে নেই। সে কোনও নেশা করে না। পুলিশ তাকে ফাঁসানোর জন্য ধরে নিয়ে গেছে। তার সঙ্গে আমার পরিবারের কাউকে দেখা করতে দিচ্ছে না। তিনি আরও জানান, তার ছেলে মালয়েশিয়া থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারে লেখাপড়া করে কিছুদিন ধরে ছুটি নিয়ে বাড়ি এসেছে।

আপনার বাড়িতে বহিরাগত কেউ আসে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, মাঝে মধ্যে অপরিচিত একাধিক ছেলে আসত বৌমার কাছে। কিন্তু তাদের তিনি চিনেন না।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) আবুল কালাম (পিপিএম) আরটিভি অনলাইনকে জানান,  সাটুরিয়াতে মা-ছেলে জোড়া খুনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সোলাইমান জড়িত। তাকে গেল বৃহস্পতিবার রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে সাটুরিয়া থানা পুলিশ জোড়া খুনের আলামত সংগ্রহ করছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ধর্ষণের কোনও আলামত পাওয়া গেছে কিনা জানতে চাইলে পুলিশ জানায়, ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে বুঝা যাবে  নিহত নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে কিনা।

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • দেশজুড়ে এর সর্বশেষ
  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়