logo
  • ঢাকা শনিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২০, ৫ মাঘ ১৪২৭

বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক, স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

নওগাঁ প্রতিনিধি, আরটিভি অনলাইন
|  ০৯ জানুয়ারি ২০২০, ২১:২২
শারীরিক সম্পর্ক, স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

নওগাঁয় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর সঙ্গে দুই বছর ধরে শারীরিক সম্পর্ক করার অভিযোগ উঠেছে যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত যুবকের নাম ইমরান হোসেন ইমন। সে নওগাঁ সদর উপজেলার চকবুলাকী গ্রামের ইয়াছিন আলীর ছেলে।

এদিকে শারীরিক সম্পর্ক করার পরও ইমরান হোসেন বিয়ে না করায় ওই ছাত্রী আজ বৃহস্পতিবার গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে রানীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। বর্তমানে ওই ছাত্রী কিছুটা সুস্থ হলেও মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েছে।
 
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একই গ্রামের ইয়াছিন আলীর ছেলে ইমরান হোসেনের সঙ্গে ওই ছাত্রীর প্রেম ছিল। এ সময় ইমরান বিয়ে করার প্রতিশ্রুতিতে গত দুই বছর ধরে ওই ছাত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) রাতে ইমরান গোপনে ওই ছাত্রীর ঘরে প্রবেশ করলে ওই ছাত্রীর পরিবার বিষয়টি বুঝতে পারেন।

পরে এ ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাদের দুজনের বিয়ে দেওয়ার কথা বলেন। কিন্তু ছেলে পক্ষের পরিবার বিয়ে না দিয়ে টাকা দিয়ে ঘটনাটির সমাধান করতে চেষ্টা করেন। তবে মেয়ের পরিবারে এতে রাজি হয়নি। বরং তারা বিয়ের জন্য চাপ দেন।

স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধান না হওয়ায় গত মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) রাতে ওই মেয়ের পরিবার থানায় একটি  অভিযোগ করেন। এমতাবস্থায় ওই মেয়ে লোকলজ্জা থেকে মুক্তির জন্য আজ বৃহস্পতিবার সকালে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

এ বিষয়ে ওই ছাত্রীর বাবা বলেন, আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে থানায় অভিযোগ দিয়েছি। তবে, ছেলের পরিবার প্রভাবশালী ও অর্থশালী হওয়ার কারণে আমরা সুষ্ঠু বিচার পাওয়া নিয়ে চরম আতঙ্কে রয়েছি।
 
এদিকে অভিযুক্ত ইমরান হোসেন ইমন এলাকায় না থাকায় এবং মোবাইল বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় চন্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বেদারুল ইসলাম মুকুল বলেন, ঘটনার পর একাধিক বার বৈঠকে বিয়ের মাধ্যমে সমাধান করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহরায়ার্দী হোসেন বলেন, অভিযোগের পর মেয়ের জবানবন্দি নেয়া হয়েছে। এছাড়াও ডাক্তারি প্রতিবেদন পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছি। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ইমরান হোসেন পলাতক থাকায় তাকে এখনও আটক করা সম্ভব হয়নি।

এজে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • দেশজুড়ে এর সর্বশেষ
  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়