logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২০, ১১ মাঘ ১৪২৭

টাঙ্গাইলে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে অভিনব কায়দায় প্রতারণার চেষ্টা

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি, আরটিভি অনলাইন
|  ০৪ জানুয়ারি ২০২০, ১২:২৩
টাঙ্গাইলে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে অভিনব কায়দায় প্রতারণার চেষ্টা

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অভিনব কায়দায় প্রতারণার ফাঁদে ফেলে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়া চেষ্টা করছে একটি প্রতারক চক্র। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে পুলিশকে জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত প্রতারক চক্রের কোনও সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

উপজেলার মহেড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা কাজী কাশেম জানান, ‘গত মাসের শেষের দিকে প্রথমে ০১৮৯০১৫১২৭৩ নম্বর থেকে ইউএনও পরিচয়ে ফোন দিয়ে জানানো হয় আপনার নামে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে অনুদান এসেছে। এরপর ০১৮৯০৫০৯৫০৪ নম্বর থেকে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক পরিচয় দিয়ে বলা হয় ২৮ হাজার ৫০০ টাকা বিকেল পাঁচটার আগে বিকাশ করুন এবং আপনার নামে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আসা অনুদানের ২ লাখ ৭০ হাজার টাকার চেকটি আগামীকাল ব্যাংকে এসে দয়া করে নিয়ে যাবেন।’

তিনি ঘটনাটি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার অধ্যাপক দুর্লভ বিশ্বাসকে জানালে তিনি বলেন বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করেন। পরে তিনি ঘটনাটি ইউএনওকে অবহিত করতে বলেন। ইউএনওকে জানালে ঘটনাটি প্রতারণা চেষ্টা বলে প্রমাণিত হয়।

একই দিন একই কায়দায় ওই দুই নম্বর থেকে মহেড়া ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জহিরুল ইসলামকে ফোন করা হয়। তবে অনুদানের টাকা এক লাখ ৭০ হাজার এবং এজন্য ফেরত যোগ্য ১৮ হাজার ৫০০ টাকা বিকাশ করতে বলা হয়। এছাড়া একই ইউনিয়নের স্বল্প মহেড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ময়নায় হক, আলাল উদ্দিন, আদিবর রহমান, হিলড়া গ্রামের আব্দুল রহমান, একই গ্রামের প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা নয়নের ছেলে ছোবহানের কাছেও একই নম্বর থেকে মোবাইল করে অনুদানের টাকা পেতে বিভিন্ন অংকের টাকা ফেরতযোগ্য বলে বিকাশ করতে বলা হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে গোড়াই লালবাড়ি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা রুপচাঁদ মন্ডলের কাছে ০১৮৯০১৫১২৭৩ নম্বর থেকে ইউএনও পরিচয়ে এবং পরে ০১৮৭৭৬২০০৯৭ নম্বর থেকে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক পরিচয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা অনুদান এসেছে বলে জানানো হয়। এজন্য তাকে ফেরতযোগ্য ২৯ হাজার ৫০০ টাকা বিকাশ করতে বলা হয়। তবে প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে কেউ প্রতারিত হয়নি বলে জানা গেছে।

এদিকে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারে সদস্যদের সঙ্গে অভিনব প্রতারণা চেষ্টার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষ ।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার অধ্যাপক দুর্লভ বিশ্বাস দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই প্রতারক চক্রকে চিহ্নিত করার জোর দাবি জানান।

এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সায়েদুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে। দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

এজে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • দেশজুড়ে এর সর্বশেষ
  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়