logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২০, ৪ মাঘ ১৪২৭

কম্বল পল্লীতে বেড়েছে কর্মীদের ব্যস্ততা

সুকান্ত সেন, সিরাজগঞ্জ, আরটিভি অনলাইন
|  ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৩:২৬
কম্বল সেলাই সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলায় শিমুল দাইড় গ্রামে কম্বল সেলাইয়ে ব্যস্ত শিল্পীরা
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলায় শিমুল দাইড় গ্রাম বাংলাদেশের কম্বল শিল্পে এক পরিচিত নাম। এই এলাকায় তৈরি করা কম্বলের বিশেষ গুণের কারণে প্রতি বছর শীতকালে দেশের তৃণমূলের মানুষের কাছে এই কম্বল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

দাম কম হওয়ায় এর চাহিদা সাধারণ মানুষের কাছে যেমন অনেক বেশি, ঠিক তেমনই দামের তুলনায় গুণগত মানও অনেক ভালো হওয়ায় দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় এই কম্বলের বিশেষ কদর রয়েছে। তাই প্রতি বছরের মতো এবারও শীতের আগমনী বার্তায় এই এলাকার কম্বল তৈরিতে শিল্পীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। শীতের কিছুদিন আগে থেকে বছরের প্রায় ছয় মাস এই শিল্পের পণ্য চাহিদার যোগান দিতে হয় বলে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত প্রতিটি মানুষ এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে কাজিপুর উপজেলায় ২০টি গ্রামের অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ এই কম্বল শিল্পের সঙ্গে জড়িত। যাদের তিন চতুর্থ অংশই হচ্ছেন নারী। তবে মূল উদ্যোক্তা পুরুষদের নেতৃত্বেই এই  শিল্প বিকশিত হচ্ছে।

বর্তমানে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন অনেক শিক্ষিত তরুণসহ স্কুল-কলেজে পড়ুয়া অনেক ছাত্র-ছাত্রী। কেউ পড়ালেখা শেষ করে এই শিল্পে কর্মরত হয়েছেন আবার কেউবা পড়া লেখার পাশাপাশি এই শিল্পে  কর্মরত হয়েছেন। এতে করে তাদের যা আয় রোজগার হচ্ছে তাতে এলাকাটি এখন প্রায় সচ্ছল বলা যায়। কম্বলের শুধুমাত্র  শীতকালীন চাহিদা থাকায় বছরে প্রায় ছয় মাস এ শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের ব্যস্ততা বেশি থাকে।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে জেলার কাজিপুর শিমুল দাইড়, ছালাভড়া, ভবানীপুর, রোহ বাড়ী, পরানপুর, ঢেকুরিয়া, বেলতৈলসহ বেশকটি গ্রামে গিয়ে দেখা যায় কম্বল তৈরিতে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন এসব গ্রামের নারী-পুরুষসহ পরিবারের  সবাই।

কম্বল শিল্পী মোকলেছুর রহমান, হাসান আলী, আবুল কাশেম জানান, প্রতি বছর এই সময় আমরা প্রায় দিন-রাত কাজ করি। একেকজন প্রতি দিন পাঁচ থেকে ছয় শত পিস কম্বল সেলাই করে। প্রতিটি কম্বল সেলাই করে পাঁচ টাকা পাওয়া যায়। তাতে আমাদের  ছয় মাসে যে আয়  হয় তা দিয়ে আমাদের বছর চলে যায়।

সহায়ক কর্মী শিক্ষিত তরুণ সোহান, রিমন হাসান, সুমন মিয়া  জানান, লেখাপড়া শেষ করে চাকরি পাচ্ছিলাম না। অবশেষে এখানে কম্বল ভাজ করে প্যাকেজিং কাজ করছি। শীতকে সামনে রেখে আমাদের কাজের চাপ অনেক বেশি। আয় রোজগারও অনেক বেশি হচ্ছে বলে আনন্দের সঙ্গেই আমরা কাজ করছি।

শীতের সময় এই এলাকার প্রতিটি কম্বল কারখানায় ঝন ঝন মেশিনের শব্দ দিন রাত মুখরিত করে  ব্যস্ত সবাই এ কথাটিই যেন জানান দেয়।

পাশের কাসিয়া হাটা গ্রামের নূরজাহান, নাছিমা খাতুন গ্রামের নারীদের নিয়ে তৈরি করছেন। কম্বল তৈরির পর অবশিষ্ট কাটা অংশ দিয়ে বাচ্চাদের পাজামা। কথা হয় তাদের সঙ্গে। নূরজাহান জানান, এই কাটা কাপড় শিমুল দাইর কম্বল কারখানা থেকে আমরা কেজি হিসেবে, বস্তা হিসেবে কিনে সেগুলো জোড়া দিয়ে বাচ্চাদের শীতের পোশাক বানাই। তাতে আমাদের ভালোই আয় থাকে। শীতকাল তাই এ পোশাকের এখন চাহিদাও অনেক বেশি। এখন আমরা অনেক ব্যস্ত। প্রায় দিন-রাত কাজ করতে হচ্ছে।

কম্বল ব্যবসায়ী জিয়াউল হক, বকুল মিয়া জানান, আমাদের এখন দিন রাত ব্যস্ততা দেশের প্রায় জেলার দোকানিরা কম্বল কিনতে আমাদের কাছে আসছেন। আবার কিনে নিয়েও যাচ্ছেন। আমাদের এখানে দুইশত টাকা থেকে এক হাজার দুইশত টাকার মধ্যে কম্বলগুলো বিক্রি হচ্ছে  বলে চাহিদাও অনেক বেশি।

শিমুল দাইড় বাজারের কম্বল ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম আরটিভি অনলাইনকে বলেন, প্রতি বছর শীতকালকে সামনে রেখে জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে আমাদের কম্বল উৎপাদন কাজ পূর্ণমাত্রায় হয়ে থাকে যেটি চলে প্রায় ছয় মাস। এরপর কম্বলের চাহিদা কম থাকায় আমাদের উৎপাদন অনেকটা কম থাকে। এই ছয় মাসে শিমুল দাইড় বাজার হতে বিভিন্ন প্রকার  কম্বল, বাচ্চাদের শীতের জামা, পায়জামা বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় অর্ধ কোটি টাকার কেনা-বেচা হয় এই এলাকায়।

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • দেশজুড়ে এর সর্বশেষ
  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়