logo
  • ঢাকা রোববার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

কক্সবাজার প্রতিনিধি, আরটিভি অনলাইন

  ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৩:০৮
আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৩:১৪

টেকনাফ সীমান্তে থামছে না ইয়াবা পাচারের হিড়িক

ইয়াবা পাচার টেকনাফ
প্রতীকী ছবি
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সীমান্ত জুড়ে ফের ইয়াবা পাচারের হিড়িক পড়েছে। প্রতিনিয়ত সীমান্তের কোনও না কোনও পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমার হতে পাচার হয়ে আসছে ভয়ঙ্কর মাদক ইয়াবার বড় বড় চালান। এর মধ্যে সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বেশ কিছু বিশালাকারের ইয়াবার চালান জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে।

এ সময় পাচারে জড়িত রোহিঙ্গা ও নারীসহ বেশকিছু মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। চলতি ডিসেম্বরে দুই সপ্তাহে র‌্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ১৭ লাখ ৪২ হাজার ৯৭০ পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে। এদিকে মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানে গত দেড় বছরে টেকনাফে দেড় শতাধিক মাদক কারবারে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও  আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নিজেদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হলেও নতুন করে ইয়াবার পাচার বেড়ে যাওয়ায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন সচেতন মহল।

এদিকে গতকাল শুক্রবার ভোরে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে আট লাখ ১৪ হাজার ৯৭০ পিস ইয়াবা ও  ছয়টি অস্ত্র উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৭।

র‌্যাব সূত্রে জানা যায়,  শুক্রবার ভোরে র‌্যাব-৭ এর একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার হ্নীলা ইউপির রঙ্গীখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবাকারবারী ইয়ার মোহাম্মদের ছেলে নুর হাফেজ, দলিলুর রহমানের ছেলে ছৈয়দ আলম প্রকাশ কালু, ছৈয়দ হোসেনের ছেলে ছৈয়দ নুর, সব্বির আহমদের ছেলে মোহাম্মদ সোহেলকে আটক করেছে। পরে আটককৃতদের স্বীকারোক্তিতে তল্লাশি চালিয়ে আট লাখ ১০হাজার পিস ইয়াবা, ছয়টি অস্ত্র ও ৭০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব-৭ চট্টগ্রামের অপারেশন অফিসার এএসপি মাশেকুর রহমান আরটিভি অনলাইনকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাদের কার্যক্রমের ওপর নজর রাখার পর শুক্রবার ভোরে তাদের এসব অস্ত্র ও ইয়াবাসহ আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে একইদিন ভোর রাতে নব গঠিত র‌্যাব-১৫ এর  একটি টহল টেকনাফ উপজেলার সদর ইউনিয়নের হাবিবছড়া গ্রামস্থ মেরিনড্রাইভ সড়কে ইয়াবা ক্রয়-বিক্রয়কালে চার হাজার ৯৭০ পিস ইয়াবাসহ চার মাদক ব্যবসায়ীকে  আটক করতে সক্ষম হয়।

আটককৃতরা হলেন, হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা এলাকার মকতুল হোছেনের ছেলে কামাল হোসেন  (২৯), আক্তার হোসেন (৩২), মো. নুর (২০), ও আবুল হোছেনের ছেলে আব্দুল মালেক (২৬)।

র‌্যাবের সহকারী পরিচালক পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ শেখ সাদী সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

অন্যদিকে গত ১০ডিসেম্বর টেকনাফে পৃথক দুটি অভিযানে দুই লাখ ৮০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করেছে কোস্টগার্ড। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন কোস্টগার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লে. শাহ জিয়া।

আবার একইদিন মঙ্গলবার ভোরে হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমোরা এলাকায় বিজিবি সদস্যরা অভিযান চালিয়ে এক লাখ ২০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করেন। এ সময় বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ইমাম হোসেন (২৫) নামে এক পাচারকারী নিহত হন।

অপরদিকে গেল এক ডিসেম্বর হোয়াইক্যং আমতলী এলাকা থেকে ৩০ হাজার ইয়াবাসহ জয়নাল নামে এক ইয়াবাকারবারীকে আটক করে বিজিবি জওয়ানরা। একই দিন রাতে র‌্যাব-১৫ টেকনাফ ক্যাম্পের অভিযানে জাদিমুড়া এলাকা হতে দুই লাখ ইয়াবাসহ আবুল কালাম নামে এক রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়। একই দিন বিজিবি জওয়ানরা মৌলভী বাজার এলাকা হতে আসমা খাতুন নামে এক নারীকে ৩৯৫০ পিস ইয়াবাসহ আটক করেন।

পরদিন দুই ডিসেম্বর বিজিবি জওয়ানরা হোয়াইক্যং ইউনিয়নের পূর্ব সাতঘরিয়া পাড়া এলাকায় আব্দুল মজিদের বসতভিটায় অভিযান চালিয়ে ৪০ হাজার ইয়াবাসহ বাড়ির মালিককে আটক করেন।

গেল তিন ডিসেম্বর বিজিবি জওয়ানরা দমদমিয়া ১৪ নম্বর ব্রিজ এলাকায় অপর এক অভিযানে দেড় লাখ ইয়াবাসহ দুই পাচারকারীকে আটক করতে সক্ষম হন।

চার ডিসেম্বর বিজিবি জওয়ানরা লেদা এলাকা হতে ৬০ হাজার ইয়াবা ও অস্ত্রসহ হ্নীলা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোতালেব ফরহাদকে আটক করেন।

সাত ডিসেম্বর ভোরে বিজিবি জওয়ানরা জাদিমুড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিয়ানমার হতে নদী সাঁতরে ৪৪ হাজার ইয়াবার চালান নিয়ে আসা রোহিঙ্গা হাফেজ আহমদকে আটক করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এতো অভিযানের পরও ইয়াবা পাচার বন্ধ না হওয়ায় সচেতন মহলকে ভাবিয়ে তুলেছে।

এ বিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ইয়াবা পাচার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বন্দুকযুদ্ধে অনেক শীর্ষ ইয়াবাকারবারী নিহত হয়েছেন। আত্মসমর্পণ করেছে তালিকাভুক্ত ১০২ ইয়াবা কারবারী।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে। তাহলেই সম্ভব ইয়াবা পাচার রোধ করা।

জেবি

RTVPLUS