logo
  • ঢাকা রোববার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

তিস্তাসহ ১৩ নদী শুকিয়ে মরা খাল

তিস্তা নাব্য নদী
নাব্য সংকটে শুকিয়ে গেছে তিস্তা
গজলডোবা ব্যারাজের বিরুপ প্রভাবে লালমনিরহাটের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তাসহ ছোট-বড় ১৩টি নদী শুকিয়ে এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে।

নাব্য হারিয়ে যাওয়ায় জীববৈচিত্র্য প্রাকৃতিক ভারসাম্য পরিবেশের মারাত্মক হুমকিসহ সেচ কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে দেখা দিয়েছে পানিশূন্যতা  এবং  বর্ষা মৌসুমে দেখা দেয় অকাল বন্যা। ফলে লালমনিরহাট ও তার আশপাশের জেলাগুলোতে কৃষি ব্যবস্থায় এর বিরুপ প্রভাব পড়েছে। দ্রুত নদী সংষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া না হলে অচিরেই এ জনপদের লাখ লাখ মানুষ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়বে এমনটি মনে করছেন নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষজন।

ঐতিহাসিকভাবে লালমনিরহাটসহ দেশের উত্তরাঞ্চলে বেশির ভাগ জেলা তিস্তা নদীনির্ভর। এ নদীগুলোর অসংখ্য শাখা-প্রশাখা জালের মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। তিস্তা নদীর উজানে গজলডোবা নামক স্থানে ভারত একটি বাঁধ নির্মাণ করেছে। এর গেট রয়েছে মোট ৫৪টি । এ বাঁধ নির্মাণের ফলে ভারতের দুই হাজার ৯১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ খালের মাধ্যমে এক হাজার ৫শ’ কিউসেক পানি মহানন্দা নদীতে প্রবাহিত করছে।

তিস্তা, মহানন্দা খালের মাধ্যমে জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং,পশ্চিম দিনাজপুর,  কোচবিহার ও মালদহ জেলায় সেচ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা  থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়ে বাংলাদেশ। বর্তমানে এ অঞ্চলের ভূগর্ভের পানির স্তর ক্রমেই নিচে নেমে যাচ্ছে। ফলে পানি সংকটে পড়েছে তিস্তাপাড়ের  শত শত কৃষক। শুধু তাই নয় তিস্তায় পানিশূন্যতার কারণে জেলেদের দুর্দিন চলছে। নদী, খাল-বিল শুকিয়ে যাওয়ায় মাছ শিকার করতে না পারায় তিস্তাপাড়ের কয়েক হাজার জেলে পরিবারের চলছে এখন দুর্দিন।

অনেকেই সংসার চালাতে তাদের বাপ-দাদার পেশা বদল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রতি বছর হাজার হাজার একর আবাদি জমি বন্যা ও নদী ভাঙনের ফলে বালুর আস্তরণে ঢেকে যায়। ফলে চাষাবাদের অযোগ্য হয়ে পড়ে জমি। মিঠা পানির মাছের অধিকাংশ প্রজাতি, কিট-পতঙ্গ, পাখি, বিভিন্ন প্রাণি যেমন কেচো, ব্যাঙ ক্রমান্বয়ে বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে। ইতোমধ্যে তিস্তা অববাহিকায় লালমনিরহাটের  অধিকাংশ নদ-নদী ও শাখা প্রশাখাগুলোসহ খাল, বিল, হাওর এবং জলাশয়গুলো শুকিয়ে গেছে।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার তিস্তা নদীসংলগ্ন  খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের নৌকার মাঝি আফতাফ উদ্দিন  (৫৫) জানান, নদী শুকনো পায়ে হেঁটে মানুষ পাড়ি দেয়। নৌকা চলাচল বন্ধ  হয়ে গেছে। তাই খুবই কষ্টে দিনাতিপাত করছি। এদিকে তিস্তার গভীরতা হ্রাস পাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে সামান্য পানিতেই দেখা দেয় ভয়াবহ বন্যা।

সেইসঙ্গে গাছপালা ও কৃষি উৎপাদনে বিশাল প্রভাব পড়েছে। শুধু তাই নয়, তিস্তা নদীর নাব্য সংকটে জলবায়ু পরিবর্তন হয়ে লালমনিরহাট ও তার আশপাশের  জেলাগুলো  হুমকির মুখে পড়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে   তিস্তা নদীর উজানে  ভারতের গজল ডোবায় বাঁধ নির্মাণ করায়  তিস্তা নদী ক্রমেই তার নাব্য হারিয়ে মরা তিস্তায় পরিণত হচ্ছে।

এমনকি  গোটা তিস্তা শুকিয়ে ধু ধু বালুচরে রূপ নিয়েছে। লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন আরটিভি অনলাইনকে জানান,  দীর্ঘদিন ধরে  কোনও ড্রেজিং না হওয়ায় নদের তলদেশে পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে জীববৈচিত্র্যসহ মৎস্য সম্পদ ও নানা জলজ প্রাণি।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী  এবি এম বজলে করিম আরটিভি অনলাইনকে বলেন, প্রতি বছর  বন্যার সময় নদীতে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে  বহুল আলোচিত তিস্তা নদীর পানি চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সরকারের মাধ্যমে বার বার আলোচনা হয়েছে এতে কোনও লাভ হয়নি। এর পরও  পানি  চুক্তির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন  তিস্তাপাড়ের লাখো মানুষ।

জেবি 

RTVPLUS