logo
  • ঢাকা শনিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ১২ মাঘ ১৪২৭

ড্রেজারে সংকোস নদীর সর্বনাশ

কুড়িগ্রাম (উত্তর) প্রতিনিধি, আরটিভি অনলাইন
|  ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৫:৪৪
ড্রেজার বালু নদী
সংকোস নদীতে এভাবেই ড্রেজার বসিয়ে উত্তোলন করা হচ্ছে বালু
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা থানার সংকোস নদীতে অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে বালুর ব্যবসা করছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। ড্রেজার মেশিনের তাণ্ডবে সংকোস নদী এখন সর্বনাশের মুখে। বালু সিন্ডিকেটের একটি দল বছরের পর বছর এই নদীর  বিভিন্ন স্থানের বালু তুলে নদীকে করেছে ক্ষত-বিক্ষত। বালু তোলায় ভাঙছে নদীর পাড়সহ স্থানীয়দের আবাদি জমি। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র ড্রেজার বসিয়ে বালু তোলায় হুমকির মুখে আছে কচাকাটা ব্রিজ, গাবতলা ব্রিজ, কচাকাটা ডিগ্রি কলেজসহ কয়েকটি সরকারি স্থাপনা। মাঝে মধ্যে স্থানীয়দের অভিযোগে প্রশাসন অভিযান চালালেও থামছে না সংকোসের বালু উত্তলোন। 

উপজেলার কচাকাটা থানার কেদার, কচাকাটা এবং বল্লভের খাষ ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে চলা এ নদীতে দশটির অধিক ড্রেজার বালু উত্তলোনের কাজে চালু থাকে। বর্তমানে এ নদীর কেদার ইউনিয়নের সাতানা গ্রামের অংশে হাফিজুর ইসলাম নামের একজনের একটি, বল্লভের খাষ ইউনিয়নের গাবতলা সেতুর  কাছে গাজিউরের  দুটি এবং  বল্লভের খাষ  পুরাতন পরিষদের কাছে লিংকন নামের একজনের একটি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন চলছে। এছাড়া এই তিন ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ ড্রেজার দিয়ে দুধকুমার নদসহ সরকারি এবং মালিকাধীন জলাশয় থেকে বালু উত্তলোন করে থাকে একাধিক ড্রেজার মালিক। এমনকি সড়ক ও জনপদের সড়কের ওপর এবং নিচ  দিয়ে পাইপ বসিয়ে বালু তোলার দৃশ্যও দেখা যায় হরহামেশা।

বল্লভের খাষ ইউনিয়নের ড্রেজার মালিক ও ইউপি সদস্য গাজিউর রহমান আরটিভি অনলাইনকে জানান, কচাকাটা থানা এলাকায় ছোট-বড় প্রায় ২০টি ড্রেজার চলে। তিনি নিজেও দুইটা ড্রেজারের মালিক। কখনও সংকোস আবার কখনো দুধকুমার নদে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে থাকেন। বর্তমানে সংকোস নদীতে দুইটি ড্রেজার চলমান রয়েছে তার।

এদিকে বরিশালের হাফিজুর ইসলাম দীর্ঘদিন থেকে বড় ড্রেজার দিয়ে বালু তুলে ব্যবসা করছে বলেও তিনি জানান। এছাড়া কেদার ইউনিয়নের কেরাম আলী, কাচুয়া, মোস্তফা, বল্লভের খাষ ইউনিয়নের বাচ্চু, হেলাল, বয়েজতুল্লাসহ দশ বারোজন এসব অবৈধ ড্রেজার  ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

কেদার ইউনিয়নের ভূমি উপ-সহকারী মাসুদ জানান, অবৈধ ড্রেজার বন্ধে আমরা প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবে এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির কারণে তা সফল হচ্ছে না। 

নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুর-আহমেদ মাছুম জানান, অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে অভিযান সরকারি নিয়ম অনুযায়ী চলমান আছে। সংকোস নদীতে ড্রেজারের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে অভিযোগ পেলে ড্রেজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ঠদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • দেশজুড়ে এর সর্বশেষ
  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়