logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২০, ১৫ মাঘ ১৪২৭

কয়েক জেলায় আজও বাস চলাচল বন্ধ

আরটিভি অনলাইন
|  ২১ নভেম্বর ২০১৯, ১০:৫০ | আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০১৯, ১৫:৩৭
ধর্মঘট প্রত্যাহারের পরও কয়েক জেলায় বাস বন্ধ
ধর্মঘট প্রত্যাহারের পরও কয়েক জেলায় বাস বন্ধ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের বৈঠকে ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে দেশের কয়েক জেলায় আজও বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) সকাল থেকে সিরাজগঞ্জ, খুলনা, ঝিনাইদহ, নড়াইল, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে বাস চলছে না।   

সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জ থেকে আরটিভি অনলাইনের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় ভাবে বুধবার রাত থেকে পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়া হলেও সিরাজগঞ্জে সেই ঘোষণা মানছেন না পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। বুধবারের মতো আজ বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) সকাল থেকে এমএ মতিন বাস টার্মিনাল ও ট্রাক টার্মিনাল থেকে কোনও বাস ও ট্রাক ছাড়তে দেখা যায়নি। 
অন্যদিকে সিএনজি অটোরিকশাগুলোও চলাচল করছে না। এর ফলে ভোগান্তি আরও বেড়েছে সাধারণ মানুষের।

এদিকে বন্ধবন্ধু সেতু দিয়ে বুধবার রাতে বেশ কিছু ট্রাক ও বাস চলাচল করলেও সকাল থেকে যানবাহন চলাচল ছিল সামান্য। সামান্য পরিমাণে ট্রাক চলাচল করতে দেখা গেছে। দূরপাল্লার বাস চলাচলও নেই বললেই চলে।

বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ শহিদ আলম জানান, মহাসড়কে গতকাল রাতে কিছু যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে কিন্তু আজ সকাল থেকে খুব কম সংখ্যক বাস ও ট্রাক চলাচল করছে। 

সিরাজগঞ্জ জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির নির্বাহী সদস্য রোমান আহম্মেদ জানান, সিরাজগঞ্জের বাস মালিকরা বাস চালানোর জন্য শ্রমিকদের অনুরোধ করেছে কিন্তু তারা তাদের দাবী না মানা পর্যন্ত বাস চালাবে না বলে আমাদের জানিয়েছে।

অন্যদিকে সিরাজগঞ্জ জেলা বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আনছার আলী বলেন, আজ ও কাল আমাদের ঢাকায় এ বিষয়ে মিটিং আছে সেখানে যে সিদ্ধান্ত হবে আমরা সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহে চতুর্থ দিনের মতো চলছে পরিবহণ ধর্মঘট। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ যাত্রীরা। সকাল থেকে শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, আরাপপুর, বাইপাস মোড় এলাকায় বাস ও যানবাহনের জন্য যাত্রীদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। অনেকে বাস না পেয়ে অনেকে ইজিবাইক ও মহাসড়কে চলাচলে নিষিদ্ধ ৩ চাকার যানবাহনে চলাচল করছেন।

খুলনা
খুলনায় আজও বন্ধ রয়ে বাস চলাচল। সকাল থেকে বাস টার্মিনাল ও ট্রাক টার্মিনাল থেকে কোনও বাস ও ট্রাক ছাড়তে দেখা যায়নি।

জানা যায়, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা বাস চালাবেন না।

নড়াইল
নড়াইল-মাওয়া, নড়াইল-যশোর, নড়াইল-লোহাগড়াসহ অভ্যন্তরীণ সব রুটে কোনও ঘোষণা ছাড়া ৪র্থ দিনের মতো বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নড়াইল জেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহম্মেদ খান বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) সকাল ৯টায় জানান, বাস ধর্মঘট অব্যাহত আছে। আমরা এখন ঢাকায় আছি। সকাল ১১ টায় এ বিষয়ে বৈঠকে বসবো। 

চুয়াডাঙ্গা
নতুন সড়ক আইন সংশোধনের দাবিতে চুয়াডাঙ্গায় চলছে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট। প্রথম দিকে বাস ধর্মঘট শুরু হলেও বুধবার সকাল থেকে একই দাবিতে শুরু হয়েছে ট্রাক ও পণ্যবাহী পরিবহন ধর্মঘট। মধ্যরাতে ট্রাক ও পণ্যবাহী পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হলেও আজ সকাল থেকে কোন পণ্যবাহী পরিবহন ছেড়ে যায়নি।

আজও চুয়াডাঙ্গা থেকে দূরপাল্লা ও আন্তঃজেলা রুটে সব ধরণের যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

মেহেরপুর 
মেহেরপুরে স্বল্প পরিমাণে ট্রাক চলাচল শুরু হলেও বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের দাবিতে চালকদের কর্মবিরতির ফলে তৃতীয় দিনের মতো আন্তঃজেলার সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। 

মেহেরপুর মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান বলেন, সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ পাস হওয়ার পর থেকেই বাসের চালকরা চালক, হেলপার ও সুপারভাইজাররা আতঙ্কে রয়েছেন। তবে সরকারের সঙ্গে মালিক শ্রমিকদের কয়েক দফা বৈঠকে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগে নেয়া হয়েছে। আজ  ঢাকায় সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এ বৈঠক থেকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে।

যশোর

 যশোরে ৫ম দিনের মতো বাস ধর্মঘট চলছে। এতে করে শহরটির সঙ্গে যুক্ত ১৮টি রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। তবে, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার পরে যশোর থেকে ঢাকার উদ্দেশে কয়েকটি গাড়ি ছেড়ে গেছে।
প্রসঙ্গত, গত রোববার দুপুর থেকেই যশোরের পরিবহন শ্রমিকরা বাস ধর্মঘটে যান। ফলে যশোরের সঙ্গে যুক্ত এ অঞ্চলের ১৮টি রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। 
এদিকে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বেশির ভাগ যাত্রীকেই বিকল্প ব্যবস্থায় বেশি অর্থ খরচ করে গন্তব্যে যাতায়াত করতে হচ্ছে। যাত্রীরা তাদের দুরবস্থা লাগবে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

হিলি
আমাদের হিলি প্রতিনিধি জানিয়েছেন, নতুন সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ সংশোধনের দাবিতে দিনাজপুরের হিলি থেকে অন্যান্য রুটের সব বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন চালকরা। 
আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই চালকরা এ কর্মসূচি পালন করছেন। এতে যাত্রীরা চরম বিড়ম্বনার মধ্যে পড়েছেন। বাস না থাকায় বিকল্প পন্থায় গন্তব্যে যেতে যাত্রীদের বাড়তি ভাড়া গুণতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে বাস চালকরা বলেন, আমরা তো কেউই চাই না সড়কে দুর্ঘটনার কবলে পড়ি। ইচ্ছা করেতো এক্সিডেন্ট করি না।
সড়কে ভ্যান, রিকশা ও সিএনজির চালকেরা ডান ও বাম বোঝে না এবং তাদের কারণেই সড়কে বেশিরভাগ দুর্ঘটনা ঘটে। কিন্তু নতুন সড়ক আইন-২০১৮ তে কোনও কারণে দুর্ঘটনা ঘটলেই এবং তাতে যদি কেউ মারা যায়, তাহলে চালকের মৃত্যুদণ্ড বা আহত হলে পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে। আমাদের এত টাকা দেওয়ার ক্ষমতা নেই। আর আমরা বাস চালিয়ে জেলখানায় যেতেও চাই না। তাই এই নতুন আইন সংশোধনের দাবিতে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছি।

এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • দেশজুড়ে এর সর্বশেষ
  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়