logo
  • ঢাকা বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ফরিদপুরে পেঁয়াজের দর মণপ্রতি কমেছে ২ হাজার টাকা

স্টাফ রিপোর্টর, ফরিদপুর
|  ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ২০:১৪ | আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ২১:০২
ফরিদপুরে পেঁয়াজের দর মণপ্রতি কমেছে ২ হাজার টাকা
ফরিদপুরে পেঁয়াজের দর মণপ্রতি কমেছে ২ হাজার টাকা
ফরিদপুরে একদিনে পেঁয়াজের দর কমেছে মণপ্রতি দুই হাজার টাকা। জেলার দুই উপজেলায় কয়েকটি বাজার ঘুরে জানা গেছে এমন তথ্য। লাগামহীন পেঁয়াজের দাম কমে আসায় ক্রেতাদের মধ্যে ফিরে আসতে শুরু করেছে স্বস্তি।

রোববার বোয়ালমারী উপজেলার চিতার বাজার, ময়েনদিয়া বাজার, জয় পাশা পেঁয়াজ বাজারে ব্যবসায়ীরা জানান, বাজার শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে চাষিরা তাদের আগাম জাতের মুড়িকাটা পেঁয়াজ নিয়ে বাজারে হাজির হয়। এসময় ক্রেতারা ওই পেঁয়াজের দিকে ঝুঁকে যায়।

নাছিম আহমেদ কবির নামে এক পেঁয়াজ ব্যবসায়ী জানান, চিতার বাজারের আমি দুই মণ পেয়াজ নিয়ে যাই। কিন্তু দেখি হঠাৎ করে দর পড়ে গেছে। পরে বাধ্য হয়ে ৭ হাজার টাকা মণে সেই পেঁয়াজ বিক্রি করি।

এই এলাকার পেঁয়াজের বড় চাষি শামিম মোল্লা বলেন, মৌসুমের সময়ে হাজার মণ পেঁয়াজ সংগ্রহ করেছিলাম, প্রথম দিকে বেশি অংশ কম দামে বিক্রয় করেছি, সম্প্রতি সময়ে দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় বাড়িতে থাকা বাকি পেঁয়াজ বিক্রয় করতে পেরেছি। তিনি বলেন, হঠাৎ করে শনিবার (১৬ নভেম্বর) থেকে এই বাজারে পেঁয়াজের দর মণ প্রতি দুই হাজার টাকা কমে গেছে।

চিতার বাজারের বণিক সমিতির সভাপতি মওলা বিশ্বাস জানান, পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়ে ছিল। তবে গত দুই দিন ধরে সেই দর নেমে আশায় পেঁয়াজ বাজার স্থিতিশীল হওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে জেলা সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া, বালিয়াগট্টি বাজারের পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরানো পেঁয়াজ সর্বোচ্চ বিক্রয় হচ্ছে সাড়ে সাত হাজার টাকায়। অন্যদিকে মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজার মূল্য রয়েছে সাড়ে ৪ হাজার টাকার মধ্যে।

জেলা কৃষি বিভাগ জানান, এই জেলার নয় উপজেলাতে পেঁয়াজ মৌসুমে সময়ে ৪ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজের উৎপাদন হয়। চলতি শীত মৌসুমের আগাম জাতের মুড়ি কাটা পেঁয়াজের উৎপাদন লক্ষ মাত্রা ধরা হয়েছে ৬০ হাজার মেট্রিকটন। 

---------------------------------------------------------------
আরো পড়ুন: চট্টগ্রামে যেভাবে বিস্ফোরণ ঘটে (ভিডিও)
---------------------------------------------------------------

এছাড়াও জেলাতে তিন জাতের পেঁয়াজ চাষ হয়, এর মধ্যে রয়েছে, হালি পেঁয়াজ (চারা থেকে উৎপাদন হয়), দানা পেঁয়াজ ( বীজ থেকে উৎপাদন হয়) এবং মুড়িকাটা পেঁয়াজ (গুটি থেকে উৎপাদন হয়)।

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ কার্তিক চন্দ্র চক্রবর্তী জানান, চলতি শীত মৌসুমে ফরিদপুরে আগাম জাতের মুড়িকাটা পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে ৬ হাজার হেক্টর জমিতে। 

তিনি বলেন, যে সব চাষি আগে পেঁয়াজ রোপণ করেছিল তারা এখন তাদের উৎপাদিত পেঁয়াজ বাজারের আনতে শুরু করেছে। এতে পেঁয়াজ বাজার কিছুটা হলে নিম্নমুখী।

এই কৃষি কর্মকর্তা আশা রেখে বলেন, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে অনেক চাষি তাদের আগাম জাতের পেঁয়াজ বাজারে তুলতে পারবে।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার জানান, জেলায় যে সকল মাঠে পেঁয়াজের আবাদ বেশি হয় সে মাঠে শনিবার বিকেলে পরিদর্শনে গিয়ে ছিলাম।  

তিনি বলেন, চাষিরা বলেছে অল্প কিছু দিনের মধ্যেই ঘরে তুলতে পারবে তাদের পেঁয়াজ। আর এতে করে পেঁয়াজের বাজার স্বাভাবিক হবে বলে মনে করছেন এই জেলা প্রশাসক ।

ফরিদপুর শহরের হাজী শরীয়াতুল্লাহ বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নূর ইসলাম মোল্লা জানান, শনিবার থেকে এ বাজারে পুরাতন পেঁয়াজ কেজি প্রতি বিক্রয় হচ্ছে ১৮০ টাকা দরে এবং নতুন হালি পেঁয়াজ কেজি প্রতি বিক্রয় হচ্ছে ১২০টাকা দরে।

এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • দেশজুড়ে এর সর্বশেষ
  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়