logo
  • ঢাকা বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৬ ফাল্গুন ১৪২৬

মাধবকুণ্ডে বিষক্রিয়ায় মারা যাচ্ছে জলজ প্রাণী

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি, আরটিভি অনলাইন
|  ০৫ নভেম্বর ২০১৯, ১৪:৩৫
মাছ মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত
মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে মরে ভেসে উঠা মাছ
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের পানি থেকে বিভিন্ন জাতের মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী মরে ভেসে ওঠেছে। এতে জলপ্রপাতের পানির পাশাপাশি এলাকার বাতাসেও দুর্গন্ধ ভেসে আসছে। তবে আজ সকাল থেকে দুর্গন্ধ কিছুটা কমে আসছে বলে জানান বন বিভাগের সহযোগী রেঞ্জ কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন রায়।

তিনি জানান,  গেল শনিবার প্রথম মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখে বিষয়টি  ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।

এ ব্যাপারে কুলাউড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ জানান, লোকমুখে খবর পেয়ে গতকাল সোমবার দুই তথ্য সংগ্রহকারী জলপ্রপাতের পানি সংগ্রহ করে  গুণাগুণ পরীক্ষা করেছেন। তবে তারা পানির প্যারামিটার মোটামুটি স্বাভাবিক পেয়েছেন।

তিনি জানান, পানি বিষাক্ত হওয়ার জন্য এমোনিয়া ও হাইড্রোজেন বাড়ার বিষয়টি অনুপস্থিত। ক্যামিকেল জাতীয় কোনও সিমটমও পরিলক্ষিত হয়নি।

তিনি বলেন, তার ধারণা মাছ মারার জন্য কেউ  পাহাড়ি বিষলতার রস পানিতে দিতে পারে। এর ফলে মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী মারা যেতে পারে। তবে তিনি সরজমিনে গিয়ে বিষয়টি আরও ভালো করে দেখবেন বলেও জানান।

মাধবকুণ্ড ইকোপার্কের কর্মী সামির বলেন, গেল শনিবার সকালে মাধবকুণ্ড এলাকায় পর্যটক, পর্যটক পুলিশসহ স্থানীয় লোকজন মাধবকুণ্ডের পানিতে মাছসহ বিভিন্ন ধরনের জলজ প্রাণী ভেসে ওঠতে দেখেন। পরের দিন রোববার মৃত মাছের কারণে মাধবকুণ্ড পর্যটন এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। জলপ্রপাতের পানিতেও দুর্গন্ধ রয়েছে বলে তিনি জানান। তবে আজ দুর্গন্ধ অনেকটা কমেছে।

কুলাউড়া মৎস্য অফিসের তথ্য সংগ্রহকারী মো. সামছুল হাসান জানান, ভেসে উঠা মরা মাছ ও জলজ প্রাণীর মধ্যে রয়েছে পাহাড়ি বামাস মাছ, কাঁকড়া, পুঁটি, পাহাড়ি চিংড়ি, পিপলা, ছোট বাইন, সরপুঁ ও ব্যাঙসহ বিভিন্ন ধরনের জলজ কীটপতঙ্গ।

মৎস্য কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ  জানান, মারা যাওয়া মাছের মধ্যে বামাস মাছ খুবই বিপন্ন। এগুলো পাহাড়ি ছড়ায় এবং নদীতে পাওয়া যায়। মারা যাওয়া বামাস মাছগুলো অনেক পুরাতন। 

পর্যটকরা জানান, মাধবকুণ্ড ইকোপার্কের কর্মীরা মরা মাছ পানি থেকে তুলে অন্যত্র ফেলে দিচ্ছেন। গেল শনিবার ও রোববার মারা যাওয়া মাছের সংখ্যা বেশি ছিল। মঙ্গলবার কিছু কাঁকড়া, বাইন, ব্যাঙ, পুঁটি, বিভিন্ন ধরনের জলজ প্রাণী পানিতে ভেসে থাকতে দেখা গেছে।

সরেজমিনে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত ঘুরে দেখা গেছে, স্থানীয় লোকজন কিছু মরা বামাস মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছেন। কেউ কেউ পঁচা মাছ পানি থেকে তুলে ফেলছেন। যাতে দুর্গন্ধ না ছড়ায়। কিছু মাছসহ জলজ প্রাণী জলপ্রপাতের ছড়ার আশেপাশে ছড়িয়ে আছে। এগুলো থেকে জলপ্রপাতের পানির পাশাপাশি এলাকার বাতাসেও দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা লিটন শরিফ জানান, পাহাড়ি ছড়ায় অনেক ধরনের মাছ থাকে। মাছ ধরার জন্য মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের ওপরের অংশে কেউ বিষ প্রয়োগ করতে পারে। ওপর থেকে গড়িয়ে পড়া ঝর্ণার পানিতে দুর্গন্ধ রয়েছে। এই পানি ছড়া দিয়ে গিয়ে হাকালুকি হাওরে পড়ছে। পানি বিষাক্ত হলে হাওরেও এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে। হাওরের মাছ মারা যেতে পারে।

রাজশাহী থেকে বেড়াতে আসা তুহিন আলম নামে এক পর্যটক সাংবাদিকদের জানান, পানিতে গন্ধ থাকায় তিনি পানিতে নেমে উঠে এসেছেন।

এদিকে মৌলভীবাজারের পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতা মো. সালাহ উদ্দিন আহমদ জানান, পাহাড়ে বিভিন্ন চা বাগানে, সবজি ও ফলের বাগানে কীটনাশক স্প্রে করা হয়। যা পানিতে মিশতে পারে। তাছাড়া এটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি র্তীর্থস্থান। এখানে অনেকে পূণ্য স্থানও করেন। তাই এই পানির বিষক্রিয়ার কারণ খোঁজে বের করার পাশাপাশি এ পানি পরীক্ষার জন্য বুয়েটে পাঠানোরও দাবি তার।

দ্রুততম সময়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ এ পানির বিষক্রিয়া অপসারণে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন দাবি পর্যটক ও স্থানীয়দের।

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • দেশজুড়ে এর সর্বশেষ
  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়