logo
  • ঢাকা সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

রাজবাড়ীতে ইলিশ রক্ষা অভিযানে ২৬৭ জেলের জেল জরিমানা

রাজবাড়ী প্রতিনিধি
|  ২২ অক্টোবর ২০১৯, ১৮:৫২ | আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০১৯, ১৯:৩২
রাজবাড়ীতে ইলিশ রক্ষা অভিযানে ২৬৭ জেলেকে জরিমানা
উদ্ধাকৃত জাল
চলমান ইলিশ রক্ষা অভিযানে আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত রাজবাড়ীতে ২৬৭ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে জেল-জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া ২ হাজার ৬৪০ কেজি (৬৬মণ) ইলিশ মাছ, ১২ লাখ ৮৫ মিটার জাল ও ৪টি নৌকা জব্দ করা হয়েছে।

জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর বিকাল পর্যন্ত ১৪ দিনে রাজবাড়ীতে মোট ২৬৭ জন জেলেকে আটক করা হয়। এর মধ্যে রাজবাড়ী সদরে ১৪২ জন, পাংশায় ১৪ জন, কালুখালীতে ২৮ ও গোয়ালন্দে ৬৪ জনকে আটক করা হয়।

তাদের মধ্যে ২৪৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে জেল ও ১৯ জনকে বিভিন্ন পরিমাণ অর্থ জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে  আটক ১৯ জেলের কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় এবং জব্দকৃত ৪টি নৌকা নিলামে ৬৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। এছাড়া জব্দকৃত জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস ও মাছগুলো বিভিন্ন এতিমখানা ও দুস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়।

জানা যায়, মৎস্য বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সহযোগিতায় প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিয়ে দিনে-দুপুরে পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ছোট ছোট ইঞ্জিন চালিত নৌকা নিয়ে মাছ ধরছে জেলেরা।

অভিযানের আগেই জেলেরা কীভাবে খবর পায়, জানতে চাইলে একজন জেলে জানান, তাদের (প্রশাসনের) লোকজন জেলেদেরকে জানিয়ে দেয় নদীতে এখন অভিযানে নামছেন অফিসাররা। তখন তারা জাল গুটিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান। এখন নদীতে অনেক মাছ, অভিযান শেষে এ মাছ থাকবে না, তাই ঝুঁকি নিয়ে নদীতে মাছ ধরতে নামছে জেলেরা।

এছাড়া রাতেও নদীতে নামেন জেলেরা। ইলিশের প্রজনন মৌমুম হওয়ায় অল্প সময়ে অনেক মাছ পাওয়া যায়। সেই মাছ নদীর পারে আসা ক্রেতাদের কাছে অল্প দামে বিক্রি করা হয়। বড় মাছ সাড়ে ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং ছোট মাছ ২৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়।

---------------------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : চাঁদাবাজির অভিযোগে ইউপি সদস্য আটক
---------------------------------------------------------------------

জানা গেছে, রাজবাড়ীর পাঁচ উপজেলার চারটি পদ্মা নদীর কোল ঘেঁষা। যা পাংশা থেকে দৌলতদিয়া পর্যন্ত ৮৫ কিলোমিটার দীর্ঘ। প্রতিদিন জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, জেলা ও উপজেলা মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ, ২০ আনসার ব্যাটালিয়ানের সদস্যরা ভোর রাত থেকে সকাল এবং বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নদীর বিভিন্ন অংশে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে মাছ, জাল, নৌকা জব্দসহ জেলেদের আটক করা হয়। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটককৃতদের বিভিন্ন মেয়াদে জেল ও জরিমানা এবং জব্দকৃত জাল পুড়িয়ে ধ্বংসের পাশাপাশি মাছগুলো বিভিন্ন এতিমখানা ও দুঃস্থ-গরিবদের মাঝে বিতরণ করা হয়।

এলাকাবাসী জানান, জেলার কালীতলা, নয়নসুখ, অন্তারমোড়, দেবগ্রাম, কাওয়ালজানিসহ বিভিন্নস্থান জেলে ও ক্রেতাদের অভয়াশ্রম। এসব স্থানে ক্রেতা-বিক্রেতারা প্রায়ই ভিড় জমায়। এছাড়া গ্রামাঞ্চলে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের দেখা মিলছে মাঝে মধ্যে। পরিবার পরিজন নিয়ে ভাল থাকতে জেলেরা মাছ ধরেছেন এবং প্রশাসনের ভয়ে বিক্রি করছেন কম দামে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলেরা জানান, তারা মাছ ধরে সংসার চালান। ২২ দিন মাছ না ধরে বসে থাকলে না খেয়ে থাকতে হবে। যে কারণে তারা জেল-জরিমানার ভয় না করে মাছ ধরছেন। অভিযানের শুরুতে মৎস্য বিভাগ ২০ কেজি করে চাল দিয়েছে। কিন্তু শুধু চাল দিয়ে কি চলে? সংসারে ছেলে-মেয়েদের পড়াশুনাসহ কত খরচ। তাই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরছেন। তবে, মাছ পেলেও দাম পাচ্ছেন না। ভয়ে ভয়ে মাছ বিক্রি করতে হচ্ছে।

মাছ ক্রেতারা জানান, জেলেদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা মাছ কিনছেন। এছাড়া অনেক জেলে ও মৌসুমী ব্যবসয়ী তাদের বাড়িতে মাছ পৌঁছে দেন। এখন দাম কম, তাই কিনে রাখছেন। অভিযানের পরে দাম বেড়ে গেলে তাদের মত অনেকে দাম দিয়ে ইলিশ কিনতে পারবেন না।

জেলা মৎস্য অফিসার মোহা. মজিনুর রহমান জানান, জেলায় ৯ হাজার ১১৯ জন নিবন্ধিত জেলে থাকলেও ইলিশ ধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন ৪ হাজার ৬৪০ জন। যাদের প্রত্যেককে অভিযানের শুরুতে ২০ কেজি চাল দেয়া হয়েছে। আগামীতে তার যাতে ৩০ কেজি করে চাল পায় সে বিষয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হবে। ইলিশ রক্ষার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। অভিযানে তার দফতরসহ জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, আনসার ব্যাটালিয়ান, নৌপুলিশ সহযোগিতা করছেন।

তারা অভিযানে যাবার আগেই জেলেরা জেনে যায় স্বীকার করে তিনি বলেন, একটি চক্র তার অফিস ও গোদারবাজার এলাকায় তাদের ওপর নজর রাখে। যখন নদীতে অভিযানে যান, তখন তারা জেলেদের সতর্ক করে দেন। তবে নিজের অফিসের কারও জেলেদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই দাবি করে তিনি বলেন, অনেকে চুরি করে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে মাছ বিক্রি করছেন বলে শুনেছি। এ ঘটনায় জড়িত কাউকে ধরতে পারলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম জানান, ইলিশ রক্ষায় নদীতে জেলা প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে জেল-জরিমানা করছেন। অভিযানের শুরুতেই জেলেদের চাল বিতরণ করা হয়েছে। সে সময় জেলেদের বুঝানো ও সচেতন করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও কেন তারা নদীতে নামছে বুঝতে পারছি না। তবে এ ২২ দিন জেলেরা ইলিশ ধরা বন্ধ রাখলে তাদের জনই ভাল। কারণ মাছগুলো ডিম দিলে নদীতে প্রচুর মাছ হবে এবং জেলেরা আগামীতে বেশি ও বড় বড় মাছ পাবেন। এতে তারাই তখন আর্থিক ভাবে লাভবান হবেন। সে জন্য এখন তাদের দেশ ও জাতির স্বার্থে মাছ ধরা বন্ধ রাখা উচিত। তবে গত কত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর রাজবাড়ীর নদীর পাড় ও গ্রামগুলোতে মাছ বিক্রি হচ্ছে- এমন সংবাদ তেমন শোনা যাচ্ছে না। মাছ বিক্রি হচ্ছে এমন সংবাদ পেলে তাৎক্ষণিক জেলা প্রশাসনের লোকজনকে পাঠানো হয়। কিন্তু দূরত্ব ও সময়ের কারণে ওই স্থানে গিয়ে তাদের পাওয়া যায় না। অভিযোগের সত্যতা পেলে জেলা প্রশাসনের দিক থেকে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন 

এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • দেশজুড়ে এর সর্বশেষ
  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়