logo
  • ঢাকা বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬

প্রবাসীকে অপহরণ করে ২৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ, নির্যাতনের ভিডিও ফেসবুকে

কুমিল্লা প্রতিনিধি
|  ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:৪৩ | আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৩:৫০
মুক্তিপণ, টাকা, ছেলে
কুমিল্লায় ইয়াসিন আহাম্মেদ সোহাগ নামে এক প্রবাসীকে অপহরণের পর ২৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে অপহরণকারী চক্র।

গেল ১২ সেপ্টেম্বর অপহরণের পর টানা  ছয় দিন নির্যাতন করে ১৮ সেপ্টেম্বর ওই প্রবাসীর লোমহর্ষক নির্যাতনের ভিডিও প্রকাশ করা হয়।

সিনেমার কাহিনীকে হার মানিয়েছে এ অপহরণ এবং নির্যাতনের ঘটনাটি। প্রবাসী সোহাগকে অমানবিক নির্যাতনের ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এতে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

অপহৃত সোহাগ (৩০) জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার পোমকাড়া গ্রামের ছিদ্দিকুর রহমানের ছেলে। এ ঘটনায় অপহৃতের ভাই সুজন মিয়া বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলেও ঘটনার মূলহোতা সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

অভিযোগে জানা যায়, কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার পোমকাড়া গ্রামের ইয়াসিন আহাম্মেদ সোহাগ ২০১২ সালে ইতালি যাওয়ার জন্য একই এলাকার লারোচো গ্রামের মালেক মাস্টার এবং তার ছেলে ইতালি প্রবাসী কামাল হোসেনকে সাত লাখ ৩০ হাজার দেন।

মালেক মাস্টারের ছেলে তাকে ইতালি নিতে না পারায় সে এলাকার লোকজনকে দিয়ে চাপ প্রয়োগ করে ছয় লাখ টাকা উদ্ধার করে। এরপর সে সৌদি আরবে চলে যায়।

পরে কামাল ইতালি থেকে ফ্রান্সে চলে যায়। সেখানে গিয়ে সৌদি প্রবাসী সোহাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে ফ্রান্সে নেওয়ার প্রলোভন দেখায়। সোহাগ ফ্রান্স যাওয়ার জন্য ফের তাকে ১৩ লাখ টাকা দেয়। কিন্তু তাকে ফ্রান্স নিতে গড়িমসি করায় সোহাগ পুনরায় তার পরিবারকে চাপ প্রয়োগ করায় সে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করে। সে অনুসারে কৌশলে সোহাগকে গেল সাত সেপ্টেম্বর সৌদি থেকে দেশে আনে।

পরে ১২ সেপ্টেম্বর ভিসা প্রদানের কথা বলে ঢাকায় নিয়ে কামালের বন্ধু সুমনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী তাকে অপহরণ করে একটি বাসায় রেখে লোমহর্ষক নির্যাতন চালায়। এ নির্যাতনের ভিডিও ইমোতে সোহাগের মায়ের কাছে পাঠানো হয়। সেইসঙ্গে ২৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ভিডিওতে দেখা যায় অপহরণকারীরা সুমনকে হাত-পা বেঁধে মুখে কচটেপ লাগিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জ্বলন্ত সিগারেটের চাপা দেয় এবং ব্লেড দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করে।

তার বুকে এবং গলায় চাপা দিয়ে নির্যাতন করে। এ নিয়ে সোহাগের ভাই সুজন ব্রাহ্মণপাড়া থানা এবং পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। পুলিশ ভিডিও চিত্রের সূত্র ধরে অপহরণকারী চক্রের প্রধান চাঁদপুর সদর উপজেলার পশ্চিম হোসেনপুর গ্রামের সুমনের ভাই মমিন এবং তার শ্বশুর আবুল বাশার মুন্সীকে আটকের পর চাপ প্রয়োগ করে।

এতে অপহৃত ওই প্রবাসীর পকেটে ইয়াবা দিয়ে ৯৯৯ কল করে দেয় অপহরণকারীরা। রাজধানীর শ্যামপুর থানা পুলিশ তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। খবর পেয়ে স্বজনরা ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশকে নিয়ে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় মালেক মাস্টার এবং তার ছেলে জামাল হোসেনকে আটক করে পুলিশ। পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম গতকাল শুক্রবার দুপুরে প্রেস ব্রিফিং করে প্রবাসী সোহাগকে উদ্ধারের বিষয়টি সাংবাদিকদেরকে অবহিত করে।

জেবি  

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়