logo
  • ঢাকা বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬

বঙ্গবন্ধু প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা, শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ (ভিডিও)

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
|  ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:০৯ | আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৩:৩৪
গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরবিপ্রবি) আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. নূরউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উদ্ভূত জরুরি পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে, বিবদমান গ্রুপসমূহের মতানৈক্য নিরসন এবং সম্ভাব্য অপ্রত্যাশিত ঘটনা এড়াতে রিজেন্ট বোর্ডের সদস্যদের মৌখিক অনুমতির প্রেক্ষিতে পূজার নির্ধারিত ছুটির সঙ্গে ছুটি বাড়িয়ে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বলে জানানো হয়।

এছাড়া সার্বিক নিরাপত্তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের সকাল ১০টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, অন্যায়ভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের বহিষ্কার, হুমকি ও বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেয়াসহ বেশ কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) উপাচার্য ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের পদত্যাগ দাবিতে বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে আসছেন।

শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরেও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন ভিসি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। 

শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগে আন্দোলনে নেমেছেন সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- ক্লাসরুম অপরিষ্কার থাকা নিয়ে ফেসবুকে লেখার কারণে ট্রিপল-ই বিভাগের পাঁচ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারাদেশ, ভিসির বাসভবনে বিউটি পার্লার নির্মাণ, ভর্তি বাণিজ্যের মাধ্যমে অযোগ্য ছাত্রদের ভর্তি, ক্যাম্পাসে নিজের অনুগত পেটোয়া বাহিনী তৈরি করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক শামস জেবিনের ওপর হামলা, শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিয়োগে দুর্নীতি ও নিয়োগ বাণিজ্য, শিক্ষক আক্কাস আলিকে সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা, ভর্তি ফি পাঁচগুণ বাড়ানো, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণে অনীহা ও বাজেটের সম্পূর্ণ টাকা লোপাট, শহীদ মিনারের উন্নয়ন না করা।

শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া নিয়ে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুম ও ক্যাম্পাসের পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণে গাফিলতি, গাছপালা পরিচর্যার নামে দুই কোটি টাকা লোপাট, আবাসন সুবিধার নামে টাকা আদায়, ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা আট বছরের উন্নয়ন ফি’র টাকা লোপাট। প্রস্তাবিত মেইন গেটের টাকা লোপাট, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের নিজ কক্ষে ডেকে অপমান করা, আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জিনিয়া (সাংবাদিক) বাজেট সম্পর্কে জানতে চাইলে ও ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ায় তাকে বহিষ্কার, ক্লাসরুম সংকট থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি, কম্পিউটার ফি ২৫০ টাকা নিলেও বিভাগে পর্যাপ্ত কম্পিউটার সুবিধা না দেয়া, অতিরিক্ত বাস ভাড়া আদায়।

লাইব্রেরিতে বইয়ের সংকট, জিমনেসিয়াম নিয়ে দুর্নীতি, কমন রুমের জন্য বরাদ্দ টাকা লোপাট, ছাত্র সংসদের নামে টাকা নিয়েও ছাত্র সংসদ নির্বাচন না করা; বিশেষায়িত বিভাগে পর্যাপ্ত ল্যাব সুবিধা না থাকা সত্ত্বেও বিভাগের পর বিভাগ খোলা।

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, তাদের একমাত্র দাবি উপাচার্যের পদত্যাগ। উপাচার্য পদত্যাগ করলেই কেবল তারা আন্দোলন থেকে সরে যাবে। না হলে তারা তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখবে। 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়