logo
  • ঢাকা রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ৪ কার্তিক ১৪২৬

কথা রাখলেন তালা উপজেলার ইউএনও

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
|  ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৬:৩৭
এসি, রোগী, হাসপাতাল
হাসপাতালের রোগীদের দুর্দশার চিত্র দেখে নিজেকে অপরাধী মনে হয়েছিল তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইকবাল হোসেনের। ফেসবুকে সেই কথা লিখে ঘোষণা দিয়েছিলেন- হাসপাতালে এসির ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত নিজের রুমের এসি বন্ধ রাখবেন।

গেল বৃহস্পতিবার রাতে তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইকবাল হোসেন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন, নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছে। ওই  রুমের মধ্যে থাকতে ভালো লাগছে না। ফ্যাক্ট: হাসপাতালে অপারেশনের রোগী গরমের সঙ্গে লড়ছে। কাল থেকে নিজের রুমের এসি বন্ধ থাকবে। রোগীদের জন্য এসির ব্যবস্থা না করে নিজের রুমে এসি ব্যবহার করব না। দয়া করে রুমে ঢুকে কেউ এসি চালাতে বলবেন না।

যে কথা সেই কাজ। অবশেষে তালা হাসপাতালে রোগীদের ব্যবহারের জন্য এসির ব্যবস্থা করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইকবাল হোসেন।

গতকাল রোববার বিকেলে এসিগুলো তালা হাসপাতালে এসে পৌঁছায়। সোমবার সকাল থেকেই এসিগুলো হাসপাতালে লাগানোর কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

তালা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর আবু মাউদ আরটিভি অনলাইনকে জানান, প্রাথমিকভাবে দুইটি ওয়ার্ডে ১২টি এসির জন্য চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছে। আরেকটি ওয়ার্ডে পরবর্তীতে লাগানো হবে। এরমধ্যে চারটি এসি গতকাল রোববার বিকেলে হাসপাতালে এসে পৌঁছেছে। সোমবার বাকিগুলোও চলে আসবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এগুলো পাঠিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, ওয়ার্ডের রুমের মধ্যে থাইগ্লাস লাগানো ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। সোমবার সকাল থেকেই এসিগুলো লাগানোর কাজ শুরু হবে।

গেল ২৯ জুলাই তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা থেকে তালা উপজেলায় যোগদান করেন ইকবাল হোসেন। যোগদানের পরই তিনি তালা সদরসহ গ্রামাঞ্চলের মানুষদের মধ্যে শৃঙ্খলা ফেরাতে কাজ শুরু করেন।

হাসপাতালে এসি লাগানোর পরিকল্পনার বিষয়ে তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইকবাল হোসেন বলেন, আমার দুটি সন্তান। একটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে। অন্য বাচ্ছাদের মতোই। আমি ও আমার পরিবার সরকারি হাসপাতালেই চিকিৎসা গ্রহণ করি। আমার একটা বাচ্চাকে তালা হাসপাতালে নিয়ে যাই চিকিৎসার জন্য। সেখানে চিকিৎসক আন্তরিক হয়ে চিকিৎসা করেছেন। কিন্তু পরিবেশটা আমার ভালো মনে হয়নি। এরপর আমি দ্বিতীয় তলায় ওয়ার্ডে গিয়ে দেখি ডেঙ্গুর ভয়ে মা-বোনেরা প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও মশারির মধ্যে রয়েছে। তাদের ঘামে চারপাশ দুর্গন্ধ হয়ে গেছে। বাথরুম প্রচণ্ড নোংরা। হাসপাতালের জনবল কম তাদেরও কিছু করার নেই। এরপর আমার মনে হয়েছে হাসপাতালের রোগীদের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য এসির ব্যবস্থা করা যায় কিনা। এরপর উদ্যোগ গ্রহণ করি। আর সেটি এখন বাস্তবায়ন হচ্ছে।

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়