logo
  • ঢাকা সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার ১৫ হাজার মানুষের

রাজবাড়ী প্রতিনিধি
|  ২০ জুলাই ২০১৯, ১৯:১০ | আপডেট : ২০ জুলাই ২০১৯, ১৯:১৪
পানি, বিশুদ্ধ, হাহাকার
পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ও কালিকাপুর ইউনিয়নের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পানিবন্দী এসব মানুষ উঁচু রাস্তায় আশ্রয় নিলেও গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

bestelectronics
দুর্গতদের অভিযোগ এখন পর্যন্ত কোনো ত্রাণসামগ্রী পাননি তারা। বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশনের সংকটে তাদের জীবনে হাহাকার দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে দেখা দিয়েছে পানিবাহিত রোগ। আর বিষধর সাপের ভয়তো আছেই।  

শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বন্যার পানিতে মাধবপুর, হরিণবাড়ীয়া, লস্করদিয়া, কৃষ্ণনগর, ভবানীপুর, হরিণাডাঙ্গা, চররাজপুর, বিজয়নগর, নারানপুর, আলোকদিয়া, বল্লভপুর, ভাগলপুর, বাগঝাপা, গঙ্গানন্দপুর, কামিয়া, কালুখালী, পাড়াবেলগাছী ও গতমপুর গ্রাম ডুবে গেছে।

কালুখালীর রতনদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম হরিড়বাড়ীয়া মৌজার এক নম্বর দাগের বাসিন্দা জহুরা বেগম। তার বাড়ির উঠানে দুই ফুট পরিমাণ পানি। সেখানেই দাঁড়িয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি জানান, গেল বৃহস্পতিবার বাড়ির আশপাশে কোনো পানি ছিল না। রাতে পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঘর-বাড়ি তলিয়ে গেছে। ঘরে সঞ্চিত কোনো খাবার নেই। নেই বিশুদ্ধ পানি। পরিবারের চার সদস্যকে নিয়ে অতিকষ্টে দিন যাপন করছেন।

জহুরা বেগমের পরিবারের মতো একই অবস্থা পশ্চিম হরিড়বাড়ীয়া মৌজার আরও অসংখ্য পরিবারের।

কালুখালীর কালিকাপুর ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামের স্কুলছাত্রী সাহেবা খাতুন। সে কালুখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। সে জানায়, বন্যার পানিতে বাড়ি-ঘর ও রাস্তা-ঘাট তলিয়ে যাওয়ার কারণে স্কুলে যাওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

বন্যাদুর্গত বিল্লাল হোসেন বলেন, গেল বৃহস্পতিবার দুপুরে পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার কাছ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ভেবেছিলাম বিপদসীমা অতিক্রম করতে দুই থেকে তিন দিন সময় লাগবে। কিন্তু রাতেই তা বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার দুই ফুট ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।     

এদিকে হঠাৎ বন্যায় ধান ও পাটের জমি ডুবে যাচ্ছে। কৃষকেরা পাট কাটার জন্য পর্যাপ্ত শ্রমিক পাচ্ছেন না। কোনো কোনো এলাকায় কৃষকদের পাশাপাশি নারীরাও পাট কাটতে ব্যস্ত হয়ে পরেছেন।

হরিণবাড়ীয়া গ্রামের গোলাপী বেগম ও সাজেদা বেগমকে পাট কাটতে দেখা যায়। তারা জানান, ধান তলিয়ে গেছে। পাটও যদি ঘরে তুলতে না পারি, তবে না খেয়ে মরতে হবে। তাই বাধ্য হয়ে পাট কাটতে শুরু করেছি। তারা সরকারের কাছে ত্রাণের জন্য আকুল আবেদন জানান।

কালিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইদ্রিস আলী মনো আরটিভি অনলাইনকে জানান, নারানদিয়া এলাকার দুই শতাধিক পরিবারের বাড়ি-ঘর পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এখানকার মানুষ অনেক কষ্টে আছে। তিনি দুর্গত মানুষের পাশে সরকারকে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

জেবি/পি

bestelectronics bestelectronics
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়