logo
  • ঢাকা রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬

দৌলতদিয়ায় কমেনি ভোগান্তি, ঝুঁকিতে লোড হচ্ছে ফেরি (ভিডিও)

রাজবাড়ী প্রতিনিধি
|  ২০ জুলাই ২০১৯, ১৫:৫৪ | আপডেট : ২০ জুলাই ২০১৯, ২২:৩৬
তীব্র স্রোতে আর ফেরির কৃত্রিম সংকটে এবং পানিতে ঘাটের র‌্যাম তলিয়ে যাওয়ায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে নৌযানে যানবাহন পারাপারে অচলাবস্থা কাটেনি। প্রচণ্ড স্রোতের বিপরীতে বেশীর ভাগ ফেরিই স্বাভাবিকভাবে চলতে পাড়ছে না। এছাড়া ৩টি ফেরি পুরোপুরি বসিয়ে রাখা হয়েছে। যে ফেরিগুলো চলাচল করছে সেগুলোও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বেশি সময় লাগছে প্রতি ট্রিপে। এই অবস্থায় বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ ট্রাক চালকদেরকে বিকল্পপথে যমুনা সেতু দিয়ে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছেন।

গেল দুই সপ্তাহ ধরে এ রুটে যানবাহন পারাপার চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। উভয় ঘাটে নদী পারের অপেক্ষায় আটকে পড়ছে সহস্রাধিক যানবাহন। আজ শনিবার সকালে নাগাদ দৌলতদিয়া ঘাট থেকে গোয়ালন্দ পৌরসভা পর্যন্ত প্রায় পৌনে ৫ কিলোমিটার জুড়ে মহাসড়কে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজটের। যানজটে আটকে পড়ে সহস্রাধিকর যানবাহন। আটকে পড়া যাত্রী ও চালকরা সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এক সপ্তাহেও নদী পার হতে পারছে না অপচনশীল পণ্যবাহী যানবাহন। ২/৩ দিন ধরে আটকে থেকে কয়েকশ কাঁচামালবাহী ট্রাকের পণ্য পচতে শুরু করেছে।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় রাজবাড়ী গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া গেজ স্টেশন পয়েন্টে পদ্মার পানি ২৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া জেলার পাংশার সেনগ্রাম গেজ স্টেশন পয়েন্টে বিপদসীমার পাঁচ সেন্টিমিটার ও রাজবাড়ী সদরের মহেন্দ্রপুর গেজ স্টেশন পয়েন্টে ১.৫০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শনিবার সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে পদ্মার পানি হু হু কর বাড়তে থাকায় নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। তবে পদ্মার পানি বৃদ্ধির সঙ্গে ভাঙন দেখা দিয়েছে জেলার পাংশার হাবাসপুর, কালুখালীর রতনদিয়া, রাজবাড়ী সদরের মিজানপুর, গোদার বাজার, মৌলভী ঘাট, বরাট, গোয়ালন্দের ছোট ভাকলা, দেবগ্রাম ও দৌলতদিয়া ইউনিয়নের বেশ কিছু স্থানে। ভাঙন কবলিত ওই সবস্থানে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড।

রাজবাড়ীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম জানান, গেল ২৪ ঘণ্টায় পদ্মার পানি দৌলতদিয়া গেজ স্টেশন পয়েন্টে ২৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে আজ বিপদসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে জেলার অনেক স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে এবং ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে ওই সব স্থানে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এদিকে গত কয়েকদিনে অচলাবস্থা বিবেচনা করে গতকাল (১৯ জুলাই) শুক্রবার বিকেলে দৌলতদিয়া ঘাট পরিদর্শনে আসেন বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমোডর মাহবুবুল ইসলাম। তিনি পরিদর্শন শেষে জানান, বর্তমান পরিস্থিতি ও আসন্ন ঈদের কথা মাথায় রেখে নৌরুট স্বাভাবিক রাখতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। 

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া অফিসের ব্যবস্থাপক আবু আব্দুল্লাহ রনি জানান, রুটে চলাচলকারী ১৫টি ফেরির মধ্যে তীব্র স্রোতের কারণে ৩টি ফেরি চলাচল করতে পারছে না। ২টি গেল এক সপ্তাহ ধরে মেরামতে আছে পাটুরিয়া কারখানায়। অন্য ফেরিগুলো ট্রিপে অতিরিক্ত সময় লাগায় ঘাট এলাকায় যানবাহনের সিরিয়ালের সৃষ্টি হয়েছে।

এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • দেশজুড়ে এর সর্বশেষ
  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়