logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

সুরমার পানি বিপদসীমার ওপরে, ২১৮টি বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা

স্টাফ রিপোর্টার, সুনামগঞ্জ
|  ১২ জুলাই ২০১৯, ১৪:১৪
২১৮টি বিদ্যালয় বন্ধ
সুরমার পানি বিপদসীমার ওপরে, ২১৮টি বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা
গেল পাঁচদিনের টানা অবিরাম বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকা ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে আবারো সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর, কাজির পয়েন্ট, নতুনপাড়া, তেঘরিয়া, আরপিন নগর, নবীনগর, কালিপুরসহ বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।  

জেলার সুরমা, যাদুকাটা, বৌলাই, রক্তি, কুশিয়ারাসহ সকল নদীর পানি ক্রমশ বাড়ছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় এখনো বাড়ছে সুরমা নদীর পানি। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত থেকে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কম হওয়ায় আজ শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত শহরের ঘোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৮১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।  

বন্যায় জেলার ২১৮টি বিদ্যালয়ে বিদ্যালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। এসব বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ করা হয়েছে। যার মধ্যে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ২২টি, দোয়ারাবাজার উপজেলার ১৮টি, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ২৭টি, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ৩টি, ছাতক উপজেলার ১০টি, জামালগঞ্জ উপজেলার ৩০টি, তাহিরপুর উপজেলার ১৯ ও ধর্মপাশা উপজেলার ৫৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ করা হয়েছে। 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জিল্লুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

এছাড়া জেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসাসহ মোট ৫০টি প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। যার মধ্যে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ৯টি, বিশ্বমম্ভরপুর উপজেলায় ১৭টি, জামালগঞ্জ উপজেলায় ৪টি, ধর্মপাশা উপজেলায় ২টি, দোয়ারাবাজার উপজেলায় ১০টি এবং তাহিরপুর উপজেলায় ৮টি।

এদিকে অব্যাহত পাহাড়ি ঢলের কারণে সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কের আনোয়ারপুর ও শক্তিয়ারখলাসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় জেলা সদরের সঙ্গে তাহিরপুরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন এই সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী হাজারো জনসাধারণ। 

অন্যদিকে বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে যাওয়ার কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ পড়েছেন চরম বিপাকে। তারা কাজের সন্ধানে বাহিরে যেতে না পারায় পরিবার পরিজন নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন। 

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সমীর বিশ্বাস বলেন, উপজেলার বিশ্বম্ভরপুর শক্তিয়ারখলা সড়কের ২০০ মিটার এলাকায় দিয়ে ঢলের পানি প্রবাহিত হচ্ছে। 

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু বকর সিদ্দিক বলেন, সীমান্তের ওপাড়ে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার কারণে সুরমা নদীর পানি বাড়ছে। ৫টি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বৃষ্টিপাত আরও তিন দিন থাকবে, ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা আছে।  

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো আব্দুল আহাদ জানান, জেলা সদর, বিশ্বম্ভরপুর, দোয়ারাবাজার, তাহিরপুর উপজেলায় অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে পানি বেড়েছে এবং প্রশাসনের তরফ থেকে প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পানি বাড়া অব্যাহত থাকলে বন্যার্তদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হবে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলায় তিন লাখ টাকা, ২০০ মেট্রিক টন চাল এবং ৩ হাজার ৮০০ প্যাকেট শুকনা খাবার মজুত আছে।

এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়