logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬

বরাদ্দ আসার আগেই ভেঙে যায় সবকিছু

স্টাফ রিপোর্টার, মানিকগঞ্জ
|  ১১ জুলাই ২০১৯, ১৩:৪৬ | আপডেট : ১১ জুলাই ২০১৯, ১৫:৫৯
নদী ভাঙন
যমুনায় ভাঙন শুরু হয়েছে
পাহাড়ি ঢলেতে পানি বাড়তে শুরু করেছে মানিকগঞ্জের যমুনা নদীতে। আর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে নদী ভাঙনও। 

ইতোমধ্যে ভেঙে গেছে শিবালয় উপজেলার তেওতা ও দৌলতপুর উপজেলার চারটি ইউনিয়নের শতাধিক বাড়িঘর, মসজিদ, মাদরাসাসহ একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ভাঙনের মুখে রয়েছে আরও বহু ঘরবাড়িসহ বিস্তীর্ণ ফসলী জমি। 

জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, ভাঙনরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা না নেয়ায় প্রতি বছরই বর্ষায় ভাঙন দেখা দেয়। আর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, বরাদ্দ না থাকায় তাদের এই মুহূর্তে কিছুই করার নেই। অপরদিকে নদী পাড়ের মানুষরা বলেন, বরাদ্দ আসার আগেই আমাদের ভেঙে যায় সব কিছু।  

সরেজমিন দেখা গেছে, যমুনার ভাঙনে শিবালয় ও দৌলতপুর উপজেলার শতাধিক বাড়িঘর ও বিস্তীর্ণ ফসলী জমির পাশাপাশি ভেঙে গেছে আবুডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ একটি মসজিদ ও একটি মাদরাসা। ভাঙনের মুখে পড়েছে বাচামারা উত্তরখন্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুইটি ভবন। নদী ভাঙনে আতংকিত হয়ে পড়েছেন নদীপাড়ের মানুষেরা। এদিকে স্কুল ভেঙে যাওয়ায় লেখাপড়া করতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। 

দৌলতপুর উপজেলার জিয়নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন বলেন, ভাঙন রোধে স্থায়ীভাবে কোনও ব্যবস্থা না নেয়ায় প্রতিবছরই বর্ষায় তীব্র ভাঙন দেখা দেয়। 

জেলা প্রশাসক এস এম ফেরদৌস জানান, ইতোমধ্যে নদী ভাঙনের শিকার পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা ও ঢেউটিন দেয়া হয়েছে। আর পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ভাঙন রোধে ব্যবস্থাও নিতে বলা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলছেন, জরুরি ভিত্তিতে কিছু জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর কাজ করা হয়েছে। স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। সেটি পেলে আগামী অর্থ বছরে কাজ শুরু করা হবে।

প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে এমন ভাঙনের শিকার হন যমুনা পাড়ের মানুষ। তাদের দাবী পূরণে প্রতিবছরই প্রতিশ্রুতি দেয়া হয় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের। বছর যায়, বছর আসে। কিন্তু নদীপাড়ের দাবী অপূরণই থেকে যায়। আগামীতে নিশ্চয়ই সরকার এ ব্যাপারে একটু নজর দিবে।

এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়