logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

মেঘনায় ধরা পড়লো পৌনে ৩ কেজি ওজনের ইলিশ

ভোলা প্রতিনিধি
|  ০৬ জুলাই ২০১৯, ১৬:৩৭ | আপডেট : ০৬ জুলাই ২০১৯, ১৯:০৪
ইলিশ, মেঘনা
ভরা মৌসুমে ইলিশের দেখা নেই। এ যেন খরা মৌসুম। তাপমাত্রা  বৃদ্ধি ও বৃষ্টিহীন বর্ষাকাল। মেঘনা নদী চষে খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন জেলেরা।  কিন্তু গতকাল শুক্রবার দুপুরে ভোলার তজুমদ্দিনে কবির মাঝির জালে উঠে আসে দুই কেজি ৭০০ গ্রাম ওজনের বিশাল এক ইলিশ। সঙ্গে ছোট বড় আরও কয়েকটি। এমন বড় আকারের ইলিশ কয়েক বছরে দেখা যায়নি। কবির মাঝি ইলিশটি ১০ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি করেন উপজেলা মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি আবুল হাসেম মহাজনের আড়তে। শশিগঞ্জ বাজারে ওই ইলিশ দেখতে ভিড় জমে যায়।

হাসেম মহাজন জানান, সাধারণত মে-জুন মাস থেকেই ইলিশের ভরা মৌসুম শুরু হয়। এ সময় জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ার কথা। কিন্তু এবার ইলিশ দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। মেঘনা নদীতে ইলিশের খরা চলছে।

তজুমদ্দিন প্রেসক্লাব সভাপতি ও ব্যবসায়ী মো. রফিক সাদি জানান,  জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবেই ইলিশের আকাল। তবে দুই দিন আগে অমাবস্যা শুরু হতেই বৃষ্টি শুরু হয়। আর এতেই সাগর থেকে প্রমাণ সাইজের ইলিশ ওঠে  আসে। উন্নয়ন সংস্থা ড্রপ এর জেলা কর্মকর্তা তরুণ কান্তি দাস জানান, জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে ভোলাসহ উপকূলীয় অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত  ছিল। একইসঙ্গে বৃষ্টি হচ্ছিল না। বর্ষাকালে বৃষ্টি নেই। সাধারণত মুষলধারার বৃষ্টিতে মেঘনা নদীতে লবণ পানি সড়ে গিয়ে মিঠা পানি প্রবেশ করে।

ওই সময় সাগর থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ মাছ ওঠে আসে ভোলার শাহবাজপুর চ্যানেল। এমন পরিবেশ এবার দেখা যায়নি। তথাপি গেল তিনদিন ক্ষণে ক্ষণে বৃষ্টি শুরু হয়। তাতে তাপমাত্রা কমে ৩২ ডিগ্রিতে নামে। ঝাঁকের ইলিশের অপেক্ষায় জেলার এক লাখ ৭০ হাজার জেলে অপেক্ষা করছে। ইলিশের আশায় তিন শতাধিক মাছ ব্যবসায়ীর প্রায় ২০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে বলে জানান জেলা মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি নুরুল ইসলাম মুন্সী। ইলিশের আয়ের ওপরই নির্ভর করছে এ অঞ্চলের প্রায় ১৫ লাখ মানুষের জীবনযাত্রা। ফলে তজুমদ্দিনের কবির মাঝির জালে বড় ইলিশ ধরা পড়ায় জেলার সব জেলেরাই বড় ইলিশ আসছে এমন আশায় সময় বুক বাঁধছেন।

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়