logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

‘অটিজম বিষয়ে সচেতনতা তৈরি হলেও এখনও গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়নি’ (ভিডিও)

রাজশাহী প্রতিনিধি
|  ০৫ জুলাই ২০১৯, ২০:৫৪ | আপডেট : ০৬ জুলাই ২০১৯, ২২:০২
‘সমাজে অটিজম বিষয়ে সচেতনতা তৈরি হলেও এখনো সেভাবে তাদের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়নি। তাই বিশেষ শিশুদের জন্য একটি ইতিবাচক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।’

ইন্সপিরেশন সোস্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক এবং আরটিভির অটিজম সংক্রান্ত বিশেষ অনুষ্ঠান ‘হাত বাড়িয়ে দিলাম’ এর পরিচালক সৈয়দা মুনিরা ইসলাম অটিজম বিষয়ে এক কর্মশালায় রাজশাহীতে আজ শুক্রবার এ কথা বলেন।

ইন্সপিরেশন সোস্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি এবং আরটিভির উদ্যোগে রাজশাহীতে অটিজমসহ অন্যান্য স্নায়ুবিক প্রতিবন্ধিতা ব্যবস্থাপনা এবং স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট এর উপর দিনব্যাপী এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে কর্মশালায় প্রায় ৩৫০ জন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু, তাদের অভিভাবকসহ বিশেষ স্কুলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে তিনি আরও জানান, প্রতিবন্ধিতা একটি বৈশ্বিক বিষয়। প্রতিটি দেশেই এর অস্তিত্ব রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ওয়েবসাইটে দেয়া সাম্প্রতিক তথ্য মতে, এক বিলিয়ন প্রতিবন্ধি মানুষের আবাস এই পৃথিবীতে; যা পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ১৫ শতাংশ। বাংলাদেশে প্রতিবন্ধি জনসংখ্যার সঠিক পরিসংখ্যান এখনো সঠিকভাবে নিরুপণ করা সম্ভব হয়নি। তবে সমাজসেবা অধিদপ্তর এর তথ্যভাণ্ডারে মার্চ ২০১৯ পর্যন্ত শনাক্তকৃত প্রতিবন্ধি ব্যক্তির সংখ্যা ১৬ লাখ ৪২ হাজার ২৮১ জন। এর মধ্যে অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন মানুষের সংখ্যা ৪৭ হাজার ৩৮২ জন। ডাউন সিনড্রোম ৩ হাজার ৫৯২ জন, সেরিব্রালপালসি ৭৫ হাজার ৭০৩ জন, বুদ্ধি প্রতিবন্ধি ১ লাখ ২৯ হাজার ৫৭ জন।

অটিজম ব্যবস্থাপনার উপর মূল প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন আন্তর্জাতিক এ্যাডোস ট্রেনার এবং সূচনা ফাউন্ডেশন এর কনসালটেন্ট ডা. নুসরাত ইয়াসমিন। তিনি বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের আগ্রহ ও সম্ভাবনার জায়গাটি খুঁজে বের করে সেই হিসেবে তাদের প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। এর পরপরই অনুষ্ঠানে অভিভাবকদের স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে একটি বিশেষ আলোচনায় অংশ নেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট তানজির আহমেদ তুষার।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর আনন্দ কুমার সাহা, FWCA এর সভাপতি শাহীন আকতার রেনী, রাজশাহী জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর এর উপপরিচালক মো. রাশেদুল কবীর, আনন্দধারা স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ওয়াহিদা খানম, রাজশাহী প্রয়াশ এর অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম, সুইড বাংলাদেশের রাজশাহী শাখার অধ্যক্ষ জান্নাতুন নাহার আভা, সমাজসেবী কল্পনা রায়, নওগাঁ আশার আলো বিশেষ স্কুলের অধ্যক্ষ অসীমসহ সমাজের বিভিন্ন পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

মেয়র বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও তার সুযোগ্য কন্যার একনিষ্ঠ প্রচেষ্টায় আজ আমাদের দেশের সমাজ ব্যবস্থার মূল স্রোতের সাথে কিভাবে প্রতিবন্ধিদের আরো সুন্দর করে যত্ন নেয়া যায়, তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে উন্নতমানের ম্যানেজমেন্টে আনা যায়, সে ব্যাপারে কাজ চলছে। আমরাও রাজশাহীতে আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে উন্নতমানের প্রতিষ্ঠান করে, সেখানে যাতে এই বিশেষ শিশুরা শারীরিক, মানুষিক প্রশিক্ষণ পায়, সে ব্যাপারে কাজ করে যাচ্ছি।

শাহীন আকতার রেনী বলেন, বিশেষ এই শিশুর অভিভাবকদের আকুতি, সন্তানের মৃত্যুর আগে যেন তাদের মৃত্যু না হয়। এটা যে কত কষ্টের। এই ব্যথায় আমরাও ব্যথিত। আমরা এই বিশেষ শিশুদের পাশে আছি। এই সমাজে বিশেষ শিশুদের একটি সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আসুন সবাই একযোগে কাজ করি।

সব শেষে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে আরটিভির অটিজম সংক্রান্ত বিশেষ অনুষ্ঠান ‘হাত বাড়িয়ে দিলাম’ এর পরিচালক সৈয়দা মুনিরা ইসলাম প্রতিবছর এ ধরনের কর্মশালা আয়োজন করার জন্য গুরুত্বারোপ করেন।

পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়