logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬

বৈধ অনুমোদন নেই ফরিদপুরে ৭৫ শতাংশ বহুতল ভবনের

আরটিভি অনলাইন
|  ২২ জুন ২০১৯, ১২:২১ | আপডেট : ২২ জুন ২০১৯, ১৪:১০
বৈধ অনুমোদন নেই ফরিদপুরে ৭৫ শতাংশ বহুতল ভবনের। ছবি-সংগৃহীত
ফরিদপুর ৭৫ শতাংশ বহুতল ভবনের বৈধ অনুমোদন নেই। সরকারি ভবন নির্মাণ বিধি না মেনেই মালিকেরা নিজেদের ইচ্ছা মতো ভবন নির্মাণ করছে। এর ফলে চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ভবনগুলোতে বসবাসরত মানুষেরা।

পৌরসভা থেকে নকশা অনুমোদন করাসহ ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কিছু বিধিনিষেধ মেনে চলার বিধান থাকলেও বহুতল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে ভবনের মালিকেরা এসব নীতিমালা তোয়াক্কা করছে না। তবে জেলা প্রশাসন বলছে, সরকারি আদেশ মানতে বাধ্য করা হবে অবৈধ ভবন মালিকদের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ফরিদপুর শহরের নীলটুলি, ঝিলটুলি, জনতা ব্যাংক মোড়, খাবাসপুর, লক্ষিপুর ও আলীপুরসহ অনেক এলাকায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য বহুতল ভবন যেগুলোর বেশিরভাগই সরকারি নিয়মকানুন না মেনেই নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া এসব অধিকাংশ ভবনে নেই ফায়ার সার্ভিসের অগ্নি প্রতিরোধের ব্যবস্থা।

অপরদিকে পৌরসভার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তারা নকশা অনুমোদন করলেও নকশা অনুযায়ী ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছে কি না সে বিষয়ে কোনও তদারকি করে না।

ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র শেখ মাহতাব আলী মেথু জানান,  পৌরসভা থেকে বর্তমানে ভবন নির্মাণে যে নকশার অনুমোদন দেয়া হচ্ছে তা সরকারি নিয়মের মধ্যে থেকে। তবে বিল্ডিং কোড আইন ঘোষণার আগে যে সকল ভবন হয়েছে তা এই আইনের আওতায় নেই।

অভিযোগের কথা স্বীকার করে পৌর মেয়র বলেন, প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল না থাকায় সঠিক তদারকি করা যাচ্ছে না। চেষ্টা করা হচ্ছে সকলকেই নিয়মের মধ্যে আনতে।

ফরিদপুরে শাহ ফরিদ রিয়েল স্টেটের মালিক ওমর আলী খান এ অভিযোগ করেন, ‘টাকা ছাড়া সরকারি দপ্তরের ফাইল ছাড়া হয় না। সরকারি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো যদি আমাদের বাধ্য করে বিল্ডিং কোড মানতে তা হলে আমরা কেন তা করবো না।’ তিনি বলেন, ‘ডেভেলপার কোম্পানিগুলো সকলেই চেষ্টা করছে সরকারি নিয়মের মধ্যে থেকে কাজ করতে। যতটুকু সমস্যা রয়েছে তা দ্রুত সমাধানের জন্য চেষ্টা চলছে।’ 

ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারি পরিচালক মমতাজ উদ্দিন আহম্মেদ জানান, ফরিদপুর শহরের দুই শতাধিক ভবন রয়েছে যার ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশরই বৈধ অনুমোদন নেই। আমাদের ফায়ার স্টেশনের ছয় তলা পর্যন্ত আগুন নেভানোর ক্ষমতা রয়েছে। এর বেশি উঁচু ভবনের কোনও বিপদ ঘটলে কি হবে বলা যাচ্ছে না।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া বলেন, বহুতল ভবন করতে হলে সরকারি নিয়মের মধ্যে করতে হবে। এর ব্যতিক্রম কেউ করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতোমধ্যেই অবৈধ ভবনের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। ভবন মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

সূত্র: ইউএনবি

এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়