logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬

আলম এশিয়া বাসের হেলপারও গ্রেপ্তার

গাজীপুর প্রতিনিধি
|  ১১ জুন ২০১৯, ১১:১৯ | আপডেট : ১১ জুন ২০১৯, ১২:২৭
আলম এশিয়া পরিবহনের হেলপার আনোয়ার হোসেনকে সোমবার রাতে শেরপুরের নালিতাবাড়ী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়, ছবি: আরটিভি অনলাইন
চলন্ত বাস থেকে যাত্রীকে লাথি মেরে ফেলে তার ওপর গাড়ি চালিয়ে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় আলম এশিয়া পরিবহনের হেলপার আনোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে শেরপুরের নালিতাবাড়ী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জয়দেবপুর থানার ওসি আসাদুজ্জামান এ খবর নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে সোমবার দুপুরে প্রধান আসামি বাসচালক রোকন উদ্দিনকে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জয়দেবপুর থানার ওসি আসাদুজ্জামান আরটিভি অনলাইনকে বলেন, গত রোববার দুপুরে আলম এশিয়া পরিবহনের বাস থেকে সালাহউদ্দিন আহমেদ নামে এক যাত্রীকে লাথি মেরে ফেলে পরে তার ওপর গাড়ি চালিয়ে হত্যা করা হয়। ওই যাত্রীও পেশায় একজন গাড়িচালক ছিলেন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই জালালউদ্দিন ওই রাতে চারজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। বাসটি জব্দ করা হলেও চালক ও তার সহকারীসহ মামলার আসামিরা পালিয়ে যায়। পরে তাদের ধরতে পুলিশের একটি টিম অভিযান চালায়। জয়দেবপুর থানা পুলিশের ওই দলটি তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় সোমবার দুপুরে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া সীমান্ত এলাকা থেকে বাসচালক রোকন উদ্দিন ও সহকারী আনোয়ার হোসেনকে শেরপুরের নালিতাবাড়ী থেকে গ্রেপ্তার করে।

নিহতের ছোট ভাই জামাল উদ্দিন জানান, নিহত সালাহউদ্দিন তার স্ত্রী পারুলকে নিয়ে বাঘের বাজার এলাকায় ভাড়া থেকে একটি কারখানার গাড়ি চালাতেন। সকালে ঈদের ছুটি কাটিয়ে সস্ত্রীক ময়মনসিংহের ফুলপুর শ্বশুর বাড়ি থেকে গাজীপুরে কর্মস্থলে ফিরছিলেন। পথে ‘আলম এশিয়া’ বাসে ভাড়া নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

মাওনা হাইওয়ে থানার ওসি দেলোয়ার হুসেন বলেন, বাসের ভেতরে চালকের সহযোগীকে ড্রাইভার পরিচয় দিয়ে সালাউদ্দিন ভাড়া কম রাখার জন্য অনুরোধ করেন। এই নিয়ে সালাউদ্দিন ও তার স্ত্রীর সঙ্গে চালকের সহযোগীর বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে চালকের সহযোগী লাথি মেরে সালাহউদ্দিনকে ফেলে দেবে বলে প্রকাশ্যে হুমকি দেয়। ভয় পেয়ে সালাহউদ্দিন তার ভাই জামালকে মোবাইল ফোনে বাঘের বাজার বাসস্ট্যান্ডে এসে দাঁড়াতে বলে। পরে জামাল আরও পাঁচ-ছয়জন নিয়ে বাঘের বাজার দাঁড়িয়ে থাকেন। স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা স্বজনরা কিছু বোঝে ওঠার আগেই লাথি মেরে সালাহউদ্দিনকে বাস থেকে ফেলে দেয়া হয়। আর তার স্ত্রীকে না নামিয়ে বাসটি চলে যেতে থাকে। এসময় সালাহউদ্দিন সড়ক থেকে উঠে গাড়ির সামনে গিয়ে গতিরোধের চেষ্টা করেন। এ সময় স্বজনদের সামনে চালক বাসটি তার ওপর উঠিয়ে দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই সালাহউদ্দিন মারা যান। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে গিয়ে নিহতের স্ত্রী পারুলকে নামিয়ে দেয়া হয়। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ।

জেবি/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়