logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬

বান্ধবীর বাড়ি বেড়াতে এসে শ্লীলতাহানির শিকার দুই কিশোরী

বাগেরহাট প্রতিনিধি
|  ০৯ জুন ২০১৯, ২১:৪১
ঈদে বাগেরহাটের শরণখোলায় বান্ধবীর বাড়ি বেড়াতে এসে দুষ্কৃতকারীদের হাতে শ্লীলতাহানি ও মারধরের শিকার হয়েছেন অন্তঃসত্ত্বা পিংকি ও হাফিজা নামের দুই কিশোরী। এমনকি আপত্তিকর ছবি তুলে হুমকি দিয়ে বলা হয়, ঘটনা প্রকাশ করলে ছবিগুলো নেটে ছেড়ে দেয়া হবে। এঘটনায় বাধা দেয়ায় বান্ধবীর বাবা, মা ও ভাবীসহ মোট ১১জনকে মারধর করে আহত করা হয়েছে। এদের মধ্যে পিংকি ও সুমি আকতারকে শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

whirpool
শরণখোলা উপজেলার মধ্য খোন্তাকাটা গ্রামের মোশারফ হোসেন বলেন, তার মেয়ে বেবী আকতার ঢাকার কেরাণীগঞ্জে চাকরি করার সুবাদে ওই এলাকার অপর চাকরিজীবী পিংকি আকতার ও হাফিজা আকতার মিলে এক সঙ্গে ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। ঈদে পিংকি ও হাফিজা তার মেয়ে বেবীর সাথে তার বাড়ি বেড়াতে আসেন। এসময় এলাকার বখাটে জসিম উদ্দিন ও সোহেলের নেতৃত্বে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম দর্জি, মিজান সরদার, ইয়াকুব মিস্ত্রি, এলাকার মহিলা ইউপি সদস্য রোকেয়া বেগম ও চৌকিদার সগির হোসেনসহ কতিপয় বখাটে শুক্রবার রাত ৯টার দিকে নষ্টা মেয়ে আখ্যা দিয়ে পিংকি ও হাফিজাকে আমার বাড়ি থেকে টেনে হিচড়ে খোন্তাকাটা বাজারের আনসার ও ভিডিপি ক্লাবে এনে দরজা জানালা বন্ধ করে মারধর, শ্লীলতাহানি ও ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। এসময় হাফিজা ও পিংকির আপত্তিকর ছবি তুলে শাসিয়ে বলা হয়, সাংবাদিক কিংবা কাউকে ঘটনা জানালে এ ছবি নেটে ছেড়ে হবে।

এ বিষয়ে মহিলা ইউপি সদস্য রোকেয়া কিশোরীদেরকে জসিম ও সোহেল শ্লীলতাহানি করার কথা স্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। অপরদিকে ঘটনার নেতৃত্বদানকারী জসিম নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, নুরুল ইসলাম ও রোকেয়া দু’জনে তাদেরকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যান। নুরুল ইসলাম ওদের কাছে ৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। তবে নুরুল ইসলাম এসব বিষয় অস্বীকার করেছেন।

এসময় ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় ইউপি সদস্য হাসানুজ্জামান জমাদ্দার, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি এনামুল জমাদ্দার ও স্থানীয় যুবলীগ নেতা তরিকুল ইসলাম অপু মারধর ও শ্লীলতাহানির কথা স্বীকার করে বলেন, তারা এদেরকে নিবৃত্ত করার শেষ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে থানা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে আহতদের উদ্ধার করেন।

শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ দিলীপ সরকার জানান, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। স্থানীয় চেয়ারম্যান মীমাংসার কথা বলে উভয়পক্ষের দায়িত্ব নেন। যদি সমাধান না হয়, তাহলে এজাহার দিলে মামলা দায়ের করা হবে।

পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়