logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬

নওগাঁর গোপালভোগ পরিচিতি পাচ্ছে না প্রচারের অভাবে

নওগাঁ প্রতিনিধি
|  ২৫ মে ২০১৯, ২১:২১
গোপালভোগ সংগ্রহের মাধ্যমে নওগাঁর বাজারে আসছে আম। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আম সংগ্রহে উদ্বুদ্ধকরণ ও ব্যাপক প্রচারের লক্ষ্যে জেলার পোরশা উপজেলায় গোপালভোগ আম পাড়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। ‘ফলের রাজা আম, আমের রাজা পোরশা’ স্লোগানকে সামনে রেখে চলতি মৌসুমে জেলার পোরশায় গোপালভোগ জাতের আম সংগ্রহ শুরু হয়েছে।

whirpool
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলার বড় মাদরাসার পাশের আব্দুস সামাদের আমবাগান থেকে আম নামানো শুরু হয়। আম নামানোর উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হামিদ রেজা। আম অধিকতর নিরাপদ ও এই আমকে সারা দেশে ব্যাপক পরিচিতি করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

এসময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহফুজ আলম, খাদ্য কর্মকর্তা শওকত জামিল প্রধান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হাই, পোরশা আম সমিতির সভাপতি আব্দুস সামাদ শাহ্, সম্পাদক মোস্তফা শাহ, বাহারী বাজার অনলাইন আম ব্যবসায়ী মাসুদ পারভেজ, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম রইচউদ্দিনসহ আম ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র মতে, এ বছর জেলায় ১৮ হাজার ৫২৭ হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে। এর মধ্যে পোরশায় ৯ হাজার হেক্টর, সাপাহার উপজেলায় ৪ হাজার হেক্টর, নিয়ামতপুরে ৯৫০ হেক্টর, পত্নীতলায় ২ হাজার ২শ হেক্টর, ধামইরহাটে ৬১৫ হেক্টর, মান্দায় ৪শ হেক্টর, নওগাঁ সদরে ৪শ হেক্টর, মহাদেবপুরে ৩৬০ হেক্টর, বদলগাছীতে ৩৪০ হেক্টর, রানীনগের ১৪৬ হেক্টর এবং আত্রাইয়ে ১১৬ হেক্টর। এ বছর আমের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৫ লাখ মেট্রিকটন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২৪ মে গোপালভোগ, ৩০ মে খিরসাপাত ও হিমসাগর, ১ জুন নাগফজলি, ৭ জুন ল্যাংড়া, ১৫ জুন ফজলী, ২২ জুন আম্রপালি, ১ জুলাই আশ্বিনা আম গাছ থেকে পাড়া হবে। আম চাষীরা আমে কোনো প্রকার কেমিক্যাল প্রয়োগ করতে না পারে এ জন্য বাগানগুলোতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

জেলার সাপাহার, পোরশা, নিয়ামতপুর উপজেলা এবং পত্নীতলা ও ধামইরহাট উপজেলার আংশিক বরেন্দ্র এলাকা হিসেবে খ্যাত। এলাকার জমিতে বছরের একটিমাত্র ফসল হয় তা হলো বৃষ্টিনির্ভর আমন ধান। পানি স্বল্পতার কারণে বছরের বেশির ভাগ সময় জমি অনাবাদি পড়ে থাকত। এছাড়া ধানের আবাদেও খরচ বেশি হতো। অপরদিকে আম চাষে লাভ বেশি। ফলে ধান উৎপাদনের খরচ বেশি হওয়ায় কৃষকরা এখন আম চাষে ঝুঁকেছেন। এতে করে প্রতি বছর প্রায় ২-৩ হাজার হেক্টর জমিতে বাড়ছে আম বাগান। আম্রপালি, আশ্বিনা, খিরসা, মল্লিকা, হাড়িভাঙা ও ল্যাংড়াসহ কয়েকটা জাতের আম চাষ করা হচ্ছে। এঁটেল মাটি হওয়ার কারণে এ এলাকার আম বেশ সুস্বাদু। সুস্বাদু হওয়ায় আমের রাজা চাঁপাইনবাবগঞ্জকে ছাড়িয়ে গেছে নওগাঁর আম।

আমচাষীরা বলেন, এঁটেল মাটি হওয়ার এ এলাকার আম বেশ সুস্বাদু। এ এলাকার আমকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম বলে বিক্রি করা হয়ে থাকে। যখন আম পাকা শুরু হয় তখন একসাথে বাজারে উঠতে শুরু করে। আর এ সুযোগে আম ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে আমের দাম কমিয়ে দেয়। এতে করে চাষীরা দাম কম পায় কিন্তু ব্যবসায়ীরা লাভ ঠিকই পায়। চাষীরা ন্যায্য দাম পাওনা থেকে বঞ্চিত হন। আম মৌসুমে দামের ব্যাপারে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন আম চাষীরা।

উপজেলার নিতপুর গ্রামের আমচাষী আব্দুল হাকিম ও গোলাম মোস্তফাসহ কয়েকজন বলেন, কৃষি বিভাগের নির্দেশনা ও পরামর্শ অনুযায়ী আমগাছের পরিচর্যা এবং সময়মতো সার ও কীটনাশক ব্যবহার করা হয়েছিল। যে কারণে আম গাছে প্রচুর পরিমাণে মুকুল এসেছিল। ফলে গাছে ভালো আম এসেছে। নিরাপদ ও ফরমালিনমুক্ত আম বাজারে সরবরাহ করতে পারবেন বলে আশাবাদী তারা।

গণপুর গ্রামের আমচাষি আমজাদ হোসেন বলেন, তিনি আগে ১৫ বিঘা জমিতে ধান চাষ করতেন। জমিগুলো উঁচু হওয়ায় সেখানে শুধু আমন মৌসুমে ধান চাষ হতো। বছরে একটিমাত্র ফসল আমন যা ছিল বৃষ্টিনির্ভর। আম চাষে লাভ দেখে ওইসব জমিতে পাঁচ বছর আগে আম্রপালি জাতের আমের বাগান গড়ে তোলেন। ব্যবসায়ীরা তার বাগান কেনার জন্য প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম করেছেন। আরও বেশি দামের আশায় তিনি এখনও বিক্রি করেননি।

পোরশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহফুজ আলম বলেন, এ উপজেলার আম স্বাদে-গন্ধে-মানে-মিষ্টিত্বে অতুলনীয়। নিরাপদ আম উৎপাদনের লক্ষ্যে চাষিদের সাথে আমরা বিভিন্ন সময়ে মতবিনিময় করেছি। এছাড়া পোরশার আমকে ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে রপ্তানি করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। আমের ব্যাপক প্রচার ও বিভিন্ন তথ্য প্রদানের জন্য ‘উপজেলা কৃষি অফিস পোরশা’ নামে একটি ফেসবুক আইডি ও ‘পোরশার আম’ নামে একটি ফেসবুক পেজ খোলা হয়েছে। সেখানে আমের বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যাবে। আমের ব্র্যান্ডিং (প্রচার-প্রচারণা)-এর অভাবে অনেকটাই পিছিয়ে আছে। নওগাঁর আমকে ব্রান্ডিং হিসেবে পরিচিত করার জন্য সকলের সহযোগিতা চান তিনি।

পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়