logo
  • ঢাকা সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

ইউএনও ঠেকালো অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীর বিয়ে, বরসহ আটক তিন

রাঙামাটি প্রতিনিধি
|  ১৪ মে ২০১৯, ১২:১৪ | আপডেট : ১৪ মে ২০১৯, ১২:২৬
ফাইল ছবি
স্কুলপড়ুয়া কিশোরীকে জোর করে বিয়ে দেয়ার সব আয়োজনই সম্পন্ন করে মেয়ের মা-মামা। মেয়ের কোনো আবদারই শুনতে চায়নি পরিবার। মেয়ের আবদার উপেক্ষা করে বিয়ের সব আয়োজনও প্রস্তুত। বরও এসে হাজির। এমন সময় কনের বাড়িতে পুলিশ নিয়ে হাজির হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। ফলে বাল্য বিয়ের হাত থেকে রেহাই মিলে কিশোরী কলির। আটক করা হয় বরসহ তিনজনকে।

সোমবার রাতে রাঙামাটি শহরের রিজার্ভ বাজারস্থ ২নং পাথরঘাটায় এই ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, শহীদ আবদুল আলী একাডেমির অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী কলি আকতারের সাথে বনরূপার আবদুল আলীর ছেলে দীন ইসলামের সাথে বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করা হয়। কিন্তু কনে কলি পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলে অভিভাবকদের বারবার বিয়ে না দেয়ার অনুরোধ করে। কিন্তু তার কথায় গুরুত্ব না দিয়ে কলির মা নাজমা আকতার ও মামা সেলিম বরপক্ষের সাথে কথাবার্তা বলে সবকিছু ঠিক করে। সোমবার রাতেই বিয়ের সব আয়োজন করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিয়ে বন্ধ করা হয়।

১ ও ২নং ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজী এম এ মুস্তফা হেজাজী জানান, মদন নামের একজন তাঁকে সকালে ফোন করে একটি বিয়ে পড়ানোর কথা বলেন। তখন তিনি মেয়ের বয়স ঠিক আছে কিনা, জন্ম নিবন্ধন আছে কিনা জানতে চান। জবাবে মদন বলেন, সব ঠিক আছে। কাগজপত্র ঠিক না থাকলে এবং মেয়ের বয়স ১৮বছর পূর্ণ না হলে বিয়ে রেজিস্ট্রি করবেন না বলে কাজী জানান। এশার নামাজের পর মদন কাজী সাহেবকে ফোন করে জানান, জন্ম নিবন্ধনের কাগজ এখনো হাতে এসে পৌঁছায়নি। তাই একটু দেরী হচ্ছে। কাগজ হাতে আসলে কাজীকে ফোন করবেন বলে জানান।

রাঙামাটি সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জোনায়েদ কবির সোহাগ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাল্য বিয়ের সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি কনের অমতে এই বিয়ের আয়োজন করা হয়। তাছাড়া মেয়ের বয়স এখনও ১৮ হয়নি। বিয়ে আয়োজনের সাথে সম্পৃক্ত মেয়ের মামা মো. সেলিম, বর দীন ইসলাম ও বরের বাবাকে আটক করে থানা হাজতে পাঠানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ জানান, বাল্য বিয়ের মতো অপরাধের সঙ্গে যারা জড়িত থাকবে, তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।

পি

 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়