• ঢাকা শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৯, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

‘ফণী’র আতঙ্কে উপকূলবাসী, পটুয়াখালীর ১২ গ্রাম প্লাবিত

স্টাফ রিপোর্টার, পটুয়াখালী
|  ০৩ মে ২০১৯, ২১:০৫ | আপডেট : ০৩ মে ২০১৯, ২১:৩৭
নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে উপকূলবাসী, ছবি: আরটিভি অনলাইন
ঘূর্ণিঝড় ফণীর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন পটুয়াখালীর উপকূলবাসী। প্রাণ ভয়ে নিরাপদে ছুটছেন উপকুলের লোকজন। দুপুরের পর থেকে দমকা বাতাস, বৃষ্টি ও পানি বৃদ্ধিসহ আবহাওয়া খারাপ হওয়ায় উপকূলের মানুষদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে। স্থানীয় প্রশাসন থেকে দফায় দফায় মাইকিং করে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। মাইকিংয়ের পর বিকেলের দিকে উপকূলের দুর্গম অঞ্চলের লোকজন তাদের সহায়-সম্বল নিয়ে ট্রলারের সাহায্যে নিরাপদে সরে যাচ্ছেন।   

whirpool
এদিকে শুক্রবার দুপুরের দিকে বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার মেহেন্দিয়াবাদ, চরখালী ও গোলখালী, রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়া এলাকার গোলবুনিয়া, গরুভাঙ্গা ও উত্তর চালিতাবুনিয়া গ্রাম এবং সদর উপজেলার মাটিভাঙ্গা, ভাজনা, ফুলতলাসহ অন্তত ১২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে এসব গ্রামের মৌসুমি ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মেহেন্দিয়াবাদ, চরখালী ও গোলখালী গ্রাম তিনটি প্লাবিত হওয়ার পর মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল-জাকি নিশ্চিত করেছেন।

অপরদিকে শুক্রবার দুপুরের দিকে রাঙ্গাবালী উপজেলার চরকাশেম দ্বীপের ঝুঁকিতে বসবাসরত দুই শতাধিক পরিবারকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এছাড়াও জেলার উপকূলীয় উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলের লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত থেকে পর্যটকদের সরে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দফায় দফায় মাইকিং করা হচ্ছে। এর ফলে পর্যটক শুন্য হয়ে পরেছে কুয়াকাটা। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত পর্যটকরা হোটেল-মোটেলে তাদের বুকিং বাতিল করে আজ শুক্রবার সকাল থেকে কুয়াকাটা ত্যাগ করতে শুরু করেন।

চরকাশেম এলাকার দিনমজুর আবদুস সোবহান ফকির বলেন, ‘মোরা অ্যাহন খুব আতঙ্কে আছি। দুহুরের পর থেইকা আকাশ খুব খারাপ হইয়া গ্যাছে। কহোন কি হইয়া যায় হেই ভয়তে মোর বউ-পোলাপান লইয়া তরের দিকে (মূল ভূখণ্ডে) চইল্লা আছি’।

চালিতাবুনিয়া গ্রামের গৃহবধূ মোসা. মাকসুদা বেগম বলেন, ‘মোগো বাড়ি কয়দিন আগে নদীতে লইয়া গেছে এবং বাড়ির পাশের সাইক্লোন সেন্টারটিও নদীতে পরে পরে ভাব। দুইডা ভিম নদীর মধ্যে চলে গেছে। এহোন কই যামু, যাওনের তো কোনও জায়গা নাই। তাই ছেলে ও ছেলে বউদের নিয়ে মোরা স্বামী-স্ত্রী এহানেই থাকমু’।  

ঘূর্ণিঝড় ফণী আঘাত হানলে মানুষের প্রাণহানিসহ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানোসহ যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত জারি করার পর পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন দফায় দফায় সভা করে ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবেলার করণীয় দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করছেন। তা বাস্তবায়নের জন্য প্রতিটি উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দিচ্ছেন। জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়, উপকূলীয় এলাকার মানুষের আশ্রয়ের জন্য ৩৯১টি আশ্রয়ন কেন্দ্র, ১১১টি মেডিকেল টিমসহ খাদ্য সামগ্রী মজুতসহ ঘূর্ণিঝড়ের আগে ও পরে পরবর্তী উদ্ধার কাজের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে রেডক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন সংস্থার ৫ হাজার ২২৫ জন স্বেচ্ছাসেবক সদস্যকে। মজুত রাখা হয়েছে শুকনো খবার ও নগদ টাকাসহ প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র। উপকূল থেকে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ইতোমধ্যে মাইকিং করে সর্বস্তরের মানুষকে সতর্ক করে দিচ্ছে।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী জানান, ফণীর কারণে যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য প্রশাসন প্রস্তুত। প্রস্তুত রাখা হয়েছে জেলার ৩৯১টি আশ্রয়কেন্দ্র ও ১১১টি মেডিকেল টিম। এছাড়া সকল উপজেলা প্রশাসনসহ ৬ হাজার ২২৫ স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং জানমালের যাতে কোনও ক্ষতি না হয় সে জন্য সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, র‌্যাব ও পুলিশ বাহিনী সতর্ক রয়েছে।

পি

 

 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়