• ঢাকা সোমবার, ১৭ জুন ২০১৯, ৩ আষাঢ় ১৪২৬

ধেয়ে আসছে ফণী, আতঙ্কে উপকূলবাসী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
|  ০৩ মে ২০১৯, ১০:১৩ | আপডেট : ০৩ মে ২০১৯, ১০:২১
ঘূর্ণিঝড় ফণী যতই বাংলাদেশের উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ততই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন পটুয়াখালীর সমুদ্র তীরের মানুষজন। বৃহস্পতিবার পায়রা সমুদ্র বন্দরে সাত নম্বর বিপদ সংকেত জারি করার পর থেকে উপকূলবাসীর মধ্যে এ আতঙ্ক দেখা দেয়। এ অবস্থায় উপকূল থেকে লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। পর্যটন এলাকা কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে মানুষজনকে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। সতর্ক বার্তা জারি করে লাল নিশানা উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

whirpool
পর্যটকরা হোটেল-মোটেলে তাদের বুকিং বাতিল করে কুয়াকাটা ত্যাগ করছেন। তবে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসন দফায় দফায় জরুরি সভা করে ঘূর্ণিঝড় ফণীর সর্বশেষ অবস্থান তুলে ধরছেন। ঘূর্ণিঝড় ফণী আঘাত হানলে মানুষের প্রাণহানিসহ ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ কমানোসহ যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে জেলা প্রশাসন। তারপরও টিভি ও পত্রিকাসহ বিভিন্ন সামাজিক গণমাধ্যমে ঘূর্ণিঝড় ফণীর শক্তিমত্তার কথা শুনে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন পটুয়াখালীর উপকূলবাসী।

বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ফণী উপকূলের দিকে অগ্রসরের খবর এবং আবহাওয়া অধিদপ্তর চার নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করার পর থেকেই উপকূলজুড়ে এক ধরনের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করতে শুরু করে। বৃহস্পতিবার ঘূর্ণিঝড় ফণী আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠায় আবহাওয়া অধিদপ্তর চার নম্বর থেকে সাত নম্বর বিপদ সংকেত জারি করে। এতে পুরো উপকূলজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত কিছু কিছু মানুষ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিলেও উপকূলের সিংহভাগ মানুষজন এখনও নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়নি।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাত থেকে সমুদ্রের পানি বাড়তে শুরু করেছে। উত্তাল হয়ে উঠেছে কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর। উঁচু ঢেউ আচরে পরছে সৈকতের তীরে। সমুদ্র উত্তাল হয়ে ওঠায় গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার ট্রলারগুলোও উপকূলে ফিরে এসেছে। এসব মাছ ধরার ট্রলারগুলো আলীপুর-মহিপুর মৎস্য বন্দরসহ উপকূলের তীরে আশ্রয় নিয়েছে। উপকূলে ফিরে আসার সময় বৃহস্পতিবার দুপুরে সোনার চর সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে সাগরের ঢেউয়ের তোড়ে তলা ফেটে এফবি জামাল নামে একটি ফিশিং ট্রলার ১০ জেলে নিয়ে ডুবে যায়। তবে পরবর্তীতে অন্য দুটি ট্রলারের সহায়তায় ঘণ্টাখানেক পরে  জেলেসহ ট্রলারটি উদ্ধার করা হয়। ফণীর প্রভাবে পটুয়াখালীতে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। এছাড়া সকল মাছ ধরার ট্রলার ও নৌকা উপকূলের তীরে নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে এসেছে।

অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাত হানলে মানুষের প্রাণহানিসহ ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ কমানোসহ যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতিও গ্রহণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে পায়রা সমুদ্র বন্দরকে সাত নম্বর বিপদ সংকেত জারি করার পর পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন দুপুরে, বিকেলে ও রাতে দফায় দফায় সভা করে ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবেলার জন্য করণীয় দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন।

উপকূলীয় এলাকার মানুষের আশ্রয়ের জন্য ৩৯১টি আশ্রয়ণ কেন্দ্র, ১১১টি মেডিকেল টিমসহ খাদ্য ও ওষুধ সামগ্রী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে রেডক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন সংস্থার পাঁচ হাজার ২২৫ জন স্বেচ্ছাসেবক কর্মীকে। মজুত রাখা হয়েছে শুকনো খাবার ও নগদ টাকাসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী। উপকূল থেকে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ইতোমধ্যে মাইকিং করে সর্বস্তরের মানুষকে সতর্ক করে দিচ্ছে।

জেলা প্রশাসক মতিউল ইসলাম চৌধুরী আরটিভি অনলাইনকে জানান, ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবেলার জন্য জেলা প্রশাসন সকল ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়