• ঢাকা রবিবার, ১৬ জুন ২০১৯, ২ আষাঢ় ১৪২৬

কারখানায় শেষ শিশুদের শৈশব

পলাশ সাহা, লক্ষ্মীপুর
|  ০১ মে ২০১৯, ০৯:৫০
যে বয়সে তাদের থাকার কথা বিদ্যালয়ে অথবা খেলার মাঠে। সে বয়সে অভাব-অনটনের কারণে পড়ালেখা ছেড়ে ফ্যাক্টরি, ওয়ার্কশপ, গ্যারেজ কিংবা ওয়েলডিংয়ের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দোকানে কাজ করছে তারা।

whirpool
এমন চিত্র লক্ষ্মীপুর সদর, রায়পুর, রামগতি, রামগঞ্জসহ বিভিন্ন পথে-ঘাটে। এসব ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমের বিনিময়ে শিশুরা পাচ্ছে দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা। ইচ্ছা থাকলেও পড়ালেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত তারা। পাশাপাশি জীবনের ঝুঁকিতো আছেই।

শিশু শ্রমিক মো. সাফায়েত (১২) জানান, বাবা মারা যাওয়ার পর পরিবারের বড় সন্তান  হিসেবে পরিবারের হাল ধরার জন্য তাকে ওয়ার্কশপে কাজ করতে হয়। স্কুলে যেতে ইচ্ছে করলেও যাওয়া হয় না।

বিস্কুট কারখানার শিশু শ্রমিক রাফি (১০) জানান, ফ্যাক্টরির ক্যামিকেলের গন্ধে তার শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। তবুও মাস শেষে দুই হাজার টাকা মাইনের  জন্য তাকে কাজ করতে হয়।

শিশু শ্রম অপরাধ জেনেও অভাব-অনটনকে দায়ী করছেন শিশু শ্রম কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানের মালিকরা।

এসব ওয়ার্কশপ, গ্যারেজ কিংবা বিস্কুট ফ্যাক্টরির মালিকরা জানান, অভাবের কারণে এসব শিশুদের বাবা-মা পড়া-লেখার খরচ বহন করতে পারছে না। অল্প বয়সে হাতের কাজ শিখে ভালো উপার্জন সম্ভব বলেও দাবি তাদের। যার ফলে গ্যারেজ, ওয়ার্কশপসহ বিভিন্ন কাজে নিজ দায়িত্বে দিয়ে যায় বাবা-মা।

তবে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম পাটওয়ারী আরটিভি অনলাইনকে জানান, এসব শিশু শ্রম পরিহার করার পাশপাশি শিশুর সকল মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তর কাজ করছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের শিশু পরিবার রয়েছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে এসব শিশুদের মূল ধারায় নিয়ে  আসতে হবে।

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়