logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

নৌকার পক্ষে কাজ করায় ইউপি চেয়ারম্যানকে উপজেলা চেয়ারম্যানের মারধর

কুড়িগ্রাম (উত্তর) প্রতিনিধি
|  ২০ এপ্রিল ২০১৯, ১৪:১৮ | আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০১৯, ১৪:৩২
নৌকার পক্ষে কাজ করায় কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন অর রশীদ হারুনকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে। মারধরের শিকার হারুন অর রশীদ হারুন বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গেল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে ফুলবাড়ী ব্র্যাক অফিস সংলগ্ন ব্রিজের কাছে এ ঘটনা ঘটে।

ইউপি চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদ হারুনের বড় ভাই রজব আলী জানান, বৃহস্পতিবার রাত নয়টার দিকে উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম রাব্বানীর  সঙ্গে দেখা করতে যান নগরাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ারুল হক। নির্বাচনের সময় প্রধান শিক্ষক  আনোয়ারুল হক নৌকার পক্ষে কাজ করায় তাকে গালিগালাজ করে আক্রমণ করতে যান গোলাম রাব্বানী। আত্মরক্ষা করতে দৌড়ে পালিয়ে যান আনোয়ারুল হক। এ সময় ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন হারুন অর রশীদ হারুন। তাকে দেখতে পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের ছেলে মনোয়ার সরকার পাশা, তার চাচাতো ভাই আপেল কমিশনার ও মাসুদ পারভেজ রানাসহ ছয় থেকে সাতজন মোটরসাইকেল নিয়ে ধাওয়া করে। পরে ফুলবাড়ী ব্র্যাক অফিস সংলগ্ন ব্রিজের কাছে আটকিয়ে তাকে কিল, ঘুষি, লাথি মারতে থাকে। একটু পর মোটরসাইকেল চালিয়ে আসেন উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম রাব্বানী। তিনি ইউপি চেয়ারম্যান হারুনকে মাটিতে ফেলতে বলেন। মাটিতে ফেলার পর গোলাম রাব্বানী হারুনের বুকে ও গলায় পা দিয়ে চেপে ধরেন। এ সময় নৌকার পক্ষে কাজ করায় তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। আধঘণ্টা ধরে চলে এই পৈশাচিক নির্যাতন। পরে হারুনকে অর্ধমৃত অবস্থায় ফেলে রেখে উল্লাস করতে করতে চলে যান গোলাম রাব্বানী ও তার লোকজন।  

ইউপি চেয়ারম্যান  হারুন অর রশিদ আরটিভি অনলাইনকে জানান, আমি উপজেলা নির্বাচনে নৌকার পক্ষে ছিলাম। এটাই আমার অপরাধ। উপজেলা চেয়ারম্যান তার লোকজন নিয়ে আমাকে মারধর করেছেন। এমনকি তিনি নিজেও আমার বুকে ও গলায় পা দিয়ে চেপে বসেছিলেন। আমার একটি চোখ গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি রংপুর মেডিকেলে চিকিৎসাধীন আছি। এখান থেকেই মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী আতাউর রহমান শেখ আরটিভি অনলাইনকে জানান, নৌকার পক্ষে কাজ করায়  উপজেলা চেয়ারম্যান আমার কর্মীদের একের পর এক হামলা করছে। একই কারণে শিমুলবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এজাহার আলীর ওপর সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাসান আলীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছে। ফলে উপজেলা জুড়েই আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীরা সন্ত্রাসী গোলাম রব্বানীর ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। এতোকিছুর পরেও প্রশাসন অদৃশ্য কারণে নিরব ভূমিকা পালন করছে।

এ বিষয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী আরটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘রাস্তাত দেখা পাইছি, দিছি দুইটা শট লাগি। ওর কপালে আরও বেশি দুঃখ আছে। কেন মারলেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কেন মারছি সেটা তাকেই জিজ্ঞেস করেন।

এ বিষয়ে ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) ফুয়াদ রুহানী জানান, খবর পেয়ে আহত ইউপি চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদ হারুনকে তার বাসা থেকে উদ্ধার করে জিপে করে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসি। সেখান থেকে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হলে তাকে আমরা অ্যাম্বুলেন্সে বড়বাড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দেই।

প্রসঙ্গত, গেল ৩১ শে মার্চ হয়ে যাওয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক পান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি  আতাউর রহমান। স্বতন্ত্র প্রার্থী হন সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী সরকার। নির্বাচনে গোলাম রাব্বানী সরকার নির্বাচিত হন।

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়