• ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

ধানে চাল নেই, কৃষকের স্বপ্নভঙ্গ

কলমাকান্দা সংবাদদাতা
|  ১৪ এপ্রিল ২০১৯, ১৪:৪৯ | আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০১৯, ১৪:৫৯
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় বিভিন্ন হাওরের বোরো ধানক্ষেতে কোল্ড ইনজুরি রোগের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। কিটনাশক প্রয়োগ করেও কোনও লাভ না হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। কৃষকদের অভিযোগ অজ্ঞাত রোগ সম্পর্কে কৃষি বিভাগ প্রতিরোধ ও সচেতনতা বিষয়ে এলাকায় কোনও ধরনের মাইকিং বা কৃষকদেরকে নিয়ে কাউন্সিলিং দৃশ্যমান হয়নি।

whirpool
গতকাল শনিবার উপজেলার সবচেয়ে বড় হাওর গোড়াডোবা, সোনাডুবি, মেদিকান্দাসহ আটটি ইউনিয়নের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেক জমির ধানের শিষ সাদা হয়ে গেছে। শিষের গোড়ায় প্রথমে এ রোগ দেখা দিয়ে ক্রমান্বয়ে তা পুরো শিষকে গ্রাস করে। এ অবস্থায় কৃষকেরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আটটি ইউনিয়নে ২১ হাজার তিনশ’ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ব্রি-২৮, সাত হাজার ৯শ ৬৫ হেক্টর ও ব্রি-২৯, ১০হাজার চারশ’ ২৫ হেক্টরসহ অন্যান্য প্রজাতির নয়শ’ ৩০ হেক্টর জমি চাষাবাদ করা হয়। হঠাৎ করে প্রতিকূল আবহাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন হাওরে এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এ রোগের প্রভাবে ক্ষেতের ধানের শিষ আস্তে আস্তে সাদা হয়ে শুকিয়ে ধান চিটা হয়ে যাচ্ছে।

উপজেলার বাসাউড়া গ্রামের কৃষক অমল কান্তি বিশ্বাস বলেন, গাছ দেখে মনে হইছিল ফলন ভালো হইবে। গত বছর একই সময়ে আরা(৩৮৪ শতক) জমিতে ব্রি-২৮ প্রজাতির ধান আবাদ করেছিলাম। নেক বাস্টার রোগে দুই আরা (২৫৬ শতক) জমির সব ধান নষ্ট হয়েছিল। এবার শুধু নিজেদের খাবারের জন্য এক আরা জমিতে ব্রি-২৮ ধান আবাদ করেছি। এবারও জমিতে রোগ দেখা দিয়েছে।

একই রকম মন্তব্য করে উপজেলার বিশরপাশা গ্রামের আলী আকবর, রাজাপুর গ্রামের সেতু মিয়া, বড়ইউন্দ গ্রামের পলাশ সরকার ও বড়খাপন গ্রামের মজিবুর রহমান জানান, তারা গত বছরের ফসলহানির পর চলতি বছর ধার-দেনা করে বোরো চাষাবাদ করেছেন। কিন্তু এ বছরও কোল্ড ইনজুরি ও নেক ব্লাস্ট রোগের প্রাদুর্ভাব তারা চরম দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। 

এ ব্যাপারে বড়খাপন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাদিছুজ্জামান হাদিস বলেন, তার এলাকায় এ রোগ ব্যাপকভাবে দেখা দিয়েছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী খেতে কীটনাশক দিয়েও কোনও লাভ না হওয়ায় কৃষকেরা চরম হতাশায় রয়েছেন। জমিতে ধানের শিষ থাকলেও তাতে কোনও ধান নেই।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারুক আহম্মেদ বলেন, আবহাওয়া প্রতিকূল হওয়ায় কোল্ড ইনজুরি রোগ দেখা দিয়েছে। তবে এ রোগের করণীয় সম্পর্কে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে ঘুরে ঘুরে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন। এ বছর কৃষক বন্যা আতঙ্কে বীজ রোপণের সময় হওয়ার আগেই তড়িঘড়ি করে ক্ষেতে ধান বীজ রোপণ করায় ধান গাছগুলো প্রচণ্ড ঠাণ্ডার সময় থোড় হওয়ায় এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে আগে তা বুঝা যায়নি, এখন ফসল পাকার সময় ধরা পড়েছে অধিকাংশ ধানে চাল নেই চিটা।

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়